পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে জিহাদের পরিকল্পনা ছিল বোমারু মিজানের!

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫

পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে জিহাদের পরিকল্পনা ছিল বোমারু মিজানের!

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০১৮

পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে জিহাদের পরিকল্পনা ছিল বোমারু মিজানের!

চেহারা নিতান্তই সাদামাঠা। কিন্তু তার জঙ্গি ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে তদন্তকারীরা বিস্মিত! তারা জেনেছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামকে কেন্দ্র করে জিহাদের প্রস্তুতি নিয়েছিল নব্য জেএমবি জঙ্গি নেতা কওসার ওরফে বোমরু মিজান। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ব্যাঙ্গালুর থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর কওসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ সব তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দারা জানান, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়াশি অভিযানের মুখে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) সে দেশে ধাক্কা খাওয়ার পরে এ দেশে ঘাঁটি সরিয়ে আনে কওসার ও তার সহযোগী সালাউদ্দিন সালেহিন। গত জানুয়ারিতে দলাই লামার পরিদর্শনের আগে বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ব্যাপক আকারের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গটিকে তুলে ধরতে চেয়েছিল কওসার।

গোয়েন্দারা জানান, জিহাদের পথে হাঁটার জন্য আদর্শের ক্ষেত্রেও কিছু অদলবদল করে নিয়েছিল কওসারেরা। পুরনো জেএমবি ছিল আল কায়দা ঘনিষ্ঠ। নব্য জেএমবি কিন্তু ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর মতাদর্শে বিশ্বাসী। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ঝাড়খণ্ডের কোথায় কোথায় আইএসের আদর্শে বিশ্বাসী নব্য জেএমবি মডিউল রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণের পরিকল্পনায় ব্যর্থ হওয়ার পরে কওসার, তুহিনেরা শ্রমিক সেজে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে ছিল। কওসার কখনও কলের মিস্ত্রি, কখনও গাড়ির মিস্ত্রি, কখনও ফেরিওয়ালা সেজে থাকত। লুকিয়ে থাকার জন্য তারা বেছে নিয়েছিল বাঙালি শ্রমিকদের মহল্লা। তাদের সংস্রবে সেই শ্রমিকের মধ্যে জঙ্গি মনোভাব ছড়িয়েছে কি না, সেটাও যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বছরখানেক আগে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে একটি বৈঠক করে কওসার ও সালেহিন। মুর্শিদাবাদ, মালদহের মতো সীমান্ত জেলায় বেশ কিছু মডিউলও তৈরি করেছে তারা।

বুধবার দুপুরে ঝাড়খণ্ডের পাকুড় থেকে দেলোয়ার হাসান ওরফে আলি ওরফে উমর নাকে আরেক জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে লালবাজারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ওই জঙ্গি মালদহের কালিয়াচকের বাসিন্দা। কলকাতা পুলিশ আগেও পয়গম্বর শেখ-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছিল।

সোমবার রাতে ব্যাঙ্গালুরুতে কওসারকে গ্রেফতার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। কয়েক দিন আগেই কেরালে ধরা পড়েছে কওসারের সহযোগী তুহিন ও আব্দুল করিম। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই কওসারের সন্ধান মেলে।

২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের অন্যতম কওসারকে আপাতত বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। পটনায় এনআইএর হেফাজতে রয়েছে সে।

জিজ্ঞাসাবাদে কওসার ওরফে বোমা মিজান জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিল সে। কখনও কলের মিস্ত্রি, কখনও বা কারিগর সেজে।

বাংলাদেশি নাগরিক কওসার জেএমবির সূচনা পর্ব থেকেই ওই সংগঠনের নেতা। বোমা বানানোর দক্ষতার জন্য তার নাম হয় বোমারু মিজান। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে প্রিজন ভ্যান থেকে পালায় সে। আসে মুর্শিদাবাদে। বীরভূমে বিয়েও করে। একটি মাদ্রাসায় পড়ানোর আড়ালে জঙ্গি সংগঠনের শাখা খুলতে শুরু করে সে। বেলডাঙাতেই তার সঙ্গে থাকত হাতকাটা সোহেল মাহফুজ ও সাকিল গাজি নামে দুই জেএমবি নেতা। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, বর্ধমানের পরে শাখা ছড়ায় ঝাড়খণ্ডেও। ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ে জেএমবির একাধিক ঘাঁটি আছে বলে জানায় এনআইএ।

এসবি

আরও পড়ুন...
বাংলাদেশ-ভারতে বোমা মিজানের যত জঙ্গি কার্যক্রম
ভারতীয় গোয়েন্দাদের যেভাবে নাকানি-চুবানি খাওয়াতেন বোমারু মিজান!