নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে কলকাতায় সেনা মোতায়েন

ঢাকা, ৮ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে কলকাতায় সেনা মোতায়েন

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:২৭ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে কলকাতায় সেনা মোতায়েন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার কেন্দ্রে বুধবার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণার সময় প্রতিযোগী দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের একদিন পর পদক্ষেপ নেয়া হলো।

রয়টার্স জানায়, ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি অন্য রাজ্যে পরাজয়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে এখানে তৎপরতা শুরু করায় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজ্যটি।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নিয়ন্ত্রণে থাকা মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে মোদির দল। মমতা নরেন্দ্র মোদির কঠোর সমালোচকদের একজন।

পুলিশ জানায়, পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতার ঘটনায় মোদির দলের ১০০ সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজ্য পুলিশ রয়টার্সকে আরো জানায়, তৃণমূলের কোনো সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়নি।

সহিংসতার পর ভারতের নির্বাচন কমিশন সব দলের নির্বাচনী প্রচারণা নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই বন্ধ ঘোষণা করেছে।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে লোকসভা ভোটের শেষ দফার আগে রাজ্যে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। নজিরবিহীনভাবে শুক্রবার রাত ১০টার পর থেকে রাজ্যে শেষদফার ভোট প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে কমিশন। নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে থেকেই শেষদফার ভোট প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

স্বাভাবিকভাবে প্রচার শেষ হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার বিকেলে। কমিশনের বক্তব্য, ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার ও র‌্যালিকে কেন্দ্র করে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, তার ফলেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পরই রাজনৈতিক শিবিরে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

পাশাপাশি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। তার কাজকর্ম দেখভাল করবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে।

অন্যদিকে বর্তমানে এডিজি সিআইডি পদে থাকা কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকেও অপসারিত করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে কমিশনের নির্দেশ, শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রিপোর্ট করতে হবে রাজীব কুমারকে।

ভারতে এই প্রথম কোনো রাজ্যে ৩২৪ ধারা প্রয়োগ করলো নির্বাচন কমিশন। দিল্লি থেকে উপ-নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শেষ দফার নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়। কমিশনও এ রাজ্যে কী ঘটছে, সে বিষয়ে নজর রেখেছিল। এই দু’টি বিষয় পর্যালোচনা করার পর কমিশনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সপ্তম তথা শেষদফার নির্বাচনে এ রাজ্যে দমদম, বারাসত, বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, যাদবপুর, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। এ কেন্দ্রগুলোতে ১৬ মে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলো প্রচারের শেষ সুযোগ পাবে।

গত ১৩ মে রাজ্যে ঘুরে গিয়েছিলেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। সেই সময় তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) আরিজ আফতাব, রাজ্যে নিযুক্তি বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে, বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েকর সঙ্গে বৈঠক করেন। তাদের কাছ থেকে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতির রিপোর্ট নেন। দীর্ঘ পর্যালোচনাও করেন তাদের সঙ্গে।

কমিশন সূত্রে খবর, ওই পর্যালোচনায় উঠে আসে, রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন ভোট প্রক্রিয়ায় সাহায্য করছে না। শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ নির্বাচনও তার জন্য সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন উল্লেখ করেছে, মঙ্গলবারের ঘটনায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট যায় দিল্লিতে। এ ঘটনা নিয়ে রাজ্যে নিযুক্ত পুলিশ এবং বিশেষ পর্যবেক্ষকও তাদের রিপোর্ট পাঠান নির্বাচন সদনে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তারা রিপোর্টে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রচার চলাকালীন গোলমাল ঘটছে। তার জেরে ভোট প্রক্রিয়াতেও প্রভাব পড়তে পারে। এসব রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই নিরাপত্তার কারণে একদিন আগেই প্রচার পর্ব শেষ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

কমিশনের এই নির্দেশের পরই রাজনৈতিক শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া চলছে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘কখনও যা হয়নি, তাই হলো। একদিন প্রচারের সময় কমিয়ে দিলো। এ রকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হলো এ রাজ্যে, যেখানে আইনশৃঙ্খলার কারণে প্রচারের দিন একদিন কমিয়ে দিলো! এটা কি রাজ্যের প্রশাসন বুঝতে পারছেন? রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকে সরিয়ে দেয়া হলো, এটা লজ্জার। পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলের রাজত্ব চলছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য অনভিপ্রেত। তবে প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীকে প্রচারের সুযোগ দেয়া হলো। আমরা সময় কম পেলাম। এটা নিয়ে পরে দল যা বলার বলবে। সবাই নির্ভয়ে ভোট দিক।’

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা শুনলাম। গণতান্ত্রিক বিষয়ে আমাদের অধিকার খর্ব করা হলো। কিন্তু গত রয়েক দিন ধরে এ রাজ্যে যা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলার কারণে নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তে করেছে। আমাদের আর কিছু বলার নেই।’

এমআর/এইচআর

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও