রাখাইনে পুলিশ পোস্টে আরাকান আর্মির হামলার ভিডিও

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

রাখাইনে পুলিশ পোস্টে আরাকান আর্মির হামলার ভিডিও

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৫, ২০১৯

রাখাইন রাজ্য থেকে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম তাড়িয়েও স্বস্তিতে নেই মিয়ানমার। নতুন করে গত ডিসেম্বর থেকে সেখানে বৌদ্ধ উগ্রপন্থী গোষ্ঠী দ্য আরাকান আর্মি’র (এএ) সঙ্গে সেনাবাহিনীর যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স খবর দিয়েছে, যুদ্ধের মধ্যে আতঙ্কগ্রস্ত আড়াই হাজারের বেশি বৌদ্ধ নৃগোষ্ঠীর সদস্য এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

এরই মধ্যে শুক্রবার দেশটির স্বাধীনতা দিবসের ভোরে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া রাখাইনের চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় সশস্ত্র আরাকান আর্মির সদস্যরা। তাদের হামলায় মিয়ানমারের সীমান্ত বাহিনী বিজিপির ১৩ সদস্য নিহত ও ৯ জন আহত হন।

হামলা করে বিজিপির ১৪ সদস্যকে ধরেও নিয়ে গেছে তারা। যদিও আরাকান আর্মি দাবি করেছে, আটকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করা হবে, তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এবং হামলাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মুখপাত্র এ হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন।

দ্য আরাকান আর্মির দাবি, ওই হামলার ঘটনায় তাদেরও দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।

মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ পোস্টে আরাকান আর্মির এই হামলার এক্সক্লুসিভ ভিডিও পরিবর্তন ডটকমের হাতে এসেছে। এতে আউট পোস্টে মুহুর্মুহু ভারী গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে।

আরাকান আর্মির সদস্যরা গুলি করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের মধ্যে আলাপ করছেন। এক পর্যায়ে তারা পুলিশ পোস্টে ঢুকে পড়েন।

ভিডিওতে মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশের এক সদস্যের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। আর আরাকান আর্মির সশস্ত্র সদস্যরা ওই পুলিশ পোস্টের দখল নিয়ে পায়চারি করতে থাকেন।

ভিডিও’র শেষদিকে বেশ কয়েকজন আহত বিজিপি সদস্যকে দেখা যায়। সম্ভবত তাদেরকে আরাকান আর্মি বন্দি করে। এতে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসাও করছেন সশস্ত্র বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের সদস্যরা।

পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসন দাবি করে সংগ্রাম করে আসছে আরাকান আর্মি।

২০১৭ সালে এই রাখাইনেই বর্বর সেনা অভিযানের মুখে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। অনেকেই নিহত হন। মুসলিম রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করা হয়।

জাতিসংঘ বলছে, আরাকান আর্মির সঙ্গে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের জের ধরে আরও আড়াই হাজার বেসামরিক নাগরিককে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র খিন থু খা রয়টার্সকে বলেন, তারা চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছে ও পরে ১৩ ‘শত্রু’র মৃতদেহ ছিনিয়ে নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ১৪ জনকে আটক করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

খিন থু খা বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত কয়েক সপ্তাহে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যে হামলা চালিয়েছে, তার জবাবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।’

তবে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ঝাও মিন তুন রয়টার্সকে বলেন, শুক্রবার আরাকান আর্মির এই হামলার জবাব দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

যে চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা হয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া। সেনা মুখপাত্রের ভাষ্যে, নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অঞ্চলে সেনা অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তবে কতজন এবারের হামলায় নিহত হয়েছে, সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

ঝাও মিন তুন বলেন, ‘ওই এলাকায় বৌদ্ধ নৃ গোষ্ঠীরা বসবাস করে এবং তারা মিয়ানমারের নাগরিক। এরা রাখাইনে থাকলেও রোহিঙ্গা নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের ৭১ বছর পূর্তিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কয়েক মিনিট পর থেকেই হামলা শুরু হয়।’

যদিও আরাকান আর্মির মুখপাত্র খিন থু খা স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে এই হামলার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন।

রাখাইনে বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো স্বাধীন নই। এটা আমাদের স্বাধীনতা দিবস নয়।’

আরাকান আর্মির অভিযোগ, পুলিশ পোস্টগুলোকে সামরিক বাহিনী আর্টিলারি হিসেবে ব্যবহার করছে। দুই সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী পুলিশকে যুদ্ধের মধ্যে নিয়ে আসে এবং সারা দিন ধরে সামরিক হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণ করা হয়।

এমএইচ-আইএম