মন্দিরে ছোট্ট আসিফাকে ধর্ষণের পর হত্যা: সেবকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

মন্দিরে ছোট্ট আসিফাকে ধর্ষণের পর হত্যা: সেবকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০১৯

মন্দিরে ছোট্ট আসিফাকে ধর্ষণের পর হত্যা: সেবকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

ছোট্ট আসিফা বানুর পোশাক মাকে জীবনভর কাঁদাবে

ভারতের কাশ্মীরে চাঞ্চল্যকর এক শিশু ধর্ষণ এবং হত্যার মামলায় সোমবার ছয়জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে পাঠানকোটের বিশেষ আদালত।

গত বছরের জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখ জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের শিশুকন্যা আসিফা বানুকে (৮) অপহরণ করে স্থানীয় মন্দিরে নিয়ে গিয়ে গনধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে।

অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী ও মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক সাঞ্জি রাম, স্পেশাল পুলিশ অফিসার দিপক খাজুরিয়া এবং পরভেশ কুমার নামে এক সাধারণ নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে।

মন্দিরেই আসিফাকে ধর্ষণে সহায়তা করা সেবক সাঞ্জি রামের হয়েছে যাবজ্জীবন

তাদেরকে সহযোগিতার দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে সাব ইন্সপেক্টর আনন্দ দত্ত, হেড কনস্টেবল তিলক রাজ, এবং স্পেশাল পুলিশ অফিসার সুরেন্দ্র বর্মাকে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ঘটনার তদন্ত শুরু করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ একজন সাব-ইন্সপেক্টর ও হেড কনস্টেবলকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন রাজস্ব কর্মকর্তা সাঞ্জি রাম মার্চ মাসের ২০ তারিখ আত্মসমর্পণ করে।

ক্রাইম ব্রাঞ্চ তদন্ত করে বলে এই ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার নেপথ্যে আরও একটি বিষয় রয়েছে। একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে ভয় দেখাতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

এই ঘটনায় যে আটজন হিন্দু পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, কট্টর ডানপন্থী হিন্দুগোষ্ঠীগুলো তাদের মুক্তি দাবি করার পর এ নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ শুরু হয়েছিল।

অভিযুক্ত আটজনই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে। এদের মধ্যে ছিল একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, চারজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন বালক।

ঘটনার শিকার শিশুটির মা দুজন আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। এই দুজন হচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সাঞ্জি রাম এবং পুলিশ কর্মকর্তা দিপক খাজুরিয়া। এই দুজনকেই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমার মেয়ের মুখ এখনো আমাকে তাড়া করছে। এই বেদনা থেকে আমি কোনদিন মুক্তি পাব না। আমি যখন আমার মেয়ের বয়সী অন্য শিশুদের খেলতে দেখি, তখন আমার মন ভেঙ্গে যায়।'

বাদী পক্ষের আইনজীবী আদালতের রায়কে দেশের সাংবিধানিক মর্মের বিজয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'ধর্ম নির্বিশেষে পুরো দেশ এই মামলার জন্য লড়েছে।'

কাঠুয়া ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনা ভারতের সবচেয়ে আলোচিত একটি মামলা। এই ঘটনা নিয়ে ভারতে যে শোরগোল শুরু হয়, তার জের ধরে দেশটিতে এক নতুন আইন করা হয় যাতে বারো বছরের কম বয়সী শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কাঠুয়ায় আট বছরের মেয়েটিকে যেরকম নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার উঠে ভারতে। ঘটনার বিবরণ প্রকাশিত হওয়ার পর শিউরে উঠেছিল মানুষ।

কিন্তু ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির দুজন মন্ত্রী যখন এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আসামিদের সমর্থনে সমাবেশে যোগ দেন, তখন বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের সঙ্গে যাযাবর মুসলিম উপজাতির জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। তদন্তকারীরা তখন বলেছিলেন, গুজ্জার সম্প্রদায়কে ভয় দেখানোর জন্যই আট বছরের মেয়েটিকে টার্গেট করেছিল অভিযুক্তরা।

এমআর/এএসটি

আরও পড়ুন...
কাঠুয়ায় ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৬

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও