নিজের জীবন দিয়ে হামলাকারীকে ঠেকান তিনি

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

নিজের জীবন দিয়ে হামলাকারীকে ঠেকান তিনি

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

নিজের জীবন দিয়ে হামলাকারীকে ঠেকান তিনি

শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত এক ব্যক্তির পরিবার বলছে যে, নিজের জীবন দিয়ে বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি। তার নাম রামেশ রাজু।

বিবিসি বলছে, রোববার জিয়ন গির্জা তখন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ঠিক ওই সময় এক ব্যক্তি ব্যাগপ্যাক নিয়ে গির্জায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি ভেতরে ঢুকতে পারলে বহু মানুষের প্রাণহানি হতো ওই গির্জার ভেতরে। কিন্তু রামেশ রাজুর বাধার কারণে ওই ব্যক্তি গির্জায় ঢুকতে পারেননি।

৪০ বছর বয়সী রামেশ নিজে প্রাণ দিয়েছেন, কিন্তু বিনিময়ে বেঁচে আছেন ওই গির্জায় থাকা প্রায় সাড়ে চার শ মানুষ।

রাজুর স্ত্রীর নাম ক্রিসান্থিনি। এ ছাড়া তাদের ১৪ বছরের রুখশিখা ও ১২ বছরের নিরুবান নামে দুই সন্তান রয়েছে।

ক্রিসান্থিনি গির্জাতেই সানডে স্কুল টিচার হিসেবে কাজ করেন এবং এই রোববারেও তিনি ক্লাসে গিয়েছিলেন।

তিনি ও রামেশ প্রতি সপ্তাহেই বাচ্চাদের গির্জায় নেন এবং পরে সন্তানদের প্রার্থনায় নিয়ে যেতেন রামেশই।

ঘটনার দিন ক্লাস শেষে ক্রিসান্থিনি ও কয়েকটা শিশু বাইরে যান খাবার কিনতে এবং তখনো ইস্টার সানডের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এ সময় গির্জার বাইরের চত্বরেই তিনি এক ব্যক্তিকে বড় ব্যাগসহ দেখেন।

ক্রিসান্থিনি জানান, ওই ব্যক্তি বলছিল, তার ব্যাগে ভিডিও ক্যামেরা এবং তিনি ভেতরে প্রার্থনার ভিডিও ফুটেজ নেবেন।

‘আমার স্বামী কিছু একটা সমস্যা আঁচ করতে পারছিলেন এবং ওই ব্যক্তিকে বললেন তাকে আগে অনুমতি নিতে হবে,’ বলেন ক্রিসান্থিনি।

তিনি বলেন, এর পর এক প্রকার জোর করেই ওই ব্যক্তিকে চলে যেতে বাধ্য করেন তার স্বামী। এর পর ক্রিসান্থিনি ভেতরে চলে যান যেখানে প্রায় ৪৫০ জনের মতো মানুষ প্রার্থনায় যোগ দেয়ার অপেক্ষায়।

তিনি বলেন, এর মধ্যেই বড় বিস্ফোরণের শব্দ কানে এলো ও লোকজন ভয়ার্ত হয়ে যে যেদিকে পারে দৌঁড়ালো, কারণ ভবনের এক পাশে আগুন ধরে গেছে।

ক্রিসান্থিনি ও তার পরিবারের সদস্যরাও পালান এবং দ্রুতই তারা রামেশকে খুঁজতে হাসপাতালে যান।

কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃতদেহ পান তারা, তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন যেখানে ক্রিসান্থিনি তাকে সর্বশেষ দেখেছিলেন।

আরপি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও