নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন

পরিবর্তন ডেস্ক ২:০০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০১৮

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন

আইনি জটিলতায় পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা। এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নেপালের স্থানীয় গণমাধ্যম। দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৯ সালের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা সম্পর্কিত মন্ট্রিল কনভেনশন অনুযায়ী বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা। যা অর্থের হিসেবে জন প্রতি ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের বেশি হতে পারে।

এই ক্ষতিপূরণের পুরোটাই দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স বহন করে। অবশ্য ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ এই কনভেনশনে সই করলেও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি। এদিকে নেপাল ওই কনভেনশনে স্বাক্ষরই করেনি।

এই কারণে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ নিহতদের স্বজনদের এই ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয় বলেও মাই রিপাবলিকার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়।

এই বিষয়ে নেপালের এভিয়েশন আইন বিশেষজ্ঞ হরি ভক্ত শ্রেষ্ঠা জানান, মন্ট্রিয়াল কনভেনশনটি বিমানে আরোহণ করা মানুষদের জন্য যেমন আর্থিক নিরাপত্তার সুরক্ষা দেয়, তেমনই প্রতিটি এয়ারলাইন্সকেও সুরক্ষা এবং বাধ্যবাধকতার বিষয়টি সব সময় স্মরণে রাখা এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দিয়ে থাকে।

তবে বিশ্বের সব দেশ এখনও এই কনভেনশন মানছেন না। যা আসলে বিমানের আরোহীদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টিকে অনিশ্চিত অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।  

অবশ্য মন্ট্রিল কনভেনশনের শর্ত অনুযায়ী অর্থ না পেলেও সব এয়ারলাইন্সের বীমা বাধ্যতামূলক বলে কিছু ক্ষতিপূরণ পাবেন নিহতদের স্বজনরা।

গত সোমবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। বাকিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতলে ভর্তি করা হয়।

বিমানটিতে মোট ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপের ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭, নারী ২৮ ও দু’জন শিশু ছিল।

কেবিএ/