চাপের মুখে বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরল মোদি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চাপের মুখে বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরল মোদি

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৫, ২০১৯

চাপের মুখে বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরল মোদি

ঘরে-বাইরে চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ১৬ দেশের প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (আরসিইপি) থেকে আপাতত সরল ভারত।

দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, শেষ মুহূর্তে এভাবে পিছিয়ে আসার কারণ বোঝাতে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘তোমার দেখা সব থেকে দরিদ্র, দুর্বল মানুষটির মুখ মনে করো। নিজেকে জিজ্ঞাসা করো, যে পদক্ষেপ করতে চলেছ, তা আদৌ তার কোনও কাজে লাগবে কি-না।’

তিনি বলেন, চাষি, ছোট ব্যবসায়ী, দেশীয় শিল্প, ক্রেতা, কর্মী— এদের সকলের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই আপাতত এই মুক্ত বাণিজ্যের মঞ্চে শামিল হল না দিল্লি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বিজয় ঠাকুর সিংহের দাবি, এই মঞ্চে যোগ দেওয়ার শর্ত হিসেবে ভারত যে সব বিষয় তুলে ধরেছিল, তার সমাধান এখনও অধরা।

বিরোধীদের দাবি, তাদের চাপেই পিছু হটতে হয়েছে কেন্দ্রকে।

কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালার টুইট, ‘কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর তীব্র বিরোধিতাই চাষি, গোয়ালা... ছোট ব্যবসায়ীদের স্বার্থ শিকেয় তোলা এই চুক্তি থেকে সরতে বাধ্য করেছে।’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অবশ্য বলছেন, এ নিয়ে মোদি সরকারের উপরে বেশি চাপ ছিল ঘরের মধ্যেই।

অবাধ বাণিজ্যের দরজা খোলার প্রতিবাদে এ দিনও সারা দেশে বিক্ষোভ দেখায় সর্বভারতীয় কৃষি সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি।

কমিটির নেতা হান্নান মোল্লার অভিযোগ, বর্তমান পরিকাঠামো আর সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দেশের চাষিদের বিদেশি পণ্যের সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে ওঠা শক্ত। বিরোধী নেতারাও বলছিলেন, চুক্তি হলে সস্তার বিদেশি পণ্যে ছেয়ে যাবে দেশ।

এই পরিস্থিতিতে এই চুক্তিতে শামিল না-হওয়ার কথা জানাল কেন্দ্র।

টুইটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দাবি, ভারতের স্বার্থ রক্ষিত না-হলে, চুক্তিতে শামিল না-হওয়ার অবস্থানে অনড় থাকলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার জন্য মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে জাগরণ মঞ্চও।

কিন্তু অনেকে বলছেন, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার বিধানসভা ভোটে গ্রামের ক্ষোভের আঁচ টের পেয়েছে বিজেপি। তাই নতুন করে চাষিদের চটাতে চায়নি তারা। তার উপরে অর্থনীতির যা দশা, তাতে সঙ্ঘ ও বিরোধীদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করাও সম্ভব হয়নি।

এসবি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও