হবু স্বামীর মৃত্যু দুর্ঘটনায়, ‘গুড বাই’ লিখে আত্মঘাতী তরুণী

ঢাকা, ৭ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

হবু স্বামীর মৃত্যু দুর্ঘটনায়, ‘গুড বাই’ লিখে আত্মঘাতী তরুণী

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৯

হবু স্বামীর মৃত্যু দুর্ঘটনায়, ‘গুড বাই’ লিখে আত্মঘাতী তরুণী

আগস্ট মাসে কোরবানি ঈদের পরেই বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল জিনাত এবং আলী আকবর ওরফে রাহুলের। কিন্তু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত আলী বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

হবু স্বামীর মৃত্যুর শোক সামলাতে না পেরে আলীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আত্মহত্যা করলেন জিনাত।

তার আগে বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপ করে জানালেন ‘গুড বাই’।

ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার বন্দর এলাকার একবালপুরে।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, বছর কুড়ির জিনাতের বাড়ি একবালপুর থানার ভূকৈলাশ রোডে। ১১ বছরের ভাইয়ের সঙ্গে একই ঘরে থাকতেন জিনাত। বুধবার সকালে ভাই ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায়, বিছানার ওপর সিলিং পাখা থেকে বোনের প্রাণহীন দেহটা ঝুলছে।

ছেলের চিৎকারে পাশের ঘর থেকে আসেন জিনাতের মা। খবর পেয়ে একবালপুর থানা পুলিশ দেহ নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় এসএসকেএম হাসপাতালে।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে আলী আকবরের কথা। গত বছর দুয়েক ধরে জিনাত এবং আলীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক।

জিনাতের বন্ধুদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাদের সঙ্গে বেশ কয়েক বার আলী এবং জিনাত দেখা করেছেন। ফোনে, হোয়াটস্‌অ্যাপে নিয়মিত কথাবার্তা হত জিনাত ও আলীর।

কয়েক বছর আগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর পড়াশোনা বন্ধ করেছিলেন জিনাত। তার বাবার মৃত্যু হয়েছে আগেই। কয়েক মাস আগেই পাশের হোসেন শাহ রোডের বাসিন্দা আলী আকবর ওরফে রাহুল সঙ্গে বিয়ের কথা পাকা হয়। ঠিক হয় আগামী আগস্টে কোরবানি ঈদের পরেই বিয়ে হবে।

কিন্তু গত রোববার রাতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয় আলী। তাকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। বুধবার রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, বুধবার রাতে আলীর এক বন্ধুকে ফোন করে ওই মৃত্যুর খবর সঠিক কি না তা নিশ্চিত হয় জিনাত।

বন্ধুদের কাছ থেকে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই অবসাদে ভুগছিলেন তিনি।

পুলিশ জানায়, আলীর মৃত্যুর খবর জানার পরই শাহীন নামে এক বান্ধবীকে হোয়াটস্অ্যাপ করেন জিনাত। তাকে তিনি লেখেন, ‘রাহুলের মৃত্যুর পর আমার বেঁচে থাকার কী মানে? আমিও মরব।’

বন্ধুরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অন্য এক বান্ধবীকে রাত ৩টা ৩৯ এবং ৩টা ৪০ মিনিটে পর পর দু’টি মেসেজ করেন জিনাত। তাতে লেখা— ‘গুড বাই।’

তদন্তকারীদের ধারণা, আলীর মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি জিনাত। সেই অবসাদ থেকেই আত্মহত্যা। মোবাইলের মেসেজের সময় থেকে পুলিশের ধারণা ভোর রাতেই গলায় ফাঁস দিয়েছেন তিনি।

যখন গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে তখন ময়নাতদন্তের জন্য এসএসকেএম হাসপাতালের মর্গে পাশাপাশি অপেক্ষা করছে জিনাত আর আলীর দেহ।

এসবি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও