ছবিতে ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত বিমান

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

ছবিতে ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত বিমান

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:১১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৮

ছবিতে ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত বিমান

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। চার ক্রুসহ ৭১ জন আরোহীর অধিকাংশই নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিমানটি সোমবার ১২টা ৫০ মিনিটে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়।



নেপাল সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আরোহীদের ৫০ জন নিহত হয়েছেন।

নেপাল সরকারের মুখপাত্র নারায়ন প্রসাদ দুয়াদি বলেছেন, ‘আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মৃতদেহ ও আহতদের উদ্ধার করছি।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) কামরুল হাসান পরিবর্তন ডটকমকে বলেছেন, ‘কাঠমান্ডুতে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে কী হয়েছে এখনো জানতে পারিনি। আমরা এখন খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছি। জেনে বিস্তারিত আপনাদেরকে জানাব।’

একজন নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে বিমান বিধ্বস্তের মুহূর্তটি প্রকাশ করেছে নেপালি টাইমস। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালের পশ্চিমে সিনামাঙ্গাল এলাকা থেকে তিনি দুর্ঘটনাটি দেখতে পান।

নেপালি টাইমসকে ওই ব্যক্তি বলেন, বমবার্ডিয়ার কোম্পানির তৈরি বিমানটিকে তিনি দক্ষিণ দিক থেকে এগিয়ে যেতে দেখেন। কিন্তু বিমানটি অবতরণের পরিবর্তে হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে বামে দিক তীক্ষ্ণ বাঁক নেয়।



ওই ব্যক্তি জানান, মুখ ঘুরানোর সময় বিমানটি কন্ট্রোল টাওয়ারের খুব কাছে চলে আসে। এরপর সেটি একটি বুদ্ধ এয়ার এটিআর বিমান ও ইয়েতি এয়ারলাইন জেটস্ট্রিমের উপর দিয়ে উড়ে গিয়ে তার চোখের আড়ালে চলে যায়।

‘এর একমুহূর্ত পরেই রানওয়ের অপর প্রান্ত থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখলাম’ বলেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী।

একজন বিমান উড্ডয়ন বিশেষজ্ঞ জানান, অবতরণের করতে গিয়ে হয়তো শেষ মুহূর্তে বিমানটিকে অবতরণের পরিকল্পনা বাদ দিতে হয়েছিল। এমন ক্ষেত্রে বিমানকে বাইরে উড়ে গিয়ে আবার নতুন করে অবতরণের প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু, এই ক্ষেত্রে কোনো কারনে বিমানটি আচমকা বাঁক নেয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং মুখ থুবড়ে পড়ে।

এদিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুমের এক কর্মকর্তা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু ছিল।



ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীদের মধ্যে ৩৩ জন নেপালী, ৩২ জন বাংলাদেশী, একজন চীনা এবং একজন মালদ্বীপের নাগরিক ছিলেন। এদের মধ্যে দু’জন শিশুও ছিলেন। বাকি চারজনের দু’জন ক্রু এবং দু’জন কেবিন ক্রু।

এমএসআই