কাশ্মীর ইস্যুতে চীন-ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

কাশ্মীর ইস্যুতে চীন-ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৯

কাশ্মীর ইস্যুতে চীন-ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন

কাশ্মীর ইস্যুটি জাতিসংঘের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের জের শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের টেবিল পর্যন্ত না গড়ালেও বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে ভারতের টানাপড়েন বাড়ছে।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, চীনের সঙ্গে নতুন করে ক্ষত তৈরি হলো মোদি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে। আগামী অক্টোবর মাসে ভারতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিতীয় ঘরোয়া আলোচনা হতে যাচ্ছে। তার আগে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার বিষয়টি নিয়ে চীন নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধিতার তাস খেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

পাকিস্তান এবং পরে চীনের অনুরোধে দীর্ঘ ৪৮ বছর পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনায় উঠে এসেছে জম্মু ও কাশ্মীর। এটা ঠিক যে, জাতিসংঘের সিলমোহর মারা কোনো ভারতবিরোধী বিবৃতি দেয়নি জাতিসংঘ। কিন্তু সূত্রের বক্তব্য, বিষয়টি এখানেই মিটে যাচ্ছে না। 

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার বলছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি করানোর পিছনে পাকিস্তানের প্রতি চীনের সখ্যই একমাত্র কারণ নয়। এর পিছনে রয়েছে বেইজিংয়ের নিজস্ব স্বার্থ এবং উদ্বেগও।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনায় কাশ্মীর নিয়ে মোদি সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ঘোর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, এর ফলে চীনের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুক্রবার জাতিসংঘের বৈঠকের আগে এবং পরে এবং বৈঠকের ভিতরে সংস্থায় নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধিও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন।

আগামী মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যখন কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার নিয়ে ইসলামাবাদ উত্তাল হবে, তাতে প্রবল ইন্ধন থাকবে বেইজিংয়েরও।

সূত্রের মতে, চীন সতর্ক হয়ে গিয়েছিল সম্প্রতি ভারতের সংসদীয় অধিবেশনে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তৃতার সময়ই। যেখানে অমিত শাহ বলেছিলেন, জম্মু ও কাশ্মীর বলতে গিলগিট, বালটিস্তান, পাক শাসিত কাশ্মীর এবং আকসাই চীনকেও বোঝায়।

আকসাই চীনে পিপলস লিবারেশন আর্মির উপস্থিতি নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন সেদিন। অথচ এত দিন পর্যন্ত আকসাই চীনকে ভারত ‘বিতর্কিত ভূখণ্ড’ বলেছে।

চীনের বক্তব্য, লাদাখকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করে বিভাজিত করার পর আকসাই চীন নিয়েও সক্রিয় হবে ভারত। পাশাপাশি ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর চীনের হাতে পাকিস্তানের তুলে দেওয়া ৫১৮৩ বর্গ কিলোমিটার জমি নিয়েও এবার টানাপড়েন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা বেইজিংয়ের।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবর উদ্দিন উত্তাপ আরও বাড়িয়ে চীন এবং পাকিস্তানকে এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ শানানোয় বিষয়টি ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে টানটান করে তুলল বলে মনে করা হচ্ছে।

চীন তার সামরিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্য দেশকেও (বিশেষত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী এবং অন্য অস্থায়ী সদস্য দেশগুলিকে) সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধির বক্তব্য ইতিমধ্যেই কপালে ভাঁজ ফেলেছে ভারতীয় কর্মকর্তাদের। কাশ্মীর সমস্যার সমাধান ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়, এ কথা বলার পরও যিনি যোগ করেছেন, এ বিষয়ে জাতিসংঘের সনদ এবং প্রস্তাবগুলিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

অথচ ভারতের বরাবরের অবস্থান, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘসহ কোনো তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো বরদাস্ত করা হবে না। রাশিয়ার এ হেন মন্তব্যের পিছনে বেইজিংয়ের ইন্ধন রয়েছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখছে ভারত।

আরপি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও