ক্যাপ্টেনকে রানওয়ের ভুল তথ্য দেয়ায় বিমান বিধ্বস্ত!

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

ক্যাপ্টেনকে রানওয়ের ভুল তথ্য দেয়ায় বিমান বিধ্বস্ত!

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:১৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৮

ক্যাপ্টেনকে রানওয়ের ভুল তথ্য দেয়ায় বিমান বিধ্বস্ত!

কাঠমান্ডু ত্রিভুবন বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুম থেকে ক্যাপ্টেনকে একেকবার একেক রানওয়ে অবতরণের তথ্য দেয়ায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেছে ইউএস-বাংলা। ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে সাংবাদিকদের কাছে এমন দাবি করেন।

বিমান বিধ্বস্তের কারণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পূর্বেই ক্যাপ্টেন আবিদের সঙ্গে কাঠমান্ডু (ত্রিভুবন) এয়ারপোর্টের এটিসির সঙ্গে যে কথপোকথন হয় সেটা ইউটিউবে দেখা যাচ্ছে।’

‘সেখান থেকে আমাদের ক্যাপ্টেনকে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছিল। যার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। আমরা এটা ইনভেস্টিগেট (তদন্ত) করছি’ যোগ করেন ইউএস-বাংলার সিইও।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উড়োজাহাজের কোনো যান্ত্রিক ক্রুটি ছিল না। মূলত পাইলটকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রানওয়ের কথা বলা হয়েছে। ভুল তথ্য পেয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

এসময় ইমরান আসিফ বলেন, ‘যাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৬ জন নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানতে পেরেছি। আমরা তাদের নামগুলো নিশ্চিত হতে পেরেছি।’

এদিকে, দুর্ঘটনার পর কাঠমান্ডু পোস্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, অধিকাংশ পর্যটক নেপালে প্রবেশের জন্য বিমানকেই ব্যবহার করে থাকেন। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিমানের উঠা-নামার চাপ সামলাতে হয় এই ত্রিভুবন বিমানবন্দরকেই।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, শুধু ২০১৭ সালেই ৩৩ হাজার ৩৬২টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয় তাদের। যা গত বছরের তুলনায় ২৩ ভাগ বেশি। কিন্তু চাপ বাড়লেও সেই অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখা যায়নি বিমানবন্দরটিতে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে দুর্ঘটনার আগে ইউএস-বাংলার বিমানটি রানওয়ের উল্টো দিক থেকে অবতরণের চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে না এসে রহস্যময় কারণে বিমানটির গতিপথ ঘুরে যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অবতরণের জন্য বিমানটি কি রানওয়ে ফাঁকা পেয়েছিল?

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। চার ক্রুসহ ৭১ জন আরোহীর অধিকাংশই নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিমানটি সোমবার ১২টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়।

নেপাল সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আরোহীদের ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ইউএস-বাংলার একটি সূত্র পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানে ৩৩ জন নেপালী, ৩২ বাংলাদেশী, একজন মালদ্বীপের এবং এক চীনা নাগরিক ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে দুজন শিশু ছিল।

এস২-এডিইউ মডেলের ৭৮ আসনের টুইন টার্বো প্রোপ বিমানটি ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর পর অবতরণের সময় পাশে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু ছিলেন।

টিএটি/এমএসআই

আরো পড়ুন...
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত, বহু হতাহতের আশঙ্কা
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা ফ্লাইটে আগুন
যান্ত্রিক ক্রুটিতেই ইউএস বাংলা বিমান দুর্ঘটনা
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৭
বিধ্বস্ত বিমানের ৩৮ আরোহী নিহত: এএফপি
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের মুহূর্ত
আকাশে উড়ে বাবার সঙ্গে না ফেরার দেশে প্রিয়ন্ময়ী
বাবার খোঁজে ইউএস-বাংলা অফিসে শাওন
ফ্লাইটের চাপই কি নেপালে বিমান দুর্ঘটনার কারণ?
চিকিৎসাধীন ১৬ জনের পরিচয় পেয়েছি: ইউএস-বাংলা