জাতিসংঘে ইমরানের ভাষণ, কাশ্মীর সংকটে কী প্রভাব পড়বে?

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

জাতিসংঘে ইমরানের ভাষণ, কাশ্মীর সংকটে কী প্রভাব পড়বে?

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯

জাতিসংঘে ইমরানের ভাষণ, কাশ্মীর সংকটে কী প্রভাব পড়বে?

গত শুক্রবার জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাষণ সারাবিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করার সাথে কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। যেমন–এই ভাষণের পর এখন কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ উন্নতিগুলো আশা করা যায়? কাশ্মীর ইস্যুতে পশ্চিমা দুনিয়াসহ বিশ্বের অপরাপর রাষ্ট্রগুলোর নীরবতা কি ভাঙ্গবে এবার? কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-প্রধানমন্ত্রী কি কার্যকরভাবে লড়তে পেরেছেন? তার এই ভাষণে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই বা কোন কোন পরিবর্তন দেখা যেতে পারে? এছাড়া ইমরান খানের ভাষণে কোথায় অভাব আর কোথায় অতিরঞ্জিত রয়েছে?      

এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পাকিস্তানের সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের মতামত নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডন নিউজে উর্দুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ পরিবর্তনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

এক.
মুবাশশির যায়েদী। ডন নিউজের ইনভেস্টিগেশন এডিটর এবং পাকিস্তানের জনপ্রিয় টিভি শো ‘যারা হাট কে’র আয়োজক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাষণ ছিল প্রাণবন্ত। বিগত বছরগুলোতে এই প্রথম কোন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী এমন প্রভাব সৃষ্টিকারী ভাষণ দিলেন। কিন্তু এরসাথে আমাদেরকে এটাও দেখতে হবে যে, এই ভাষণের পর কোন পরিবর্তন কি আসবে? আমি মনে করি না যে এতে ভু-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

ইমরান খানের ভাষণের সবচে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, যখন পুরো বিশ্ব নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে তখন পাকিস্তান একমাত্র দেশ, যে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাশ্মীর নিয়ে কথা বলে যাচ্ছে। 

পাক-প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ কাশ্মীরিদের বার্তা দিয়েছে যে, তারা একা নয়। বরং এই বিশ্বে আরও কেউ আছে যে তাদের জন্য আওয়াজ তুলছে। কার্যতভাবে এই ভাষণের পর না ৩৭০ ধারা শেষ হবে আর না স্বাধীন হবে কাশ্মীর। তবু এই ভাষণে কাশ্মীরিদের এটুকু প্রাণশক্তি অর্জিত হবে যে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর যদি কোন যুদ্ধ-জেহাদ শুরু হয় তাহলে তাদের সঙ্গ দেওয়ার জন্য পৃথিবীতে একটি দেশ অথবা একটি জাতি রয়েছে।     

কাশ্মীরে একদিন না একদিন নিষেধাজ্ঞা উঠবেই। এবং যখন এই নিষেধাজ্ঞা উঠবে, তখন কাশ্মীরের লাভা বিস্ফোরিত হবে এবং প্রতিরোধ শুরু হবে। এখন এটা পাকিস্তানে উপর যে, সে কীভাবে এই প্রতিরোধকে সমর্থন করে অথবা বিশ্বকে কীভাবে বিশ্বাস করাতে পারে যে, এই প্রতিরোধ স্বাধীনতার জন্য, সন্ত্রাসবাদের জন্য নয়।

ভবিষ্যতে যখনই কাশ্মীরে কোন প্রকার সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা হবে, ভারত কোনো না কোনোভাবে এর দায় পাকিস্তানের উপর দিতে পূর্ণ চেষ্টা করবে। সুতরাং পাকিস্তানের জন্য আবশ্যক, সে বিশ্ববাসীর সামনে এই কথা উপস্থাপন করবে যে, কাশ্মীরে যেকোনো সশস্ত্র লড়াই শুরু হলে এর জন্য দায়ী স্বয়ং ভারত; পাকিস্তান নয়।

দুই.
ড. আসিফ শাহেদ। ২০ বছরেরও অধিককাল ধরে উর্দু ভাষার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কাজ করা একজন বিদগ্ধ সাংবাদিক। বর্তমানে পাকিস্তানের বেসরকারি টিভি চ্যানেল জিএনএন নিউজে ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

আসিফ শাহেদ বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের নেতারা বক্তৃতায় নিজেদের দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। যদিও এটা আবশ্যক নয় যে এই বর্ণনা শুনে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর কখনো হয়ওনি এমনটা।

অতীতে ফিলিস্তিন-ইসরাইল বিবাদে ইয়াসির আরাফাত জোরালো ভাষণ দিয়েছিলেন। ভেনিজুয়েলার হুগো শাভেজ আমেরিকার যুলুম-নির্যাতনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। ফিদেল কাস্ত্রোও ওই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ ভাষণ দিয়েছিলেন। তথাপি এই সকল ভাষণ কখনো ফলপ্রসূ সাব্যস্ত হয়নি।

ইমরান খানও নিজের ভাষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে কাশ্মীর এবং সেখানে সংঘটিত নৃশংসতাকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছেন।  

এই ভাষণের ফলে ইমরান খান আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বেশ উপকৃত হবেন। আর তিনি বিশ্বমঞ্চেও নিজের সমর্থকদের উপেক্ষা করেননি। সম্ভাবনা আছে যে, এই ভাষণের পর মাওলানা ফজলুর রহমান সরকারের বিরুদ্ধে নিজ দলের পদযাত্রা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হবেন।

ইমরান খান বিশ্বের সামনে ইসলামফোবিয়া নিয়ে স্পষ্ট কথা বলেছেন, এবং ভাষণে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর শ্লোগানও দিয়েছেন। এর ফলে খুব সম্ভব ধর্মীয় দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হওয়ার কথা ছিল, তা জনগণের পক্ষ থেকে তেমন সমর্থন পাবে না।   

আমি এখন কমপক্ষে আগামী দুইমাস কোনো প্রকারের সরকারবিরোধী আন্দোলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না।

আসলে ইমরান খান জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে একটি নতুন লাইফ লাইন পেয়ে গেছেন। এই ভাষণের পর ঘরোয়া রাজনীতিতে তার উপর যে চাপ ছিল, সেটা এখন প্রায় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু চাপ থেকে মুক্তি সীমিত সময়ের জন্য হয়ে থাকে।

সুতরাং সরকারকে সর্বাবস্থায় নিজের করণীয় ঠিক করতেই হবে। তবু বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে ক্ষমতাসীন দলকে দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়ে নিজেদের কথা মানাতে এবং সরকারের উপর চাপ বাড়াতে চাচ্ছিল, সেসব থেকে পাক-প্রধানমন্ত্রী কিছু সময়ের জন্য বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছেন। কারণ, তার ভোটার, তার প্রতি অনুরাগী ও সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনা কিছুটা হলেও পরিবর্তন হয়েছে।

ইমরান খান কাশ্মীর ইস্যুটিতে বড় সাহসিকতার সাথে লড়েছেন। কিন্তু ইতিহাস যদি পর্যালোচনা করা হয়, তাহলে ইয়াসির আরাফাতও একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমন সংকট নিয়ে খুব জোরালো ভাষণ দিয়েছিলেন। তার ভাষণও খুব প্রশংসিত হয়েছিল এবং করতালি বেজেছিল। কিন্তু এরপর কি কখনও ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাত নিয়ে কোন সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল? কোন দেশের অবস্থানে কি কোন পরিবর্তন এসেছিল? সমর্থনের ধরণ কি আজো কখনো পরিবর্তন হয়েছে? অথবা কোন প্রকারের উন্নতি দৃষ্টিগোচর হয়েছে?

তাই আমি মনে করি না যে জাতিসংঘের মত এমন কোন ফোরামে ভাষণ দেওয়ার মাধ্যমে কোন বড় পরিবর্তন সাধিত হবে। তবে আমি আবারও বলবো, কাশ্মীর সংকট যথাযথভাবে বিশ্বের সামনে পেশ করা হয়েছে।

ইমরান খান তার ভাষণে আফগান ইস্যুতেও আলোচনা করেছেন। যা থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে, সরকারের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। আর আমি এটা বুঝি যে, পাকিস্তান এখন কাশ্মীর সমস্যা সমধানের জন্য আফগান শান্তি আলোচনায় নিজের ভুমিকার ফায়দা উঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এখন আফগানিস্তানে মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সাহায্য তখনই পাবে যখন ওয়াশিংটন পাক-ভারতের মধ্যে বিবাদের কারণ হয়ে ওঠা কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদে কিছু ত্রান সরবরাহ করবে।       

তিন.
মুহাম্মাদ নাসির যায়েদী। পাকিস্তানের একজন সিনিয়র সাংবাদিক। বর্তমানে দেশটির বেসরকারি টিভি চ্যানেল ৯২ নিউজের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।

নাসির যায়েদী বলেন, সত্যি বলতে আমি আমার ৪০ বছরের জীবনে এমন ভাষণ শুনিনি। আমি মঞ্চে স্লিপ চেপে ধরা শাসক দেখেছি, যে না চিন্তা করতে জানে আর না বলতে পারে।  

কাশ্মীর কবে স্বাধীন হবে, কাশ্মীরিদের স্বাধীন ইচ্ছাধিকার কবে অর্জিত হবে, কিছুই জানা নেই। কিন্তু ইমরান খান কাশ্মীরিদের জন্য সবচে বেশি কণ্ঠ উঁচু করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে শানদারভাবে কাশ্মীরের মামলা লড়েছেন। পাকিস্তানের জনগণ তাকে সবসময়ের জন্য মনে রাখবে।

পাকিস্তানের ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে দেখা যাবে আমেরিকার সামনে কেউ এই ধরণের শব্দও ব্যবহার করেনি। আমেরিকা বর্তমানে সাদা আধিপত্যবাদের সমর্থকদের হাতে রয়েছে। ট্রাম্প নিজেই একজন বর্ণবাদী মস্তিষ্কের বাহক।

সে নিজের স্বার্থের জন্য সৌদি শাহযাদা এবং ইসরাইলি জবরদখলকারীদের গুরুতর অপরাধগুলো পর্যন্ত এড়িয়ে যায়। ট্রাম্প নিজের কথার উপর অটল থাকে না। তার কাছে নিজের জাতীয়তাবাদী কার্ডই প্রিয়। এটা বলা ভুল হবে না যে, ট্রাম্প একজন ঠোঁটকাটা নেতা। তাই ইমরান খান তার মত করেই নিজের জবাব দিয়েছেন।

ইমরান খান পাশ্চাত্যের মানসিকতা সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত। তিনি এমন বিষয়গুলোতেই পুরোপুরি আলোচনা করেছেন, যেগুলোকে পশ্চিমারা যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমারা মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে বিশ্বে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে থাকে। তাই ইমরান খান কাশ্মীরে মানবাধিকার, স্বাধীন ইচ্ছাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে লঙ্ঘনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা পশ্চিমা চিন্তাভাবনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। 

এই ভাষণের পর পশ্চিমা বিশ্ব ভেবে-চিন্তে নিজেদের কথা বলবে এবং পাকিস্তানকে হালকাভাবে নিবে না।

চার.
ইমরান ইয়াকুব। তিনি পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে নিউজ পরিচালক এবং কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ছিলেন। বর্তমানেও একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাষণ যথেষ্ট প্রভাব সৃষ্টিকারী ছিল। পুরো বক্তব্যের কোথাও শ্রোতাদের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। উনি প্রথমে আলোচ্যসূচি তৈরি করেন, ধন্যবাদ জানান। এরপর বিষয়বস্তুর দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। যদি তিনি সরাসরি কাশ্মীর ইস্যুতে আসতেন তাহলে এতটা মনোযোগ পেতেন না।    

তিনি তার ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনকেও বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করেন, যেখানে পাশ্চাত্যের ভূমিকাকেও পুরোপুরি তুলে ধরেন। তিনি পশ্চিমা বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দেন যে, আপনাদের মত বিনিয়োগকারীদের জন্যই জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে।

এরপর তিনি ইসলামফোবিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বিশ্বকে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ এবং আত্মঘাতি হামলাকারীদের সাথে ইসলামের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং নাইন ইলেভেনের (৯/১১) ঘটনার পর ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদ’ পরিভাষাটির সূচনা হয়। এর আগে শ্রীলংকা এবং জাপানে হওয়া আত্মঘাতি হামলায় কি মুসলমানদের হাত ছিল? 

শ্রীলংকায় আত্মঘাতি হামলা তামিল টাইগাররা করতো, কিন্তু কেউ তাদেরকে হিন্দুধর্মের সাথে সম্পর্কযুক্ত করেনি এবং এটাই ঠিক ছিল।

ইমরান খান পাশ্চাত্যসহ বিশ্বের সকল শক্তিকে বলেন, ৮০ লক্ষ কাশ্মীরিদের বিষয়ে আপনারা চুপ, কিন্তু এভাবে যদি স্রেফ ৪ হাজার ইয়াহুদি অবরুদ্ধ হতো, তাহলে কি ইয়াহুদি সম্প্রদায় এভাবে নীরব দর্শক হতো? এমনকি ইংল্যান্ডে পশুদেরও যদি খাঁচায় রাখা হয় তাহলে চিৎকার-ডাকাডাকি শুরু হয়ে যাবে। আপনাদের কাছে পশুদের অধিকার সম্মানিত হতে পারে, কিন্তু মুসলমানদের অধিকারের পদদলন কেন আপনারা দেখতে পান না?

যদি তার আমেরিকা সফরের কথা বলা হয় তাহলে তিনি এই সফরে বিশ্বের বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আমি মনে করি, তিনি যদি এই সফর আরও ৫০ দিন আগে থেকে শুরু করতেন, তাহলে তার কথার মূল্য এরচেয়েও বেশি হতো।

যদি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই কাশ্মীরে চলমান নৃশংসতার কথা তুলে ধরতেন, তাহলে সম্ভবত অন্যান্য দেশের নেতারাও কাশ্মীর ইস্যুতে বিস্তারিত কথা বলতেন।

যদি আমাকে প্রশ্ন করা হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর কাশ্মীরে উন্নতির সম্ভাবনা কতটুক? তাহলে ক্ষমা চেয়ে আমি বলবো, তেমন বেশি কোন সম্ভাবনা আমি দেখতে পাচ্ছি না। কারণ, আমেরিকা এবং ভারত প্রথমে নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে।  

আমি মনে করি, আমেরিকা পাকিস্তানের সামনে শুধু একটি ললিপপ ঝুলিয়ে দিয়েছে, যেনো পাকিস্তান আমেরিকাকে আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।

কাশ্মীর ইস্যুতে এলিস ওয়েলস ভারতীয় কর্মকর্তাদেরকে তাগিদ দিয়েছেন যেন তারা আভ্যন্তরীণ পর্যায়ে নিজেদের লোকদের সাথে কথা বলে। কিন্তু সেখানে পাকিস্তানের কোন উল্লেখই নেই।

অতএব, এটা বলা যায় যে আমেরিকা কাশ্মীরের জন্য কৃত্রিম পদক্ষেপ নিচ্ছে, কেননা কার্যতভাবে আমেরিকা অথবা পাশ্চাত্য কাউকেই কাশ্মীরের জন্য কোন প্রকারের নিরঙ্কুশ পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

ডন নিউজ উর্দু থেকে আয়াজ আহমাদ লুগারি ও ফাহিম প্যাটেলের প্রতিবেদন ভাষান্তর করেছেন মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ।

এমএফ/

 

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: আরও পড়ুন

আরও