মার্কিন সিনেটরকে কাশ্মীর যেতে দিল না ভারত

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

মার্কিন সিনেটরকে কাশ্মীর যেতে দিল না ভারত

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৫, ২০১৯

মার্কিন সিনেটরকে কাশ্মীর যেতে দিল না ভারত

অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থা জানতে নয়াদিল্লি সফরে আসেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস হোলেন। কিন্তু তাকে কাশ্মীর উপত্যকায় যেতে দেয়নি ভারত। 

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, মার্কিন সিনেটর ক্রিস হোলেন বলেছেন, চলতি সপ্তাহে ভারত সফরে তাকে অধিকৃত কাশ্মীরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।  

ক্রিস হোলেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের পক্ষ থেকে উপত্যকায় জারিকৃত কারফিউ এবং সব ধরণের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্নের তৃতীয় মাস শুরু হয়েছে। তিনি নিজে অধিকৃত কাশ্মীরে গিয়ে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে চাচ্ছিলেন।

নয়াদিল্লিতে এক সাক্ষাৎকারে আমেরিকার এই সিনেটর বলেন, মানুষ নিজ চোখে অধিকৃত কাশ্মীরের অবস্থা দেখতে চায়। ভারত সরকার যদি অধিকৃত কাশ্মীরে কিছু না-ই লুকিয়ে থাকে, তাহলে সেখানে যেতে লোকদেরকে বাঁধা দেওয়ার কোন কারণ থাকে না।  

তিনি আরও বলেন, ভারত এবং আমেরিকা পারস্পরিক অংশীদারি মূল্যবোধের উপর অনেক কথা বলে। তাই এই ইস্যুতে ভারতের স্বচ্ছতার পরিচয় দেওয়া জরুরী।

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্কিন সিনেটরকে অধিকৃত কাশ্মীরে যেতে অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

এরআগে, গত সেপ্টেম্বরে আমেরিকা ভারতকে অধিকৃত কাশ্মীরে আরোপিত সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিতে গুরুত্বারোপ করে এবং সেইসাথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে মধ্যস্ততার প্রস্তাব পেশ করা হয়।  

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এলিস ওয়েলস বলেছেন, আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়ে ভারতের অবিলম্ব পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষা করছি। 

এছাড়া, আগস্টে মার্কিন নারী কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর অধিকৃত কাশ্মীরে কঠোরতা হ্রাস করার এবং অবিলম্বে যোগাযোগ মাধ্যম চালু করে দেওয়ার আহবান জানান।

কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থা
গত ৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদির সরকার ভারতীয় আইনে কাশ্মীরকে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে পুরোপুরিভাবে ভারতের সাথে যুক্ত করে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে কাশ্মীরি জনগণকে দমন করতে ভারত সরকার প্রায় দেড় লাখ অতিরিক্ত সৈন্য সেখানে পাঠিয়ে কিছু এলাকায় কারফিউ আর অন্য এলাকায় লকডাউন করে।   

অধিকৃত কাশ্মীরে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ভারত সরকার ইন্টারনেট, সকল যোগাযোগ মাধ্যম এমনকি টেলিফোন লাইনও বিচ্ছিন্ন করে দেয়। 

এছাড়া অধিকৃত কাশ্মীরে সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতাদেরসহ কয়েক হাজার যুবককেও গ্রেফতার করা হয়।

দুই মাস পেরিয়ে যাওয়া সত্বেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উপত্যকাটিতে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এর মধ্য দিয়েই কাশ্মীরি যুবকেরা প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। প্রতিদিন বিক্ষোভও প্রদর্শন করছে।

অধিকৃত কাশ্মীরের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এমএফ/

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও