মহাকাশে গেল ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী স্যাটেলাইট ‘বিগ বার্ড’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

মহাকাশে গেল ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী স্যাটেলাইট ‘বিগ বার্ড’

পরিবর্তন ডেস্ক ২:০৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

মহাকাশে গেল ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী স্যাটেলাইট ‘বিগ বার্ড’

ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী স্যাটেলাইট জিস্যাট-১১ সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। ‘বিগ বার্ড’ নামে অভিহিত স্যাটেলাইটটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে বুধবার মহাকাশে প্রেরণ করা হয়।

৫ হাজার ৫৮৪ কিলোগ্রাম ওজনের এই ‘বড় পাখি’ মহাশূন্যে পাঠানো ভারতের সবচেয়ে ভারী  উপগ্রহও বটে, জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

এর আগে মে মাসেও একবার বিগ বার্ড উৎক্ষেপণের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। এবার দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এটি মহাকাশ পাঠাতে সফল হল ভারত।

এক যোগাযোগ বিশারদ এনডিটিভিকে জানিয়েছেন এই উপগ্রহ মহাকশে থাকা ভারতের অন্য ৩০ টি উপগ্রহের সমকক্ষ।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, দক্ষিণ আমেরিকার ফ্রেঞ্চ গায়ানার ফরাসি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র স্পেসপোর্ট থেকে আকাশে পাঠানো হয়েছে বিগ বার্ডকে। এই কৃত্রিম উপগ্রহের জন্য নিশ্চিত ভাবেই প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ভারত। আরও উন্নত হবে দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এরপর থেকে ভারতের অধিকাংশ বিমানেই মিলবে ইন্টারনেট পরিষেবা। পাশাপাশি কেবল দিয়ে ইন্টারনেট যেখানে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়, সেই সব দূর্গম জায়গাতেও পাওয়া যাবে ইন্টারনেট পরিষেবা। অর্থাৎ, আরও কার্যকরী হবে ডিজিটাল ইন্ডিয়া।

ইসরো প্রধান কে শিভান জানিয়েছেন, ‘জি স্যাট -১১ হল পরবর্তী প্রজন্মের যোগাযোগ বা কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট। সারা ভারতে ব্রডব্যান্ড পরিষেবার উন্নতিতে এই স্যাটেলাইটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। নতুন প্রজন্মের বিভিন্ন পরিষেবা এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাবে দেশের মানুষ।’   

জি স্যাট-১১, যাকে বিজ্ঞানীরা ডাকছেন ‘বিগ বার্ড’ নামে, বানাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি  রুপি। তার জীবনকাল পনেরো বছর, এমনটাই জানাচ্ছে ইসরো। এই মুহূর্তে আকাশে ভাসমান সবকটি ভারতীয় কৃত্রিম উপগ্রহের ক্ষমতা যোগ করলে যা হয়, তার থেকেও বেশি ক্ষমতা ‘বিগ বার্ড’-এর। ৫,৮৫৪ কিলোগ্রাম ওজনের কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর ক্ষমতা এই মুহূর্তে ভারতের উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলিতে নেই। সেই কারণে ভাড়া করা হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার ফরাসি উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি, সংবাদ সংস্থাকে এমনটাই জানিয়েছে ইসরো।

এমআর/এএসটি