ঘরে ঢুকতে না দেওয়ায় স্বামীর অনশন!

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

ঘরে ঢুকতে না দেওয়ায় স্বামীর অনশন!

পরিবর্তন ডেস্ক ১:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৮

ঘরে ঢুকতে না দেওয়ায় স্বামীর অনশন!

স্ত্রী ঘরে ঢুকতে দিচ্ছেন না অভিযোগ করে বাড়ির সামনেই অনশনে বসেছিলেন স্বামী। রোববার সকালে শিলিগুড়ির সূর্য সেন কলোনিতে প্রবীর সাহা নামে ওই ব্যক্তিকে দেখে খবর রটে যায়। অনেকে দেখতে আসেন তাকে। প্রবীর বাবু তখন একটি চাদরে হাঁটু মুড়ে বসে আছেন। পেছনে ফ্লেক্স। তাতে স্ত্রীর ছবি। পাশে নানা অভিযোগ লেখা।

তবে ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই স্থানীয় কাউন্সিলর তৃণমূলের কৃষ্ণ পাল ও পুলিশের মধ্যস্থতায় প্রবীর বাবু অনশন তুলে নেন। বাড়িতেও ঢোকেন। তার স্ত্রী এই বিষয়ে কোনও মন্তব্যেই রাজি নন। তার কথায়, ‘এটা পুরোপুরি পারিবারিক ঘটনা। বাইরের কাউকে কিছু বলব না।’
কিন্তু পাড়ার লোকদের বক্তব্য, আবার গণ্ডগোল লাগলে কী হবে! প্রবীর বাবুর স্ত্রীর বক্তব্য, ‘যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলেই নেব।’

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের ২৮ বছরের বিবাহিত জীবন। এক ছেলে কলকাতায় চাকরি করেন। ছোট ছেলে কলেজে পড়েন। তিন তলা বাড়ি। বাড়ির নিচে একটি দোকান ছিল। তা কিছু দিন আগে বিক্রি হয়ে গেছে। প্রবীর বাবু ছিলেন একটি বেসরকারি অর্থ লগ্নি সংস্থার এজেন্ট। সেই সময় তিনি অনেকের টাকা ফেরত দিয়েছিলেন। তারপর সব সম্পত্তিই স্ত্রীর নামে করে দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বাড়িটিও তখন স্ত্রীর নামে করে দেন বলে দাবি।
প্রবীর বাবু বলেন, ‘গচ্ছিত টাকা দিয়ে পাওনাদারদের বকেয়া মিটিয়েছি। তিন তলা বাড়ি, দোকান কিনেছিলাম। স্ত্রীর নামে করে দিয়েছিলাম। সোনার গয়নাও ছিল। অনেকেই তা করেন। সব নিজের নামে হওয়ার পর ও আমাকে বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না।’
তার দাবি, স্ত্রী তাকে আগেও বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছেন। এ দিন বাড়িতে ঢুকতে গেলে ফের বার করে দেওয়া হয়। প্রবীর বাবুর দাবি, ‘তখনই অনশনে বসি।’

প্রতিবেশীরা জানান, বছর দুয়েক ধরে সাহা দম্পতির মধ্যে টাকা-পয়সা নিয়ে গণ্ডগোল চলছিল। যদিও রাত অবধি কোনও পক্ষই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। কাউন্সিলর কৃষ্ণ বাবু বলেন, ‘প্রয়োজনে আদালত রয়েছে, সেখানে যেতে বলেছি। তবে এভাবে পাড়ার মধ্যে আমরণ অনশন করব বলে রাস্তায় বসে পড়াটাও মানা যায় না।’
আরপি