সেনা-আরাকান আর্মির যুদ্ধের পর বিক্ষোভে উত্তাল রাখাইন (ভিডিও)

ঢাকা, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯ | ১০ চৈত্র ১৪২৫

সেনা-আরাকান আর্মির যুদ্ধের পর বিক্ষোভে উত্তাল রাখাইন (ভিডিও)

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

রাখাইন থে‌কে সেনা প্রত্যাহার ও রাখাইন‌দের অধিকার আদা‌য়ে বিক্ষোভে উত্তাল সেখানকার জনগণ।

রাখাইনের ব‌ু‌থিডং, রা‌থিডং ও সিতও‌য়েসহ রাজ্য শহর ও শহরতলীগুলোতে প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিক্ষোভের একটি ভিডিও পরিবর্তন ডটকমকের হাতে এসেছে।

চার মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে স্লোগান দিতে দিতে যাচ্ছেন। অনেকের হাতে পতাকা দেখা গেছে। ভিডিওগুলো ঝাপসা হওয়ায় পতাকাগুলো রাখাইন আর্মির নাকি বার্মার জাতীয় পতাকা তা স্পষ্ট নয়।  

গত শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) দেশটির স্বাধীনতা দিবসের ভোরে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া রাখাইনের চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় সশস্ত্র আরাকান আর্মির সদস্যরা। তাদের হামলায় মিয়ানমারের সীমান্ত বাহিনী বিজিপির ১৩ সদস্য নিহত হন।

দ্য আরাকান আর্মির দাবি, ওই হামলায় তাদেরও দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।

মূলত গত ডিসেম্বর থেকেই সেখানে বৌদ্ধ গোষ্ঠীদের সংগঠন দ্য আরাকান আর্মি’র (এএ) সঙ্গে সেনাবাহিনীর যুদ্ধ শুরু হয়। ৪ জানুয়ারির হামলার পর আতঙ্কগ্রস্ত আড়াই হাজারের বেশি বৌদ্ধ নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসন দাবি করে সংগ্রাম করে আসছে আরাকান আর্মি।

২০১৭ সালে এই রাখাইনেই বর্বর সেনা অভিযানের মুখে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। অনেকেই নিহত হন। মুসলিম রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করা হয়।

জাতিসংঘ বলছে, আরাকান আর্মির সঙ্গে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের জের ধরে আরও আড়াই হাজার বেসামরিক নাগরিককে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে কাচিন প্রদেশের লাইজায় প্রতিষ্ঠা করা আরাকান আর্মি। যদিও তাদের জন্মস্থান রাখাইন রাজ্যে। এএ প্রতিষ্ঠায় পূর্ণ সমর্থন ছিল কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মির (কেআইএ)। আর ২০১৪ সালে এএ তাদের জন্মভূমি রাখাইনে ফেরার লক্ষ্য প্রকাশ করে।

মাত্র নয় বছর আগে ২৬ জন আরাকানি (রাখাইন) যুবক নিয়ে গঠিত হয়েছিল আরাকান আর্মি (এএ)। অথচ নয় বছরের ব্যবধানে এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজারে। যারা এখন তাদের জন্মভূমি রাখাইনে ঘাঁটি স্থাপনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

২০১৭ জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট দেয়, তাতে বলা হয়, মাদকের ডিলারদের সঙ্গে আরাকান আর্মির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

১৯৬২ সাল থেকেই আরাকানিদের কিছু সংগঠন অধিকার তথা অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন করতে থাকে। যেমন- দ্য আরাকান লিবারেশন পার্টি এবং এর সশন্ত্র শাখা দ্য আরাকান লিবারেশন আর্মি। কিন্তু তারা ব্যাপকভাবে আরাকানিদের মন জয় করতে পারেনি, যেটা পেরেছে আরাকান আর্মি।

এর অন্যতম কারণ হলো- আরাকান আর্মি জনগণের মাঝে তাদের দেশপ্রেমিক তথা জাতীয়তাবাদী হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। সেইসঙ্গে আরাকান রাজত্বের হৃত গৌরব তথা তাদের সেই স্বর্ণযুগ পুনরুদ্ধারের স্বপ্নও তারা মানুষের মাঝে তৈরি করতে পেরেছে।

এএসটি/

আরও পড়ুন...
আরাকান আর্মি: তাতমাদোর জন্য শক্তিশালী এক নতুন হুমকি
রাখাইনে পুলিশ পোস্টে আরাকান আর্মির হামলার ভিডিও
রাখাইনে বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের হামলা, ১৩ পুলিশ নিহত
১৪ পুলিশ, ৪ নারীকে ছেড়ে দিল আরাকান আর্মি