মিয়ানমারের সেনা-পুলিশ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

মিয়ানমারের সেনা-পুলিশ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮

মিয়ানমারের সেনা-পুলিশ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর জাতিগত নিধন অভিযানের প্রতিবাদে দেশটির কয়েকজন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং দুটি সেনা ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়ের আরোপিত ওই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

গত বছরের ২৫ আগস্ট কয়েকটি পুলিশ পোস্টে বিদ্রোহীদের হামলাকে অজুহাত করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বর সাঁড়াশি অভিযান চালায় বার্মিজ (মিয়ানমারের আরেক নাম) আর্মি। এতে ২৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নিহত এবং কয়েক লাখ আহত হয়েছে। আর জীবন বাঁচাতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে সাবের্ক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন দায়িত্বে থাকাকালে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে অভিহিত করে ওয়াশিংটন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপকে যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেছেন সমালোচকরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক কমান্ডার অং কিয়াও জ, খিন মং সোয়ে ও খিন হ্লাইং এবং সীমান্ত পুলিশের কমান্ডার থুরা স্যান লইনের বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৩৩ ও ৯৯ পদাতিক ডিভিশনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

কিন্তু মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বার্মিজ আর্মির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এমনকি তাদের এই নৃশংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ কিংবা গণহত্যা বলেও অভিহিত করেনি ওয়াশিংটন।

এদিকে, মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনী যে সহিংসতা চালিয়েছে তার ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২৫ আগস্ট রক্তাক্ত ওই অভিযানের এক বছর পূর্ণ হবে এবং ওইদিন এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রয়টার্স বলছে, সর্বশেষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত মিয়ানমার দূতাবাসে অনুরোধ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, রোহিঙ্গা সংকটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়নি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, শুক্রবারের নিষেধাজ্ঞায় যদিও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জেনারেলরা রয়েছেন, কিন্তু দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক রিচ ওয়ের শুক্রবারের মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেক বিলম্বিত পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

আরপি