বংশপরম্পরার রাজনীতিই কংগ্রেসকে ভোটে ডুবিয়েছে!

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

বংশপরম্পরার রাজনীতিই কংগ্রেসকে ভোটে ডুবিয়েছে!

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৫, ২০১৯

বংশপরম্পরার রাজনীতিই কংগ্রেসকে ভোটে ডুবিয়েছে!

ভারতে কংগ্রেসের বংশপরম্পরার রাজনীতিই লোকসভা ও কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির অন্যতম কারণ। এমনটাই জানিয়েছে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত দলটির তদন্ত কমিটি।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, বাবা বা দাদা বহুদিনের পুরনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মন্ত্রী বা দলের প্রভাবশালী নেতা। তাই যথাক্রমে ছেলে বা ভাইকে নির্বাচনে কংগ্রেসের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং যেনতেনভাবে তাদের জয়ী করে আনার চেষ্টা চলছে, তা ভোটাররা মেনে নিতে পারেননি। বংশপরম্পরার রাজনীতিতেই বীতস্পৃহা এসে গেছে ভোটারদের। আর সেটাই লোকসভা ও কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের ভরাডুবির অন্যতম প্রধান কারণ।

মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা–এ দুই রাজ্যে শিগগিরই বিধানসভা ভোট হতে চলেছে। এর জন্য জোর কদমে কংগ্রেসের তোড়জোড় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

কংগ্রেসের তথ্য অনুসন্ধান কমিটি এও বলেছে, এসব থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার বিধানসভা ভোটে প্রার্থী বাছাই করতে হবে। আগামী মাসে যে কয়েকটি উপনির্বাচন রয়েছে, সেখানেও এই শিক্ষাকে মনে রাখতে হবে।

চার মাস আগে লোকসভা নির্বাচনে কর্নাটকে পর্যুদস্ত হতে হয়েছিল কংগ্রেসকে। রাজ্যের ২৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে মাত্র একটিতে জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস। আর এক বছর আগের বিধানসভা নির্বাচনেও কর্নাটকে ধরাশায়ী হয়েছিল কংগ্রেস।

কংগ্রেসের তথ্য অনুসন্ধান কমিটির রিপোর্ট বলছে, ২০১৮ সালে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থীতালিকায় এমন অনেক নাম ছিল, যারা বিধায়ক বা সাংসদদের ছেলেমেয়ে বা তাদের খুব ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার ছেলে যতীন্দ্র তার বাবার নির্বাচন কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু সিদ্দারামাইয়া যে দু’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তার একটিতে হেরে গিয়েছিলেন।

প্রাক্তন মন্ত্রী টি বি জয়চন্দ্র ও তার ছেলে দু’জনেই ধরাশায়ী হয়েছিলেন। মে মাসে লোকসভা ভোটে হেরে গিয়েছিলেন প্রাক্তন সাংসদ মল্লিকার্জুন খড়্গে। যদিও তার ছেলে প্রিয়ঙ্ক গত বছর কংগ্রেসের মনোনয়নে কর্নাটকে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।

কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দীনেশ গুন্ডু রাও স্বীকার করেছেন, “কারও আত্মীয় হওয়াটাই যদি দলের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান যোগ্যতা হয়, তা হলে সেটা ভোটাররা মেনে নিতে চাচ্ছেন না।”

রাও এটাও জানিয়েছেন, লোকসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের দায় কাঁধে নিয়ে রাহুল গান্ধী যখন কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তখন কর্নাটকে দলের প্রায় ৯৯ শতাংশ নেতা-কর্মীই তার কাছে স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন।

এমএফ/

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও