রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে ফ্রান্স মুখ খুলতেই বিপাকে মোদি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে ফ্রান্স মুখ খুলতেই বিপাকে মোদি

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮

রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে ফ্রান্স মুখ খুলতেই বিপাকে মোদি

নির্বাচনের আগে বড়সড় ধাক্কা খেলেন ‘ক্লিন ইমেজের’ অধিকারী হিসেবে সুনাম কুড়ানো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অভিযোগ, ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয়ে দেনায় জর্জরিত অনিল আম্বানীর রিলায়্যান্স ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজকে সহযোগী প্রতিষ্ঠান করতে প্রভাব খাটিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তিতে সহযোগী সংস্থা হিসেবে ভারতের রিলায়্যান্স ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজকে বেছে নেয়ার বিষয়ে ফরাসি সরকারের কোনো ভূমিকাই ছিল না।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো চুক্তিতে অন্য দেশের কোন সংস্থাকে তারা সহযোগী সংস্থা হিসেবে বেছে নেবে, সে ব্যাপারে ফরাসি সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা রয়েছে। সেখানে ফরাসি সরকার নাক গলায় না।

এতে আরও বলা হয়, ভারতের সরকারি ও বেসরকারি বহু সংস্থার সঙ্গেই বিভিন্ন ফরাসি সংস্থার চুক্তি রয়েছে। আর সেই চুক্তিগুলো হয়েছে ভারতীয় আইন মেনে।

তবে রাফাল যুদ্ধবিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘দাসো অ্যাভিয়েশন’ এক বিবৃতিতে বলেছে, চুক্তিটি ভারত ও ফ্রান্স এই দুই সরকারের মধ্যে হলেও, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সহযোগী সংস্থা হিসেবে ভারতের রিলায়্যান্স ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজকে তারাই বেছে নিয়েছে।

রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে শুরুর বোমাটি অবশ্য ফাটিয়েছেন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মোদি সরকারই ফরাসি সরকারকে বলেছিল- অনিল আম্বানীর রিলায়্যান্স ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজকে রাফাল চুক্তিতে মনোনীত করতে।

সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ‘মিডিয়াপার্ট’র ফরাসি সংস্করণের দাবি, ওলাঁদ তাদের বলেছেন- ‘ভারত সরকার আমাদের ওপরে রিলায়্যান্সকে চাপিয়ে দিয়েছিল। আমাদের সামনে তা মেনে নেয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।’

ওলাঁদ প্রেসিডেন্ট থাকাকালীনই ৫৮ হাজার কোটি টাকার রাফাল চুক্তি হয়। তার বক্তব্যের সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বক্তব্য মিলে যায়।

রাহুলের দাবি, যুদ্ধবিমান তৈরির কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বিপুল দেনায় জর্জরিত অনিলের সংস্থাকে রাফাল যুদ্ধবিমানের টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছেন মোদিই।

গত ২০১৫ সালে ওলাঁদের আমলেই নরেন্দ্র মোদির ফ্রান্স সফরে আকস্মিক ৩৬টি রাফাল কেনার চুক্তি ঘোষণা হয়। পরের বছর ওলাঁদ দিল্লি এলে চুক্তি সই হয়।

কংগ্রেসের দাবি, মোদি প্রায় তিন গুণ বেশি দামে ৩৬টি রাফাল কেনায় কোষাগারের ৪১ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। বাকি ৯০টি বিমান ভারতে তৈরির টেন্ডার পেয়ে অনিলের রিলায়্যান্স আয় করতে যাচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা।

এমএসআই