ভেনিজুয়েলায় গৃহযুদ্ধের শঙ্কা

ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ | ৬ বৈশাখ ১৪২৬

ভেনিজুয়েলায় গৃহযুদ্ধের শঙ্কা

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৯

ভেনিজুয়েলায় গৃহযুদ্ধের শঙ্কা

গত এক মাসে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সরে যেতে ব্যাপক হুমকি-ধমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়ে বলেছেন, দেশটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েনই এখন একমাত্র অপশন।

অন্যদিকে, ভেনিজুয়েলায় নতুন নির্বাচনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে সাতদিন সময় বেঁধে দিয়েছিল তাও রোববার শেষ হয়েছে। ফলে মাদুরো সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরো বাড়ছে।

কিন্তু ক্ষমতা থেকে সরে না যেতে অনড় মাদুরো। তিনি বলেছেন, সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছেন না।

স্প্যানিশ টেলিভিশন প্রোগ্রাম সালভাদোসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি তার দেশের সংকটে হস্তক্ষেপ করেন তাহলে তাকে ‘রক্তাক্ত হাতে’ হোয়াইট হাউজ ছাড়তে হবে।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবকেও জোরের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন মাদুরো।

রোববার প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে মাদুরোকে জিজ্ঞেস করা হয়, ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধে রূপ নিতে পারে কি না।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর কেউ দিতে পারবে না।’

মাদুরো বলেন, ‘সব কিছু নির্ভর করছে উত্তর গোলার্ধ (যুক্তরাষ্ট্র) ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের পাগলামি ও আগ্রাসনের ওপর।’

তিনি বলেন, ‘কেউ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না…আমরা আমাদের দেশ রক্ষায় প্রস্তুত।’

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএসকে বলেন, ভেনিজুয়েলার বিষয়ে এখন সামরিক হস্তক্ষেপই একমাত্র ‘অপশন’ হিসেবে অবশিষ্ট আছে।

কিন্তু মাদুরো সতর্ক করে বলছেন, মার্কিন নেতৃত্ব যদি এই ঝুঁকি নেয় তাহলে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হবে।

তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প থামুন, থামুন! আপনি ভুল করতে যাচ্ছেন এবং আপনার হাত রক্তাক্ত হবে। আর আপনি রক্তাক্ত হাত নিয়ে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে যাচ্ছেন।’

‘চলেন আমরা একে অপরকে শ্রদ্ধা করি, আর তা না হলে আপনারা ল্যাটিন আমেরিকায় আরেকটি ভিয়েতনামের (যুদ্ধ) পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছেন।’

এদিকে, নতুন নির্বাচনের জন্য ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি ও স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলো সাত দিনের যে সময় বেঁধে দিয়েছিল তা শেষ হয়েছে রোববার। তারা বলেছিল, এ ব্যাপারে মাদুরো সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে বিরোধী নেতা জুয়ান গুইদোকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

তবে মাদুরো বলেন, ‘আমরা কারো কাছ থেকে আল্টিমেটাম গ্রহণ করি না। আমি যদি তাদের মতোই বলি যে, ‘আমি দ্য রিপাবলিক অফ কাতালোনিয়াকে সমর্থন দিতে সাত দিনের সময় দিচ্ছি, আর তা যদি তোমরা না কর তাহলে পদক্ষেপ নেব।’

তিনি বলেন, ‘না, আন্তর্জাতিক রাজনীতি আল্টিমেটামের ওপর নির্ভর করে না। সাম্রাজ্য ও কলোনির যুগ শেষ হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত মাসের শুরুতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন মাদুরো। এরপরই শুরু হয় সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। যদিও মে মাসে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই মাদুরোবিরোধী আন্দোলন চলছে।

চলমান আন্দোলনের মধ্যেই গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন গুইদো। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে সমর্থন দেন ট্রাম্প। পরে ল্যাটিন আমেরিকার আরো কয়েকটি দেশ ও কানাডা গুইদোকে সমর্থন দেয়। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ওই আল্টিমেটাম দেয়। 

অন্যদিকে, মাদুরোকে সমর্থন দিয়ে আসছে রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও ইরানসহ বেশ কিছু দেশ।

মাদুরো অভিযোগ করছেন, গুইদো মার্কিন সহায়তায় দেশটিতে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছেন।

আর গুইদো বলছেন, তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চান।

আরপি