আদর্শ বধূ তৈরির পাঠ্যক্রম চালু করলো বরকতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়!

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

আদর্শ বধূ তৈরির পাঠ্যক্রম চালু করলো বরকতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়!

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

আদর্শ বধূ তৈরির পাঠ্যক্রম চালু করলো বরকতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়!

যুগের চাহিদা অনুযায়ী মানব সমাজ গড়তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পাঠ্যপুস্তুকে বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে। সময়ের প্রয়োজনে তা আবার পরিবর্তন করে নতুন কিছু অন্তর্ভুক্ত করে। তেমনি একটি ব্যতিক্রমী বিষয় পাঠ্যপুস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ভারতের ভূপালে।

নতুন এই পাঠ্যক্রমের নাম ‘আদর্শ বধূ’। ভূপালের বরকতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, মহিলাদের সামাজিক উন্নতির লক্ষ্যেই আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নয়া পাঠ্যক্রম শুরু হবে। বিয়ের পর নতুন পরিবেশে কীভাবে মানিয়ে চলতে হয়, তিন মাসের এই পাঠ্যক্রমে মূলত সেই বিষয়গুলিই শেখানো হবে মেয়েদের। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভি সি গুপ্ত বলেছেন, মহিলাদের উন্নতির উদ্দেশ্যে এই পাঠ্যক্রম খুবই ব্যতিক্রমী এবং মহান চিন্তা। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই ভাবনা তার মাথায় আসে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই পাঠ্যক্রমে অংশ নিলে সমাজের মহিলারা আরও শক্তিশালী হবেন বলে আত্মবিশ্বাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ব, সমাজতত্ত্ব এবং মানবী বিদ্যা বিভাগের অধীনে এই পাঠ্যক্রম চালু হবে। শুরুতে ৩০ জন ছাত্রী দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে বরকতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় এই ভাবনাকে মহান ভাবলেও তা মানতে নারাজ অনেকেই। ‘মহিলাদের উন্নতি দূরের কথা, সুপরিকল্পিতভাবে তাদের মনে সামন্ততান্ত্রিক ও পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা-ভাবনার বীজ ঢুকিয়ে দেওয়াই এই পাঠ্যক্রমের উদ্দেশ্য,’ বলে মনে করেন মনস্তত্ত্ববিদ রঞ্জিতা বিশ্বাস। 

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবী বিদ্যার গবেষক রাজলক্ষী ঘোষ জানান, ‘এই ধরনের পাঠ্যক্রম মানবীবিদ্যার মূল উদ্দেশ্যকেই লঙ্ঘন করছে। আসলে পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা-ভাবনারই ফসল এই ধরনের পাঠ্যক্রম।’

‘আদর্শ বধূ’ পাঠ্যক্রম চালু হলেও ‘আদর্শ স্বামী’ পাঠ্যক্রম চালু হচ্ছে না কেন সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

আরপি