ভারতে চিকিৎসকদের ধর্মঘট, চরম ভোগান্তি

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

ভারতে চিকিৎসকদের ধর্মঘট, চরম ভোগান্তি

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯

ভারতে চিকিৎসকদের ধর্মঘট, চরম ভোগান্তি

ডাক্তারের ওপর হামলার নিন্দা ও হেনস্থার অভিযোগে চিকিৎসকদের ধর্মঘট চলছে সারা ভারতে। ফলে চিকিৎসার মতো জরুরি পরিষেবা বন্ধ রয়েছে সেখানে।

ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সমগ্র ভারতের চিকিৎসাসেবা। সাধারণ মানুষ ও রোগীদের চলছে চরম ভোগান্তি। 

ছয় দিনের বিক্ষোভের পর সরকারের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসকদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে সোমবার সারা ভারতে ধর্মঘট পালন করছেন চিকিৎসকরা।

ব্যাপক ধর্মঘটের ফলে সাধারণ মানুষ আশঙ্কা ও উদ্বিগ্নতায় ভুগছেন বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার বেলা ৩টায় জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সময় দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বৈঠক ঘিরেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তারা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাননি।

রোববার রাত ১টায় একজন রোগীর আত্মীয়দের হাতে দিল্লিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট এআইএমএসের একজন আবাসিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগে ধর্মঘট চলছে।

এছাড়া গত সপ্তাহে কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে মারা যাওয়া একজন রোগীর আত্মীয়ের দ্বারা ডাক্তারের ওপর হামলার নিন্দার জন্য ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) সোমবারের এই ধর্মঘট ডেকেছে।

কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে সোমবার বেলা ৩টায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের কথা রয়েছে।

কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে জুনিয়র চিকিৎসকরা বলেন, তারা অবিলম্বে বৈঠক করতে চান কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানো হয়নি।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী রোববারই জানিয়ে দেন তিনি ও তার কর্মকর্তারা আজ প্রতিবাদকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করবেন।

আইএমএ জানিয়েছে, চিকিৎসকরা হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিং হোম এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে আউট-পেশেন্ট বিভাগ এবং বিকল্প অস্ত্রোপচারের মতো অপরিহার্য না হওয়া পরিষেবা দিতে উপস্থিত হবেন না। সমস্ত জরুরি পরিষেবা সক্রিয় থাকবে।

এক বিবৃতিতে এআইএমএসের জুনিয়র চিকিৎসকরা জানান, রোববার দুপুরে তাদের সহকর্মীদের একজনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে তারা সোমবার দুপুর থেকে শুরু করে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালন করবেন না। ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট এবং জরুরি পরিষেবা খোলা থাকবে।

এআইএমএসের জুনিয়র চিকিৎসকরা সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে পশ্চিম বাংলায় আন্দোলনকারী ডাক্তারদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে মিছিলও করেন।

এআইএমএসের আবাসিক ডাক্তাররা বলেন, তারা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের সঙ্গে দেখা করবেন এবং আরও ভালো নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ করবেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের ডাক প্রত্যাখ্যান করার পরে বাংলার জুনিয়র চিকিৎসকরা রোববার অবস্থানকে কিছুটা নরম করেন। নিজেদের দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে চিকিৎসকদের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এই প্রতিবন্ধকতার অবসান করতে আগ্রহী। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দসই স্থানে তাঁর সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে খোলাখুলি আলোচনা হবে, বন্ধ দরজার মধ্যে নয় এবং প্রচার মাধ্যমের উপস্থিতিতে হবে।’

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন রাজ্যগুলোকে ডাক্তারদের রক্ষা করার জন্য আইন প্রণয়ন করতে বলেছেন। কিন্তু আইএমএ ডাক্তার ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ওপর হিংসার মোকাবিলা করার জন্য একটি বড়সড় আইনের অনুরোধ করেছেন। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নির্দিষ্ট করতে চান।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, হরতালকারী ডাক্তাররা ‘বহিরাগত’। তার এই বক্তব্যের পরেই মুখ্যমন্ত্রীর শর্তহীন ক্ষমার দাবি তোলেন চিকিৎসকরা, পাশাপাশি ছয়দফা দাবিও জানান তারা, যার মধ্যে ভালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অন্যতম।

প্রতিবাদকারী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে হুমকি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় সেবাগুলোর ক্ষেত্রে কর্মচারীদের হরতালের বিরুদ্ধে এসেনসিয়াল সার্ভিসেস মেন্টেন্যান্স অ্যাক্ট (এসমা) আইন রয়েছে। তবে তার সরকার তা প্রয়োগ করেনি।

এরপর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে চিকিৎসকদের প্রতিবাদ কর্মসূচি। শুক্রবার রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ধর্মঘট ডাকে দিল্লি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। মহারাষ্ট্রের ২৬টি সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখা বন্ধ করে দেন প্রায় ৪,৫০০ চিকিৎসক। হায়দরাবাদে বিক্ষোভ দেখান নিজাম ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের চিকিৎসকরা।

ধর্মঘটে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়েছে সরকারি হাসপাতালগুলোতে। কয়েকদিনে এমারজেন্সি ওয়ার্ড, আউটডোরসহ সরকারি হাসপাতালগুলোর প্যাথোলজিক্যাল ইউনিটেও পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।

এমআর/এইচআর

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও