ভালো গানের সংখ্যাটা অনেক কম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫

ভালো গানের সংখ্যাটা অনেক কম

মাসউদ আহমাদ ১১:০৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৮

print
ভালো গানের সংখ্যাটা অনেক কম

সুবীর নন্দী। তাকে বলা হয় বাংলাদেশের মান্না দে। অনেক জনপ্রিয় গানের শিল্পী তিনি। নিজের গানের ধারার বাইরে এসে নজরুল সংগীতের অ্যালবাম করলেন। কেমন ছিল অভিজ্ঞতা? জানালেন পরিবর্তন ডটকমকে।

আপনি যে ধারার গান করেন, সেখান থেকে বেরিয়ে এই প্রথম নজরুল সংগীতের অ্যালবাম করলেন?

এই অ্যালবামটির নাম ‘মোরা ছিনু একেলা’। আধুনিক গানই বেশি করেছি। কিন্তু, অনেকে জানেন না, আমি ও আমার ভাই বাংলাদেশ বেতারে শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হই ১৯৬৭ সালে। তখন আধুনিক গান ও নজরুল সংগীত দুটোই গাইতাম। সত্তর দশকে নজরুলের গানের স্বরলিপি নিয়ে কিছু কথা ওঠে। যা হোক, তখন সেভাবে আর নজরুলের গান গাইনি। নতুন যে অ্যালবামটি বেরিয়েছে, পুরনো ভালোবাসা ও ঋণ শোধ করার একটা প্রয়াস বলা যায় এটাকে। অনুষ্ঠান করে অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। আমার খুব ভালো লেগেছে, নজরুল বিষয়ে অনুরাগী ও গুণী মানুষেরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। গবেষক-অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সংগীতজ্ঞ সুধীন দাস, খিলখিল কাজীসহ অনেকেই ছিলেন। অ্যালবামের সমন্বয় করেছেন ছন্দা চক্রবর্ত্তী। এতে গান আছে ১০টি। একক চারটি করে ৮টি গান রয়েছে। ‘সন্ধ্যা গোধূলি লগনে কে’, ‘চোখের নেশার ভালোবাসা’সহ আরো দুটি একক গান আমি গেয়েছি। ছন্দা চক্রবর্তী গেয়েছেন ৪টি গান। এছাড়া যৌথ গানও আছে। সুধীন দাসের স্বরলিপিতে এর সংগীত করেছেন বদরুল আলম বকুল।

আর একটি গানের কথা জানতে চাই, যাতে বক্তব্যধর্মী কথা ছিল...

হ্যাঁ। এই গানটিও খুব সুন্দর। গানের কথা লিখেছেন জনি হক। সুন্দর লিরিক লেখেন তিনি। গানের কথাগুলো চমৎকার- পেন্সিলের লেখা ভুল হলে রাবার দিয়ে মুছে নতুন করে লেখা যায়। কিন্তু, কলমের কালি দিয়ে কিছু লেখা হলে তা মোছা যায় না; এমন বক্তব্যধর্মী গানটি। এই গানে সুন্দর একটি বক্তব্য আছে। সুর করেছেন বাসু। বাসুর সুর-সংগীত তো বরাবরই প্রশংসনীয়।

আপনি হুমায়ূন আহমেদের লেখা বেশ ক’টি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

হুমায়ূন আহমেদ খুবই উঁচুদরের মানুষ। অত্যন্ত গুণী শিল্পী। লেখক হিসেবে ছিলেন অসাধারণ। নাটক-চলচ্চিত্র দিয়েও মানুষের মন জয় করেছিলেন। তিনি আমাকে খুব পছন্দ করতেন। আমার কয়েকটি গান আছে যেগুলো মানুষ পছন্দ করেছেন, যেমন- আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি, বন্ধু হতে চেয়ে তোমার, আমার এ দু’টি চোখ পাথর তো নয়, প্রেম বলে কিছু নেই; তেমনি হুমায়ূনের লেখা হাতে গোনা যে ক’টি গান আমি করেছি, সেগুলোও মানুষ ভীষণ পছন্দ করেছেন- ও আমার উড়াল পঙ্খিরে, একটা ছিল সোনার কন্যা, মরিলে কান্দিস না আমার দায়। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা খুবই সুন্দর।

নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের গান নিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন?

নতুনদের গান আমি সময় পেলেই শুনি। অনেকেই খুব ভালো গান করছেন। তাদের চেষ্টা আছে। গায়কি ভালো। গানে নতুন সুর ও কম্পোজিশন করছে। আর একটু সময় নিয়ে সুর ও গায়কিটা বসালে বোধ হয় ভালো হয়। গান তো হুট করে হয় না। এখনো অনেক ভালো গান হচ্ছে, হয়তো সংখ্যাটা একটু কম।

আপনার অনেক জনপ্রিয় গানের একটি- হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে; এই গানটি কিভাবে তৈরি হয়েছিল?

অনেক আগের কথা আপনি মনে করিয়ে দিলেন। গানটি লিখেছিলেন গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু। তিনি এখন প্রয়াত। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। তিনি গানটি লিখে সুর করার জন্য সুরকার শেখ সাদী খানের হাতে তুলে দেন। গানটি গাওয়ার আগে এবং পরে অনেক তর্ক-বির্তক হয়েছে। কেউ এমনও বলেছিলেন- এটা কেমন কথা যে পৃথিবীতে প্রেম নেই। কিন্তু, সাদী ভাই সুর করার পর জোর দিয়ে আমাকে গাইতে বললেন- এই গানটি আপনার কণ্ঠে ভালো লাগবে।

মানুষের ভালোবাসা কেমন উপভোগ করেন?

আমার খুব ভালোলাগে। মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আমি সত্যি পূর্ণ। আমার জীবন ধন্য। আমি মনে করি, আমার সুবীর নন্দী হয়ে ওঠাটা সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ। মানুষের প্রতি আমার অনেক কৃতজ্ঞতা।

এমএ/আইএম

 
.



আলোচিত সংবাদ