হীরার লাঞ্চবক্স চুরি করে তাতেই খানাপিনা করত চোরেরা

ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

হীরার লাঞ্চবক্স চুরি করে তাতেই খানাপিনা করত চোরেরা

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

হীরার লাঞ্চবক্স চুরি করে তাতেই খানাপিনা করত চোরেরা

স্বর্ণ ও হীরায় খচিত লাঞ্চবক্স চুরি করে সেটিকেই খাবারের কাজে ব্যবহার করত চোরেরা। শুধু লাঞ্চবক্সই নয়, হায়দ্রাবাদের রাজবংশের ব্যবহৃত লাঞ্চবক্সের সাথে স্বর্ণের চায়ের কাপ-পিরিচ ও চামচও চুরি করে নিয়ে ব্যবহার করা শুরু করেছিল তারা।

ভারতের পুলিশ জানায়, গত সপ্তাহে এসব লাঞ্চবক্স, কাপ-পিরিচ ও চামচ চুরি করে চোরেরা। এসব মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারসহ হায়দ্রাবাদ থেকে দুই চোরকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রায় সাত মিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণ-হীরা খচিত এসব সামগ্রীর সর্বশেষ মালিক ছিলেন হায়দ্রাবাদের শেষ নিজাম (রাজা) মীর ওসমান আলী খান। এক সময় তিনি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি।

পুলিশ জানায়, চুরিকৃত ঐতিহাসিক এসব মূল্যবান সামগ্রী বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজতে মুম্বাই আসে এ দুই চোর। সেখানে এক ফাইভস্টার হোটেলে আলিশানভাবে কিছুদিন ধরে থাকছিলেন তারা। নিজেদের খানাপিনার কাজেও ব্যবহার করতেন এসব দামী তৈজসপত্র। তবে সেখানে ক্রেতা পেতে ব্যর্থ হয়ে তারা হায়দ্রাবাদে ফেরত আসলে গ্রেফতার হন।

নিজাম প্রাসাদ থেকে এসব মূল্যবান তৈজসপত্র চুরির সময় ৩২টি সিসিটিভিও তারা খুলে ফেলেন। যার কারণে চোরদের ধরতে বেশ বেগ পেতে হয় পুলিশের। তবে প্রাসাদের কাছে এক সিসিটিভিতে দেখা যায়, দুইজন লোক একটি মোটরবাইকে করে পালিয়ে যায়। কয়েক দিন পর পুলিশ বাইকটি উদ্ধার করে এবং এ দুই চোরকে শনাক্ত করে।

উদ্ধারকৃত এসব সামগ্রী নিজাম জাদুঘরে ফিরিয়ে দেয়া হবে। ২০০০ সাল থেকে হায়দ্রাবাদ রাজপরিবারের এ সংগ্রহশালা জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়।

১৯৩৭ সালে ওসমান আলী খান নিজের ব্যবহার করা এসব সামগ্রী সংগ্রহশালায় দান করেন। ভারতের সবচেয়ে বড় প্রিন্সলি স্টেট হায়দ্রাবাদ সর্বশেষ শাসন করেন তিনি। পরবর্তীতে এ ভূখণ্ডের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ভারত সরকার।

১৯৬৭ সালে ওসমান আলী খান মারা যান। তার সংগ্রহের মধ্যে আছে জ্যাকবস ডায়মন্ড নামের একটি বড় হীরাও। একটি ডিমের সমান এ হীরাটি তার অন্যান্য সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান ও উল্লেখযোগ্য হিসেবে ধরা হয়।

সূত্র: বিবিসি

আরজি/এএসটি