যে গ্রাম বছরের ১১ মাসই পানির নিচে থাকে

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

যে গ্রাম বছরের ১১ মাসই পানির নিচে থাকে

পরিবর্তন ডেস্ক ১:০০ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০১৯

যে গ্রাম বছরের ১১ মাসই পানির নিচে থাকে

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গোয়া। এই রাজ্যের একটি গ্রাম বছরের ১১ মাস থাকে পানির নিচে। গ্রামটির নাম কারদি। গ্রামটি এক মাসের জন্য যখন ভেসে উঠে তখন সেখানকার বাসিন্দারা আবারো তাদের ভিটে-মাটিতে ফিরে আসে আর উদযাপন করে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার শুরু ১৯৮৬ সালে। তখন থেকেই এই গ্রামের বাসিন্দারা জানতেন যে, গ্রামটির আর কোনো চিহ্ন থাকবে না।

ওই বছরই প্রদেশটিতে প্রথম বাঁধ নির্মাণ করা হয় এবং এর ফরে গ্রামটি সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এই গ্রামটি এক সময় দক্ষিণ-পূর্ব গোয়ার একটি সমৃদ্ধশালী গ্রাম ছিল।

কিন্তু প্রতিবছর মে মাসে পানি সরে গেলে দেখা যায় গ্রামটিতে কী কী রয়ে গেছে। কাদামাটি, গাছের গুড়ি, ক্ষয়প্রাপ্ত ঘরবাড়ি, ভেঙ্গে পড়া ধর্মীয় উপাসনালয়, গৃহস্থালীর নানা জিনিস আর পরিত্যক্ত বিরান ভূমি। এইসব কিছু দেখতে পাওয়া যায় পানি সরে গেলে।

এই গ্রামের জমিতে ফলন বেশি হয় এমন কথা প্রচলিত ছিল। তিন হাজার মানুষের বাস ছিল এখানে। ধান চাষ, আর গ্রামকে ঘিরে রাখতো নারকেল গাছ, ক্যাসুনাট, আম এবং কাঁঠাল গাছে।

হিন্দু, মুসলমান এবং খ্রিস্টান এই তিন ধর্মের মানুষ এখানে বসবাস করতো। কিন্তু দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে বদলে গেল যখন ১৯৬১ সালে গোয়া পর্তুগিজদের থেকে স্বাধীন হয়ে যায়।

প্রথম মুখ্যমন্ত্রী গ্রামবাসীদের খবর দিলেন যে, যদি প্রদেশের প্রথম এই বাঁধটি করা হয় তাহলে দক্ষিণ গোয়ার সবাই উপকৃত হবে।

এই গ্রামের সবাইকে পাশের গ্রামে সরিয়ে নেয়া হয় আর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় সেখানে অনেক সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে।

তাদের ভূমি এবং ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। তবে এই বাঁধ থেকে পানি ওই গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছায়নি যেখানে তাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

তার পরও কারদি গ্রামের বাসিন্দারা অপেক্ষায় থাকেন মে মাসের।

যখন পানি নেমে যায় তখন তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া গ্রামে ফিরে যান, নিজের ঘরবাড়ি ধংসাবশেষ দেখেন, ভেঙ্গে পড়া প্রার্থণালয়ে প্রার্থনা করেন। আর স্মৃতিচারণ করেন।

আরপি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও