কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ভারতের নাকচ

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ভারতের নাকচ

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৯

কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ভারতের নাকচ

কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের দাবি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে তাকে এই মধ্যস্থতা করার অনুরোধ করেন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রভেশ কুমার টুইট করে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ধরনের কোনো অনুরোধ করেননি।

তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর নয়, সব অমীমাংসিত ইস্যুরই সমাধান পাকিস্তানের সঙ্গে একমাত্র দ্বি-পাক্ষিক আলোচনায় হতে হবে। ধারাবাহিকভাবে নয়াদিল্লি এ কথায় বলে এসেছে।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখন যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন। তার সঙ্গে সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাওজা, আইএসআই প্রধান ফয়েজ হামিদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি রয়েছেন।

হোয়াইটহাউসে সোমবার ইমরানের সঙ্গে প্রথম বৈঠক হয় ট্রাম্পের। তারপর ওভাল অফিসে তাকে পাশে নিয়েই ট্রাম্প কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার কথা তোলেন।

ইমরান খান প্রথমে বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়া দরকার।’ তার কথার সূত্রেই ট্রাম্প বলেন, ‘দু’সপ্তাহ আগে মোদির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। সেখানেই তিনি কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতা করতে রাজি কি না জানতে চান।’

তিনি বলেন, ‘তিনি (নরেন্দ্র মোদি) বললেন- আপনি কি মধ্যস্থতাকারী হতে চান? আমি বললাম, কোথায়? তিনি বললেন, কাশ্মীরে’। কারণ, বহু বছর ধরে এই ইস্যুটি চলে আসছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি আমি কোনো সাহায্য সত্যিই করতে পারি, তবে মধ্যস্থতাকারী হতেই ভালো লাগবে।’

যদিও পরে প্রেসিডেন্টের পক্ষে দেয়া বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, কাশ্মীর বিরোধের নিষ্পত্তি দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতেই চায় যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতকে সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, ‘ভারতীয় উপমহাদেশের কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান যদি তিনি করতে পারেন, তাহলে কোটি মানুষের প্রার্থনা তার জন্য থাকবে।’

যদিও ইসলামাবাদ বহুদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে কাশ্মীরের বিরোধ নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যস্থকারীর ভূমিকা নিতে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। তারা এটিকে আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসেবেই তুলে ধরে।

বিপরীতে ভারত বরাবরই এটিকে আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তৃতীয়পক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করে আসছে।

কাশ্মীরকে ঘিরেই ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত। ইতোমধ্যে পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটি এই ইস্যুতে দু’তিনটি যুদ্ধে জড়িয়েছে।

সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত অভিযোগ করে, পাকিস্তান কাশ্মীরের বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়েছে। তাদের সমর্থন পেয়েই বিদ্রোহীরা পুলওয়ামায় ভারতীয় সেনা কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে ৪০ সৈন্যকে হত্যা করেছে।

এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ভারত পাকিস্তানের ভূখণ্ডে বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। ওই সময় দু’দেশ আরেকবার যুদ্ধের মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে।

পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে বিগত তিন দশকে ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ নাগরিক।

গত সপ্তাহে পাকিস্তান লস্কর-ই তৈয়বার প্রধান নেতা হাফিজ সাঈদকে গ্রেফতার করে। তাকে ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাই হামলার মাস্টারমাইন্ড বলা হয়ে থাকে। ওই হামলার উদ্ধার সমাপ্তি ঘটে চার দিনে, যাতে ১৬০ জন নিহত হন।

যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ হাফিজ সাঈদকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আগেই কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

আইএম

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও