কাশ্মীরে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

কাশ্মীরে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৯

কাশ্মীরে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ব্যাপক হয়েছে। যেখানে হাজার হাজার কাশ্মীরি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মূলত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের সৌরা এলাকায় এই বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ভারতীয় সেনাদের ছররা গুলি আর কাঁদানে গ্যাসের শেলে কয়েকজন আহত হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ৩৫-এ এবং ৩৭০ ধারা বিলোপের পর এই সৌরা এলাকাতেই প্রথম বড়সড় বিক্ষোভ হয়েছিল দুই সপ্তাহ আগে জুমার নামাজের পরই। গত শুক্রবারও নামাজের পর একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল হয়েছিল। তবে কোনো গণ্ডগোল হয়নি।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, নামাজের পর স্বাধীনতাপন্থী কিছু স্লোগান ওঠে। তার পর একটা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে তখন বেশ কয়েক হাজার মানুষ হাজির ছিলেন। গত সপ্তাহের মতোই এদিনের বিক্ষোভ মিছিলটাও নানা অলি গলি ঘুরে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই একটা জায়গায় গলির ভেতরে নিরাপত্তা বাহিনী ঢুকতে চেষ্টা করে। তখনই শুরু হয় সংঘর্ষ।

প্রসঙ্গত, নিরাপত্তাবাহিনী যাতে ভেতরে ঢুকতে না পারে, সেজন্য বড় রাস্তা থেকে যত গলি ভেতরে ঢুকেছে, সেই সব গলিগুলো খুঁড়ে আবার কোথাও বড় বড় ব্যারিকেড রেখে দিয়েছেন ওখানকার বাসিন্দারা। পুলিশের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারে না ওখানে। ভেতরে ঢুকতে গেলে পুলিশকে হেঁটেই ঢুকতে হবে।

আর সৌরাতে একটা ব্যবস্থা আছে, যখনই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে, তখনই সব বাড়ি থেকে টিন বাজানো শুরু হয়ে যায়। আর সব মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে সংঘর্ষে নেমে পড়ে।

গতকালও সেরকমই ঘটনা হলো। একটা গলি দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে একদল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর দলটা যেই ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করল, তখনই পাথর ছোড়া শুরু হল একদিকে, আর অন্যদিকে সব বাড়ি থেকে টিন বাজানো হতে লাগল। সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই গলিটার দিকে দৌড়তে লাগল।

একদিক থেকে পাথর ছোঁড়া হচ্ছে, অন্যদিক থেকে ছররা গুলি, কাঁদানে গ্যাস আর গোলমরিচের গোলা ছোঁড়া হচ্ছিল।

সংবাদদাতা বলছেন, আমি দুই জনকে ছররা গুলিতে আহত হতে দেখেছি। একজনের চোখ থেকে রক্ত বেরুচ্ছিল, আরেকজনের ঘাড়ে আঘাত লেগেছিল ছররা গুলির। সংঘর্ষটা প্রায় ঘণ্টা দুয়েক চলেছিল, বেলা চারটা পর্যন্ত।

তবে প্রশাসন নির্দিষ্ট করে আহতদের সংখ্যা জানায়নি। অন্যদিন সন্ধ্যার সময় একটা করে সংবাদ বুলেটিন প্রকাশ করে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। কিন্তু গত দুই দিন সেটা করা হয়নি।

উল্লেখ্য, দুই দিন ধরেই একটা পোস্টার লাগানো হয়েছিল শহরের নানা জায়গায় যে, শুক্রবার নামাজের পর বিক্ষোভ হবে। সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছিল শ্রীনগরে জাতিসংঘের কার্যালয়ের দিকে মিছিল করে যাওয়ার জন্য। হুরিয়াত কনফারেন্সের নামে ওই পোস্টার ছাপানো হয়।

কিন্তু জাতিসংঘের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার একটি বাদে সব রাস্তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সকাল থেকেই। সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তার কড়াকড়ি করা হয়েছিল। সেদিকে কোনও মিছিল যায়নি অবশ্য শেষ অবধি।

তবে ওই পোস্টার যদি নাও লাগানো হতো, তাহলেও এই সৌরা এলাকায় বিক্ষোভ হতই। এই অঞ্চলে শুক্রবার নামাজের পর বিক্ষোভ নিয়মিত ঘটনা।

আরপি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও