বন্ধু ভাবলে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ কেন?

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বন্ধু ভাবলে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ কেন?

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯

বন্ধু ভাবলে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ কেন?

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে ভারত বিএসএফ মোতায়েন করলেও এ বাহিনীর উপস্থিতি নেই দেশটির নেপাল ও ভুটান সীমান্তে৷ সেখানে আছে এসএসবি৷ তাই প্রশ্ন উঠেছে, ভারত যদি বাংলাদেশকে বন্ধু মনে করে তাহলে সীমান্তে বিএসএফ কেন?

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে আবারো সীমান্ত হত্যা নিয়ে উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে৷ কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে বিএএসফ ‘গুলি করে হত্যাকেই’ প্রাধান্য দেয়৷

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ে ঢাকায় তিন দিনের বৈঠক শেষ হয় শনিবার।

বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করা হয়৷

বিএসএফের মহাপরিচালক রজনীকান্ত মিশ্র নিহতের এ ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্খিত মৃত্যু’ বলে উল্লেখ করেন৷ তার মতে, নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে গুলি করে বিএসএফ৷

অন্যদিকে, বিজিবির মহাপরিচালক মো. সাফিনুল ইসলাম সীমান্তে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন৷

বৈঠকে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে সীমান্তে ১৫ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন৷ আর বিএসএফ মহাপরিচালক দাবি করেন, গত বছর ভারতীয় ভূখণ্ডে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে৷ তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ও ছয়জন ভারতীয়৷

জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের (মাসুম) সাধারণ সম্পাদক কিরিটি রায় বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা ভারতীয় আইনে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ কিন্তু বিএসএফ হত্যা করছে এবং তারা এর জন্য বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে না৷ তাদের ইমপিউনিটি দেয়া হচ্ছে৷ তারা ট্রিগার হ্যাপি৷’

নতুন সরকারের সময়ে এই পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভারতের এ সরকার নতুন নয়, পুরনো সরকার৷ একই সরকার৷ আমি দুর্ভাগ্যজনক হলেও একজন ভারতীয় হিসেবে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, বাংলাদেশ একটি বন্ধু রাষ্ট্র হলেও যেহেতু এখানে মুসলমানরা বেশি, তাই তারা বাংলাদেশকে বন্ধু রাষ্ট্র মনে করে না৷ তাই বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) আছে৷ কিন্তু নেপাল বা ভুটান সীমান্তে কোনো বিএসএফ নেই৷ সেখানে আছে এসএসবি (সশস্ত্র সীমা বল)৷’

তিনি বলেন, ‘১৯৬৮ সালে বিএসএফের জন্ম৷ পাকিস্তান সীমান্তেও বিএসএফ আছে৷ একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ হলো৷ শেখ মুজিব সরকারের সময় থেকেই বাংলাদেশের সাথে ভারতের সুসম্পর্ক, খালেদা জিয়া সরকারের সময় ভালো সম্পর্ক ছিল৷ হাসিনা সরকারের সময়ও সুসম্পর্ক৷ কিন্তু বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএসএফ-ই আছে৷ সীমান্তে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হত্যা চলছে৷ ধর্ষণ চলছে৷’

ভারতের এ মানবাধিকার কর্মী আরো বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশিদেরই নয়, বিএসএফ ভারতীয়দেরও গুলি করে মারছে৷’

আরপি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও