মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্কুল, দোকানে আগুন

ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্কুল, দোকানে আগুন

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:২২ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৯

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্কুল, দোকানে আগুন

একটি উগ্রপন্থী দল মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের কয়েকটি স্কুল ও দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের বুথিডং এলাকার কুন টাং গ্রামে এই ঘটনা ঘটে বলে জানায় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি (এএ)।

‘এটা একটা মুসলিম গ্রাম। আমরা এখানে কয়েক প্রজন্ম ধরে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করছি। আমরা অন্য ধর্মের মানুষকে আমাদের গ্রামে স্বাগত জানাই। আমাদের কখনো কোনও সমস্যা হয়নি,’ স্টেটলেস রোহিঙ্গা ওয়েবসাইটকে বলেন একজন বৃদ্ধ রোহিঙ্গা। তার ওপর প্রতিশোধমূলক আচরণ করা হতে পারে এই ভয়ে তিনি তার নাম গোপন রাখেন।

আয়ারল্যান্ড থেকে পরিচালিত স্টেটলেস রোহিঙ্গা ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, স্থানীয়রা একটি জায়গায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তবে, সেটি স্কুল না দোকান তা বুঝা যায়নি। ভিডিও ক্লিপটির সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় এএ।

একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল এবং আরবি মক্তব সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং রোহিঙ্গাদের ৪১টি দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, জানায় স্টেটলেস রোহিঙ্গা।

ওয়েবসাইটটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং রাখাইনের আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াই এখন বুথিডংয়ে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। বৌদ্ধ প্রধান আরাকান আর্মি ওই অঞ্চলের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবীতে লড়াই করছে।

রোহিঙ্গা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সেনাবাহিনী দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে বৃহস্পতিবার আগুনকে ব্যবহার করেছে। তারা আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান লড়াইয়ে বেসামরিক লোকেদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে তারা এটা কাজে লাগিয়েছে।’

জাতিসংঘের মতে, রোহিঙ্গারা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী। ২০১২ সালে কয়েক জাতিগত সহিংসতায় কয়েক ডজন রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার পর থেকে তারা সবসময় আক্রমণের ভয়ে থাকে।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এই সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার অভিযান শুরু করলে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

এমআর/এএসটি