রাজা পাকশের প্রতি অনাস্থা, শ্রীলঙ্কার সংকট ঘনীভূতের শঙ্কা

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

রাজা পাকশের প্রতি অনাস্থা, শ্রীলঙ্কার সংকট ঘনীভূতের শঙ্কা

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৮

রাজা পাকশের প্রতি অনাস্থা, শ্রীলঙ্কার সংকট ঘনীভূতের শঙ্কা

শ্রীলঙ্কার নব-নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী রাজা পাকশের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব দেশটির পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। বিরোধী দলের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আলজাজিরা এ খবর দিয়েছে। এর ফলে দেশটির চলমান রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যের আনা প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের জায়গায় পাকশেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। তখন থেকেই দেশটিতে শুরু হয় রাজনৈতিক সংকট।

এর আগে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে আগাম নির্বাচনের যে নির্দেশ জারি করেন তাও গতকাল মঙ্গলবার বাতিল করে দেয় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

তার পরই আজ বুধবার পার্লামেন্টে এ অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলো।

স্পিকার কারু জয়সুরিয়া বলেন, পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য অর্থাৎ ২২৫ জন রাজা পাকশের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন।

৭২ বছর বয়সী পাকশে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় এক দশক শ্রীলঙ্কা শাসন করেন। গৃহযুদ্ধে বন্ধে তামিল গেরিলাদের ওপর নৃশংস অভিযান ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে পাকশের বিরুদ্ধে।

বিরোধী দলীয় নেতা আর সাম্বান্থান রয়টার্সকে বলেন, একটি বিরোধী দল পাকশের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব আনে এবং অধিকাংশ সদস্য তাতে সমর্থন দেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে স্পিকার ভোটের আহ্বান জানানোর ঠিক আগ মুহূর্তে বের হয়ে যান পাকশে ও তার ছেলে নমল পাকশে।

এ সময় পাকশের অনুসারী সংসদ সদস্যরা ভোট বানচালের চেষ্টা চালালেও স্পিকার তা উপেক্ষা করে ভোট পরিচালনা করেন।

তবে এই অনাস্থা প্রস্তাব পাস হওয়ার অর্থ এই নয় যে, বিক্রমাসিংহে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টিকে গেছেন, যদিও তার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ। বরং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নির্ধারণের ক্ষমতা এখনও প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার হাতে।

উল্লেখ্য, ২৬ অক্টোবর প্রেসিডেন্টের ওই সিদ্ধান্তের পর দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে একই সঙ্গে দুইজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কারণ বিক্রমাসিংহে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন দখল করে রাখেন এবং পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান।

ওই ঘটনার পর দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। কিন্তু বুধবারের ঘটনার পর সে সংকট আরো ঘনীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শ্রীলঙ্কার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম শুধু চীন। রাজা পাকশের নিয়োগকে একমাত্র বেইজিংই সমর্থন দিয়েছে।

এর আগে প্রায় এক দশকের শাসনামলে পাকশে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনের জন্য ব্যাপকভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

আরপি    

আরও পড়ুন...
পার্লামেন্ট স্থগিতের ঘোষণা শ্রীলংকার সর্বোচ্চ আদালতে বাতিল