‘পাক-সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের ভারতীয় দাবি মিথ্যা’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘পাক-সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের ভারতীয় দাবি মিথ্যা’

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

‘পাক-সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের ভারতীয় দাবি মিথ্যা’

ভারতীয় বাহিনীর এমন মিথ্যা দাবি পেশাদার সামরিকনীতি পরিপন্থী: পাক সেনাবাহিনীর মুখপাত্র

আজাদ কাশ্মীরে পাকিস্তানের তিনটি ক্যাম্প ধ্বংস করার দাবি করেছেন ভারতীয় সেনা প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। তার এই দাবিকে মিথ্যা ও হতাশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআরের প্রধান ও মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গাফুর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সেনাপ্রধান একটি দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত আছেন। তার কাছ থেকে আজাদ কাশ্মীরে তিনটি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের এমন দাবি হতাশাব্যঞ্জক। কারণ সেখানে ধ্বংস করার জন্য কোন ক্যাম্পই নেই।’   

আসিফ গফুর বলেন, ‘ভারতীয় দূতাবাসকে আহ্বান করছি, যেকোনো বিদেশি কূটনীতিক এবং মিডিয়া প্রতিনিধি সঙ্গে নিয়ে দাবীকৃত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ দেখান।’

তিনি বলেন, পুলওয়ামা দুর্ঘটনার পর থেকে ভারতের সামরিক নেতৃত্ব সবসময় মিথ্যা দাবি করে আসছে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এমন মিথ্যা দাবি আভ্যন্তরীণ স্বার্থ হাসিলের জন্য করা হচ্ছে। এসব পেশাদার সামরিক চরিত্রের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য যে, ভারত আজাদ কাশ্মীরের নীলুম উপত্যকায় কথিত সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করেছে, যা প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডন নিউজের সংবাদ মতে, নিয়ন্ত্রণ রেখায় সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিকে ধ্বংস করা সম্পর্কিত ভারতীয় মিডিয়ার সংবাদগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা ভারতকে দাবীকৃত ঘাঁটিগুলো সম্পর্কে তথ্য দিতে বলে।

ওই বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য রাষ্ট্রের কূটনীতিককে ভারতের মিথ্যা উন্মোচনের জন্য ওই জায়গাগুলোতে সফর করানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে পাকিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ভারতের হামলার ঘটনাগুলোকে অধিকৃত কাশ্মীরে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জুলুম-নির্যাতন থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরাতে ভারতের একটি প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে বলেন, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ধ্বংস করার ভারতীয় দাবি বালাকোটে হামলার দাবির মতো মিথ্যা।

ফারুক হায়দার বলেন, আমরা বারবার বলেছি যে, আজাদ কাশ্মীরে যে কারো আসার অনুমতি রয়েছে যেখানে ভারত অধিকৃত কাশ্মীর বিদেশি মিডিয়া ও পর্যবেক্ষকদের জন্য সবসময় নিষিদ্ধ এলাকা ছিল। 

উল্লেখ্য যে, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর নির্বিচার গোলা নিক্ষেপের ফলে পাক বাহিনীর এক জওয়ানসহ ছয় বেসামরিক শহিদ হয়েছেন।  

এরপর আইএসপিআর প্রধান জেনারেল আসিফ গফুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে বিবৃতিতে জানান, ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক জওয়ান নিহত ও আহত হয়েছেন আরও দুইজন। 

তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পর জবাবি হামলায় ভারতের চেকপোস্টগুলোকে লক্ষ্য বানায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এতে ভারতীয় বাহিনীর দুটি বাঙ্কার ধ্বংস হয় এবং ৯ জওয়ান নিহত ও আরও ৯ জন আহত হয়।

আইএসপিআর আরও জানায়, পাকিস্তানের সফল জবাবি হামলার পর সাদা পতাকা উত্তোলন করে ভারতীয় বাহিনী। তখন তাদেরকে নিহতদের লাশ ও আহতদের উঠিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।  

আইএসপিআরের ওই টুইটে আরও বলা হয়, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবশ্যই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের আগে চিন্তা করা উচিত এবং নিরীহ বেসামরিক মানুষদের টার্গেট করা থেকে এড়িয়ে সামরিক নীতিমালার সম্মান করা উচিত।’

এমএফ/

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও