সুচিকে যে আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

সুচিকে যে আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

সুচিকে যে আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি

রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিকতার চোখ দিয়ে তাকাতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর ইয়াংহি লি।

মিয়ানমারে মানবাধিকারের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ম্যাডাম স্টেট কাউন্সিলর আপনার চোখ খুলুন। শুনুন, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করুন (রোহিঙ্গাদের কথা)। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগে আপনার নৈতিক কর্তৃত্বকে ব্যবহার করুন।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে এসব কথা বলেন তিনি। সেইসঙ্গে সংস্থাটিকে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার সম্পর্কে অবহিত করেন ইয়াংহি লি।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক। প্রায় চার বছর আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সুচির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) কাছে এমনটা প্রত্যাশা করা হয়নি।

ইয়াংহি লি বলেন, দশকের পর দশক মুক্ত ও গণতান্ত্রিক মিয়ানমারের জন্য একটানা লড়াই করেছেন অং সান সুচি। তার কাছে জানতে চাই, তার দেশে এখন যা ঘটছে, তিনি কি সত্যিকারভাবে আজকের এই অবস্থাকে দেখতে চেয়েছেন?

জাতিসংঘের এ বিশেষ প্রতিনিধি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানোর পরও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নিষ্পেষণের যে ধারা তা ভেঙে দিতে কিছুই করেনি মিয়ানমার। এখনও রাখাইনে যেসব রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন তারা সেই একই করুণ পরিণতির শিকার, যেমনটা ২০১৭ সালের আগস্টে তাদের সঙ্গে ঘটেছিল।

তিনি বলেন, তাদের নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। স্বীকৃতি নেই। নিয়মিত সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। অবাধে চলাচল করতে পারে না। খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকা নির্বাহ ও চাকরির ক্ষেত্রে তাদের কোনো সুবিধা নেই বললেই চলে।

ইয়াংহি লি বলেন, মিয়ানমার দাবি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সব করেছে তারা এবং প্রত্যাবর্তনে বিলম্বের জন্য তারা বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে দায়ী করে। কিন্তু আমি যে তথ্য পেয়েছি তাতে আমাকে বিশ্বাস করতে হয় যে, আসল সত্য এর উল্টো।

উল্লেখ্য, এক সময় মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তুমুল আন্দোলন করেন সুচি। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় আসার পর ২০১৭ সালে রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। বর্বর ওই অভিযানের শিকার হয়ে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

তাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সই করলেও নানাভাবে তা এড়িয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার। শুধু তাই নয়, রাখাইনে এখনও যে রোহিঙ্গারা রয়েছেন তাদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং তাদের মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

আরপি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও