পাক সীমান্তে দুই মাস ধরে সেনা মোতায়েন করছে ভারত

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

পাক সীমান্তে দুই মাস ধরে সেনা মোতায়েন করছে ভারত

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০১৯

পাক সীমান্তে দুই মাস ধরে সেনা মোতায়েন করছে ভারত

একদিকে কড়া নিষেধাজ্ঞার কবলে কাশ্মীর। অন্যদিকে কুপওয়ারায় নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে বিপুল সংখ্যক সেনা সমাবেশ করেছে ভারত। কম্যান্ডো বাহিনীও মোতায়েন হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দিল্লি যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে উপযুক্ত জবাব দেবে ইসলামাবাদ।

সীমান্তের টাংধর ও কেরন সেক্টরে মোতায়েন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলির গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি কুপওয়ারার চৌকিবাল। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই মাস ধরে চৌকিবাল থেকে সেনাবাহিনীর গাড়ির দীর্ঘ কনভয় যেতে দেখা গেয়েছে টাংধর ও কেরনের দিকে। চৌকিবালের বাসিন্দা ছাড়া অন্য কাউকে সেদিকে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না সেনাবাহিনী। এমনকি বাসিন্দাদের ওপরেও চলছে নজরদারি।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চৌকিবাল বাজারে মুদির দোকান আছে মাংতা চিচির। ফোনে তিনি বলেন, ‘‘দুই মাস ধরে কেবল সেনার কনভয় যেতে দেখছি। আগে সেনারা জিনিস কিনতে বাজারে আসতেন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে কেউ আসছেন না।’’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই পক্ষের গোলার লড়াই এখন প্রায় প্রাত্যহিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। চৌকিবালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোলন্দাজ বাহিনীর বিশাল ময়দান রয়েছে। সেখান থেকেই নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাক সেনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ভারতীয় সেনারা।

চৌকিবালের টুমনা গ্রামের বাসিন্দা আসাদ বাজাদ ফোনে বলেন, ‘‘গোলার শব্দে আমরা ঘুমোতে পারছি না।’’

বাজাদ জানান, বফর্স কামান আর গোলাবারুদ নিয়ে সেনাবাহিনীর অনেক গাড়িকে নিয়ন্ত্রণরেখার দিকে যেতে দেখা গেছে। তার কথায়, ‘‘জানি না কী হচ্ছে। গত দুই মাস ধরে আমাদের সেনাবাহিনীর ক্যান্টিনেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।’’

চৌকিবাল ও আশপাশের এলাকার অনেকেই সেনাবাহিনীর মালবাহক, মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসের অস্থায়ী কর্মী ও বাহিনীর অন্যান্য বিভাগের কাজকর্ম করেন। কিন্তু দুই মাস ধরে তাদের বাড়িতেই থাকতে নির্দেশ দিয়েছে সেনাবাহিনী।

টাংধরের বাসিন্দারা প্রায়ই নানা কাজে চৌকিবালে আসেন। বাজাদের মতে, সম্ভবত টাংধরেও চলাফেরার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তাই সেখানকার বাসিন্দারা আসতে পারছেন না।

কুপওয়ারার ডেপুটি কমিশনারের দফতর সূত্রে বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় উপত্যকার বাইরে থেকে প্যারা কমান্ডো বাহিনীর একাধিক ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপের কর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গি অনুপ্রবেশ রুখতেই কমান্ডোদের আনা হয়েছে বলে তাঁদের জানিয়েছে সেনা। সেনাবাহিনী এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নয়।

সম্প্রতি পরমাণু অস্ত্র প্রথমে ব্যবহার না করার নীতিতে পরিবর্তন না করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিশেষ সহকারী ফিরদৌস আশিক আওয়ান বলেন, ‘‘পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু করবে না। আন্তর্জাতিক আইনও ভাঙবে না। কিন্তু ভারত যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে সেটা আমরা শেষ করব। সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করতে সব পাকিস্তানি নাগরিক প্রস্তুত।’’

আরপি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও