জরিপে বিজেপিতে স্বস্তি, ভাটা বিরোধী শিবিরে

ঢাকা, ১৬ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

জরিপে বিজেপিতে স্বস্তি, ভাটা বিরোধী শিবিরে

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:০৭ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০১৯

জরিপে বিজেপিতে স্বস্তি, ভাটা বিরোধী শিবিরে

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের আভাসে ক্ষমতাসীন বিজেপি শিবিরে স্বস্তির বাতাস বইছে। বিপরীতে বিরোধী সংগ্রেস শিবিরের তৎপরতায় আচমকা যেন ভাটার টান পড়েছে।

বুথে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসা মানুষের ওপর চালানো এই জরিপ যে দারুণ প্রভাব ফেলেছে দেশটির রাজনীতিতে, প্রতিদ্বন্দ্বী দু’পক্ষের মেজাজে তা বেশ পষ্ট। অবশ্য ইভিএম কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, অধিকাংশ জরিপের ইঙ্গিত, ৩০০-র বেশি আসন জিতে সরকার ধরে রাখছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ। দু’একটি সমীক্ষায় এনডিএকে ৩০০-র বেশ কিছুটা কম আসনও দেয়া হয়েছে। কিন্তু, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনডিএ পাবে না— এমন আভাস কোনো সমীক্ষায় দেয়নি।

বিরোধী শিবিরের প্রায় সব নেতাই বুথফেরত সমীক্ষার দেয়া পূর্বাভাসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বহুবারই যে এই সব সমীক্ষার দেয়া আভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছে, সে কথাও তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু, দিল্লিতে বিজেপিবিহীন সরকার গঠনের উপযুক্ত রাজনৈতিক বিন্যাস তৈরি করার জন্য যে তৎপরতা শুরু হয়েছিল বিরোধী শিবিরে, তা আচমকা থমকে গিয়েছে।

একা সেই তৎপরতা জিইয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলুগু দেশম সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নায়ডু।

মঙ্গলবার এনডিএ-র সব শরিককে দিল্লিতে নিমন্ত্রণ করেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। অশোক হোটেলে ডিনার পার্টির আয়োজন করেছেন নরেন্দ্র মোদির প্রধান এই সেনাপতি।

ফল প্রকাশ পরবর্তী স্ট্র্যাটেজি নিয়ে একদফা আলোচনা সেরে নিতেই যে শরিক দলগুলোর নেতাদের এই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অমিত শাহ, তা নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরের খুব একটা সংশয় নেই।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভোট শেষ হওয়ার পরে নয়, সব বুথফেরত জরিপগুলোর ফলাফল সামনে আসার পরে এই ডিনার পার্টির আয়োজন হয়েছে।

বিজেপি সূত্রের খবর, মঙ্গলবারের নৈশভোজের টেবিলকে অঘোষিতভাবেই বিজয় উদযাপনের টেবিল করে তুলবে বিজেপি। পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে প্রয়োজনীয় নানা আলোচনাও সেই আবহেই প্রাথমিকভাবে সেরে নেয়া হতে পারে।

স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি জোটের মেজাজে যে স্বস্তি, তার ঠিক বিপরীত ছবিটাই দেখা যাচ্ছে বিরোধী শিবিরের একটি অংশে। বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলোকে এক ছাতার তলায় আনার বিষয়ে এখনই আর খুব একটা উদ্যোগী হতে দেখা যাচ্ছে না কংগ্রেসকে।

যে সব আঞ্চলিক বা রাজ্য দলের নেতা বৈঠকের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন, রাহুল গান্ধী বা সোনিয়া গান্ধী তাদের সঙ্গে দেখা করছেন ঠিকই। কিন্তু, সরকার গড়ার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য যে ধরনের তৎপরতা জরুরি তা আপাতত মিলছে না।

আচমকা যেন একটু সাবধানী বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীও। গত এক-দেড় মাস ধরে বিজেপিকে এবং মোদি-শাহ জুটিকে একের পর এক ইস্যুতে অত্যন্ত চড়া ভাষায় আক্রমণ করছিলেন মায়া। শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশের বিষয় নিয়ে নয়, মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বিজেপির সংঘাতের বিষয় নিয়েও মুখ খুলছিলেন বিএসপি সুপ্রিমো। কিন্তু, রোববার সন্ধ্যায় বুথফেরত জরিপের ফল সামনে আসার পর থেকে যেন একটু সাবধানী দলিত হৃদয়েশ্বরী।

দিল্লি গিয়ে সোনিয়া-রাহুলের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা আপাতত বাতিল করে দিয়েছেন মায়াবতী। উত্তরপ্রদেশে যার হাত ধরে লড়লেন তিনি, সেই অখিলেশ যাদবকেও মায়ার দেখা পেতে হয়েছে তার বাড়ি গিয়ে।

হাল ছাড়ছেন না শুধু চন্দ্রবাবু নায়ডু। শনিবার, রোববার, সোমবার— দেশের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত অক্লান্ত ছুটছেন তিনি। সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং সিপিআই-এর সুধাকর রেড্ডির সঙ্গে বৈঠক করেছেন নায়ডু।

রোববার প্রথমে লখনউ গিয়ে বৈঠক করেছেন এসপি সভাপতি অখিলেশ যাদব এবং বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীর সঙ্গে। সে দিনই দিল্লিতে দু’বার বৈঠক করেছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে, একবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে। বৈঠক করেছেন এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং লোকতান্ত্রিক জনতা দলের প্রধান শরদ যাদবের সঙ্গেও।

সোমবার চন্দ্রবাবু নায়ডু গিয়েছেন কলকাতায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রধান মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। ভোটের ফল প্রকাশের পরবর্তী রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করতেই যে এই বৈঠক, তা-ও স্পষ্টই জানানো হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে গেল দেশের রায়, সে কথা বৃহস্পতিবার বিকেলের আগে হলফ করে বলার অবস্থায় কেউই নেই। কিন্তু, বুথফেরত জরিপে যে একটা আবহ তৈরি করে দিয়েছে, তা অস্বীকার করার অবস্থায় প্রায় কেউই নেই।

এমআর

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও