ইস্তফায় অনড় রাহুল, অতঃপর…

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

ইস্তফায় অনড় রাহুল, অতঃপর…

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫৭ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯

ইস্তফায় অনড় রাহুল, অতঃপর…

লোকসভা নির্বাচনে হারের দায় নিয়ে রাহুল গান্ধী ইস্তফা দেবেন। আর কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি তা খারিজ করবে। শনিবার সকালে ওয়ার্কিং কমিটিতে যোগ দেওয়ার আগে এমন সম্ভাবনার কথাই অধিকাংশ নেতা ভেবে এসেছিলেন, হলোও তাই। কিন্তু নিজের ইস্তফা নিয়ে রাহুল যে এমন জেদ ধরে থাকবেন, সেটি ভাবতেই পারেননি কেউ।

দলের এক নেতা জানান, কমিটির সব নেতা সমস্বরে তাকেই দায়িত্বে থাকতে বলেছেন। পি চিদম্বরম তো কেঁদেই ফেলেছেন। আগেভাগে প্রস্তাব পেশ করে রাহুলের হাতেই সংগঠনের আমূল পরিবর্তনের ভার তুলে দিয়েছে কমিটি। তা সত্ত্বেও ইস্তফায় অনড় রাহুল।

শুধু তা-ই নয়, সাফ বলেছেন, তার বদলে যেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নামও সভাপতি পদে ভাবা না হয়। বরং গান্ধী পরিবারের বাইরের কারও হাতে এই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হোক। এই নিয়ে কোনো আপস হবে না। এর পরই রাহুল-প্রিয়াঙ্কা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান। অন্য সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল। গতকাল তাও বলেননি। প্রিয়াঙ্কাও আলাদাভাবে চলে যান। 

আনন্দবাজার বলছে, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করছেন, ‘পরিবারের বাইরে কংগ্রেস কিছু ভাবতে পারে না। এখনই চোখ বুজে বলা যায়, রাহুলের পরও প্রিয়াঙ্কার সন্তানরা ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সভাপতি হবেন।’

লোকসভায় বিপর্যয়ের পর রাহুল আর কোনো আঙুল তোলার সুযোগ দিতে চাইছেন না। গোটা বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী একটিও কথা বলেননি।

কিন্তু রাহুল বলেন, তিনি দলের জন্য অন্য যেকোনো কাজ করবেন। লড়াই জারি রাখবেন। সংসদের নেতাও হতে পারেন। আরও তিনটি বিকল্প দিয়েছেন। কিন্তু সভাপতি থাকবেন না।

ইস্তফা নিয়ে রাহুলের জেদ দেখে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সব সদস্যই তাকে দায়িত্বে বহাল থাকতে বলেন।

প্রিয়াঙ্কাও বলেন, বিজেপি এটাই চায় যে, রাহুল গান্ধী সভাপতি পদ থেকে সরে যাক। রাহুল ইস্তফা দিলে বিজেপিরই ফাঁদে পা দেওয়া হবে।

চিদাম্বরম কেঁদে ফেলে বলেন, সবে দক্ষিণ ভারত থেকে রাহুল জিতে এসেছেন। রাহুল ইস্তফা দিলে দক্ষিণের সমর্থকরা আত্মহত্যাও করতে পারেন।

কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা বলেন, বিজেপি যাই বলুক, গান্ধী পরিবার বরাবরই গোটা দলকে ধরে রাখে। অতীতে দলের নেতৃত্ব থেকে যখন পরিবারের রাশ আলগা হয়েছে, তখন দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েছে। এখন আর সেই ঝুঁকি নেওয়ার কোনো অবস্থা নেই। তার ওপর রাহুল লড়াকু। তিনি যদি সরে যান, তা হলে কেই বা দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন?

বড়জোর সোনিয়া গান্ধীকে সাময়িকভাবে কার্যনির্বাহী সভাপতি করা যায়। রাহুলের নেতৃত্বেই হালে গোবলয়ের তিনটি রাজ্য কংগ্রেস দখল করেছে। মোদি-শাহের গড় গুজরাটেও বিজেপিকে ধরাশায়ী করা গেছে। ভোটে হার-জিত থাকেই। দলে অনেক ত্রুটি, ঘাটতি আছে। সেটি রাহুলই সকলের সঙ্গে বসে ঠিক করবেন।

আরপি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও