তিন তালাক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫

তিন তালাক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

তিন তালাক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে

লোকসভায় পাস হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় পেশ হয়নি রাজ্যসভায়। সেই তিন তালাক নিয়ে এবার অর্ডিন্যান্স জারি করলো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অর্ডিন্যান্স পাস হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ এ খবর জানান।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্ডিন্যান্সে রাষ্ট্রপতির সইয়ের পরই তিন তালাক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এদিকে, লোকসভা ভোটের মুখে অর্ডিন্যান্স জারি করে বিজেপি মুসলিম সম্প্রদায়ের মন জয়ের চেষ্টা করলো বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সুপ্রিম কোর্ট আগেই তিন তালাককে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। শীর্ষ আদালতের রায়কে মর্যাদা দিতেই তৈরি হয় মুসলিম উইমেন (প্রটেকশন অব রাইটস অন ম্যারেজ) বিল ২০১৭। গত বাদল অধিবেশনেই লোকসভায় পেশ হয় সেই বিল। পাসও হয়ে যায়। কিন্তু বিরোধীরা বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি তোলে। এ ছাড়া আরও কিছু জটিলতায় শেষ পর্যন্ত রাজ্যসভায় পেশ হয়নি এই বিল। তাই এবার অর্ডিন্যান্স জারি করে তিন তালাককে আইনি স্বীকৃতি দিলো কেন্দ্র।

অর্ডিন্যান্সের নিয়ম অনুযায়ী, এখন শুধু রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সই বাকি। তারপরই তিন তালাক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে সংসদের উভয় কক্ষেই অর্ডিন্যান্স পাস করাতে হয়। সেটা সম্ভব না হলে আবার নতুন করে জারি করতে হয় অর্ডিন্যান্স। লোকসভা ইতিমধ্যেই পাস করেছে। এবার শীতকালীন অধিবেশনেই এই বিল পাস হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছরের আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাককে অবৈধ ঘোষণা করে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মুসলিম সম্প্রদায়ের এই বিবাহ বিচ্ছেদ প্রথা মহিলাদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করে। তার পর থেকেই বিল তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অন্যদিকে, বিল রাজ্যসভায় পেশ না হওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বহুবার বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেছেন, বিরোধীদের জন্যই রাজ্যসভায় বিল পেশ করা যায়নি।

বিরোধীদের পাল্টা অভিযোগ, সরকারই চায় না, সংসদে পাস হোক বিলটি। অর্ডিন্যান্স জারির পর এদিন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, ‘আমরা আলোচনায় রাজি ছিলাম। কিন্তু সরকার বিরোধীদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনাই করেনি। এটাই মোদি সরকারের কাজ করার ধরন।’

রাজনৈতিক চর্চা যাই হোক, আপাতত মুসলিম মহিলাদের অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট যে যুগান্তকারী রায় দিয়েছিল, এ দিনের অর্ডিন্যান্স সেই পদক্ষেপে আরও এক ধাপ এগুলো বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরপি