জলে-জঙ্গলে অকুতোভয় মোদি

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

জলে-জঙ্গলে অকুতোভয় মোদি

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৯

জলে-জঙ্গলে অকুতোভয় মোদি

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগে মোদি সরকার, সাথে বাকি দেশ। সেই সময় সোমবার রাতে টিভির পর্দায় দেখানো হলো জলে-জঙ্গলে মোদির ঘুরে বেড়ানো দুঃসাহসিক সব অভিযান!

‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড উইথ বেয়ার গ্রিলস অ্যান্ড প্রাইম মিনিস্টার মোদি’নামের এক ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানটি ‘ডিসকভারি চ্যানেল’-এ দেখানো হয়।

দেশটির আনন্দবারজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, কী দেখা গেল ব্রিটেনের সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য বেয়ার গ্রিলস এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘শো’-এ?

দেখা গেল, হেলিকপ্টার থেকে নেমে গ্রিলসের (তিনি ততক্ষণে হাতির শুকনো মলের গন্ধ শুঁকে নিয়েছেন) সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে, গল্প করতে করতে মোদি এগোলেন জঙ্গলের পথ ধরে। নদী পেরোলেন বাঁশ, কাঠকুটো আর প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ভেলায় চেপে। নদী পেরিয়ে, সামান্য চা সেবন। গল্পগুজব এবং নিমপাতা নিয়ে চর্চার পরে বেয়ার প্রধানমন্ত্রীকে তুলে দিলেন ‘সিক্রেট সার্ভিস’-এর লোকজনের হাতে।

বেয়ার কিছুক্ষণ পরে পরই বাঘের ভয়, বাঘের ভয় বলে ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চালিয়েছেন বটে। তবে বুঝতে কারও অসুবিধে হয়নি যে, গোটা সফরে ওই সিক্রেট সার্ভিসের লোকজনই ছিলেন সফরসঙ্গী। তবে ক্যামেরার ফ্রেমের বাইরে।

প্রধানমন্ত্রী অবশ্য অকুতোভয়। বেয়ার সাহেব যতই বলুন বাঘের হাত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচানোই তার চিন্তা, মোদি শুনিয়ে দিয়েছেন, ছোটবেলায় বাড়ির কাছের হ্রদ থেকে কুমিরছানা ধরে আনার গল্প। বলেছেন, ‘জীবনের সব কিছুর মধ্যেই ভাল কিছু আছে বলে মনে করি। তাই যা-ই ঘটুক, নার্ভাসনেস কখনও প্রকাশ পায় না।’

বেয়ার যখন হাতে বল্লম ধরিয়ে দিয়েছেন বাঘ এলে কাজ লাগবে বলে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যে সংস্কৃতিতে বড় হয়েছি, কাউকে মারতে পারব না।’

এ কথা শুনে বেয়ার যখন বল্লমটি ফেরত নিতে চেয়েছেন, মোদি বলেছেন, ‘আমি আপনার হয়ে এটা নিজের হাতেই রাখছি।’

‘শো’-এর সম্প্রচার শেষ হতে না হতেই মোদির সেনাপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের টুইট, ‘সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণের সঙ্গে সহাবস্থান, তাদের সুরক্ষা এবং প্রকৃতির সংরক্ষণে ভারতীয় ঐতিহ্যের কথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী। গর্বের মুহূর্ত।’

যদিও সব দেখেশুনে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে পদ্মশ্রী, প্রজেক্ট টাইগারের প্রাক্তন অধিকর্তা প্রশান্তকুমার সেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠান নিছকই পর্যটনের প্রচার। এর সঙ্গে বন, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না।’

আর বাঘ বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরীর মন্তব্য, ‘এর সঙ্গে না বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, না অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজ‌ম, কোনও কিছুরই স্পষ্ট সংযোগ আছে বলে মনে হল না। লোকলস্কর নিয়ে হেলিকপ্টারে উড়ে গিয়ে বাঘের দেশে বনের নির্বিঘ্নতাই ক্ষুণ্ণ হল খানিক।’

এসবি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও