পাকিস্তানে এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা সৌদির

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫

পাকিস্তানে এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা সৌদির

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৯

পাকিস্তানে এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা সৌদির

পাকিস্তানের গোয়াদর সমুদ্রবন্দরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে তৈল শোধনাগার স্থাপনের কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। এই বিনিয়োগের পরিমাণ এক হাজার কোটি ডলার।

রোববার পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদর বন্দরে দাঁড়িয়ে এই আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রী খালিদ আল ফালি।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের আর্থিক উন্নয়নের শরিক হতে চায় সৌদি আরব। সেই জন্যই বানানো হচ্ছে তৈল শোধনাগার। পাশাপাশি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের অংশীদারও হতে চাই আমরা।’

এ উপলক্ষে আগামী ফেব্রুয়ারিতেই পাকিস্তান সফরে আসবেন সৌদি যুবরাজ তথা ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। সেখানেই পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি সই করা হবে বলে জানিয়েছেন ওই সৌদি মন্ত্রী।

গোয়াদর সমুদ্রবন্দরে তৈল শোধনাগার ছাড়াও অন্যান্য বেশ কিছু প্রকল্পে পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য করা হবে বলে এদিন জানান খালিদ আল ফালি। 

কলকাতার আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেনার দায়ে জর্জরিত পাকিস্তানকে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া থেকে উদ্ধার করতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কখনও চীন, কখনও সৌদি, কখনও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ঋণ মওকুফ করতে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের সঙ্গেও। এই পরিস্থিতিতে সৌদির এই আর্থিক সাহায্যে আপাতত কিছুটা হলেও হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ পেলেন ইমরান, এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

যদিও সৌদির এই আর্থিক সাহায্য পাকিস্তানের জন্য আরও বড় বিপদ ডেকে আনছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। কারণ, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের একটা প্রান্ত হলো গোয়াদর সমুদ্রবন্দর। এই করিডরের দুই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা, রেলপথ এবং বন্দরের মাধ্যমে পশ্চিম চীন যুক্ত হয়ে যাচ্ছে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে। পাক- অধিকৃত কাশ্মীর এবং বেলুচিস্তানের বুক চিরে এই রাস্তা তৈরি হলে চীনের কাশগড় থেকে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে আরব সাগর। সেখান থেকে সহজেই ভারত মহাসাগরের একটা বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব বাড়াতে পারবে বেইজিং।

বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যেই বানানো হচ্ছে এই করিডর, চীন-পাকিস্তানের সরকারি বক্তব্য এ রকমই। কিন্তু কিছু দিন আগেই একটি খবর ফাঁস করে বহুল প্রচারিত একটি মার্কিন সংবাদ মাধ্যম।

সেই রিপোর্টে বলা হয়, বাণিজ্য ও পরিকাঠামোর মুখোশের আড়ালে আসলে সামরিক বোঝাপড়া করছে চীন ও পাকিস্তান। এই করিডরের অন্তর্গত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলিতে যুদ্ধবিমান বানানোর চুক্তিও সেরে ফেলেছে বেইজিং ও ইসলামাবাদ।

গোয়াদর বিমানবন্দরেই একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বানানোর ঘোষিত প্রকল্প আছে চীন ও পাকিস্তানের। এই এলাকায় পণ্য মজুত, পরিবহন এবং উৎপাদনের জন্য জায়গা দেওয়া হবে বিভিন্ন চীনা কোম্পানিকে। সেই গোয়াদরেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে সৌদি আরবের তৈল শোধনাগার বানানোর সিদ্ধান্ত কীভাবে নিচ্ছে চীন, সেই প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

এই প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে, আমেরিকার অন্যতম বন্ধু দেশ হলো সৌদি আরব। তাই পাকিস্তানে নিজেদের প্রকল্পের চৌহদ্দিতে সৌদির এই উপস্থিতি খুব একটা স্বস্তির নয় চীনের কাছে, এমনটাই মনে করছেন পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞরা। কারণ পূর্ব চীন দিয়ে অন্য রুটে ভারত মহাসাগর পৌঁছতে হলেও চীনকে মার্কিন বাধার সামনে পড়তে হয় একাধিক আমেরিকাপন্থী দেশ থাকার কারণে। এবার অন্যতম মিত্র দেশ পাকিস্তানেও হাজির হলো সৌদি আরব।

আরপি