সার্কের পুনর্জাগরণকে বিমসটেকের সাফল্যের শর্ত বানাচ্ছে নেপাল

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

সার্কের পুনর্জাগরণকে বিমসটেকের সাফল্যের শর্ত বানাচ্ছে নেপাল

পরিবর্তন ডেস্ক  ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

সার্কের পুনর্জাগরণকে বিমসটেকের সাফল্যের শর্ত বানাচ্ছে নেপাল

নেপাল বিমসটেকের অগ্রগতির শর্ত হিসেবে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ভারতের দ্য ইকোনমিক টাইমস পত্রিকা।

সোমবার পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমসটেক সম্মেলন আয়োজন করার এক সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তানের অঙ্গুলি হেলনে তারা সার্ককে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছে।

সাবেক নেপালি প্রধানমন্ত্রী পিএম প্রচণ্ড সম্প্রতি শেষ হওয়ায় দিল্লি সফরে জানান, নেপাল সার্ককে 'পুনর্জীবিত' করতে চায়। একই সঙ্গে নেপাল চায় সংস্থাটির বাদ পড়ে যাওয়া সম্মেলন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করা হোক।

পাকিস্তানের ইমরান খানের সরকারও এই একই দাবী জানিয়েছেন এবং তারা সার্ক সম্মেলনে ভারতকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে দিল্লীর সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা করেছেন ।

নেপাল বর্তমানে সার্কের চেয়ার বা সভাপতি রাষ্ট্র এবং সম্মেলন আয়োজনের পর পাকিস্তান হবে সার্কের সভাপতি।

শুক্রবার এক বিশেষ সভায় বক্তব্য দেয়ার সময় প্রচণ্ড আরও বলেন, সার্ক ও বিমসটেক একে অপরের পরিপূরক এবং একটি আরেকটির বিকল্প হতে পারে না। শনিবার ভারতের পুনেতে অনুষ্ঠিতব্য বিমসটেকের সামরিক মহড়া থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় নেপাল।   

এর আগে বৃহস্পতিবার নেপাল চীনের সব বন্দর ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। এর  ফলে বাণিজ্যের জন্য নেপালকে আর ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না।

প্রচন্ড দাবী করেন, নেপালের রাজতন্ত্র ভারত ও চীনকে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলিয়ে দিলেও গণতান্ত্রিক নেপাল দিল্লি ও বেইজিং উভয়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক চায়। তিনি বলেন ইন্দো-নেপাল ও সিনো-নেপালের সঙ্গে কোনো তুলনা চলে না কারন কাঠমান্ডুর সঙ্গে দিল্লীর অসাধারণ সম্পর্ক রয়েছে।

'ভারতের কয়েকটি প্রতিবেশি দেশ বিমসটেকের অগ্রগতিতে ঈর্ষান্বিত। সার্ক বিমসটেকের বিকল্প নয়। দ্বিপাক্ষিক এবং বিবিআইএন প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেপালে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে,' নাম গোপন রাখার শর্তে ইকোনমিক টাইমসকে বলেন বিমসটেকের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণকারী এক বিশেষজ্ঞ।

ভারতীয় সেনাবাহিনী জুন মাসে প্রথম বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর যৌথ সামরিক মহড়ার প্রস্তাব দেয়। এরপর বিমসটেকের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা নতুন দিল্লীতে এ বিষয়ে প্রাথমিক বৈঠক করে।

যৌথ সামরিক মহড়া চলাকালে বিমসটেকের সেনাপ্রধানরাও বৈঠকে বসবেন।

ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাসহ বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা আসার পর মহড়ায় অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানায় কেপি অলির সরকার।

প্রধানমন্ত্রী অলি নিজে নেপালের মহড়ায় অংশগ্রহণে পক্ষে থাকলেও, দলের অন্যান্য সদস্যরা তার বিরোধিতা করেন।  অন্যকোনো আঞ্চলিক শক্তি নেপালের সেনাবাহিনীকে মহড়ায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার জন্য ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের প্রভাবিত করেছে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রথমবারের মতো জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠকের দুই বছরের মধ্যে বিমসটেক যৌথ মহড়ার আয়োজন করতে পারাটা নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের পরিপক্কতার লক্ষণ। আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সার্ক কখনো এই পর্যায়ে উপনীত হতে পারেনি।

আগস্ট ৩০-৩১ কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত তারিখে বিমসটেকের চতুর্থ সম্মেলনে জল ও স্থলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সীমান্তের দুই পারে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডকে আমলে সংজ্ঞায়িত করে সার্ক এমন অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করা হয় ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে।

সার্কের মধ্যেও এধরনের যোগাযোগের প্রস্তাব পাকিস্তান জেদের জন্য আটকে গেছে। সার্কেও তারা এই সম্পর্কিত বিভিন্ন চুক্তির অনুমোদন দেয়নি। ভারতই উপ-আঞ্চলিক জোট হিসেবে বিমসটেককে পুনরুজ্জীবিত করার মধ্যমে এই অঞ্চলকে ইন্দো-প্যাসিফিকের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।

এমআর/এএসটি