‘চিকিৎসা শেষে আইতারলে মাইকেল কুদ্দুস হইয়া আয়াম’

ঢাকা, ১০ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

‘চিকিৎসা শেষে আইতারলে মাইকেল কুদ্দুস হইয়া আয়াম’

সীমান্ত বাধন চৌধুরী ৭:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০১৯

বাংলা লোকগানের জনপ্রিয় গায়ক কুদ্দুস বয়াতি দীর্ঘদিন অসুস্থ। চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুদ্দুস বয়াতি সম্প্রতি ভারতে যান।

সেদেশের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ফুসফুসের জটিলতার পাশাপাশি কুদ্দুস বয়াতির খাদ্যনালীতে ব্লক রয়েছে। এ অবস্থায় তাকে শল্য চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ভারত থেকে ফিরে আসার পর এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে কুদ্দুস বয়াতির।

কেমন আছেন- জানতে চাইলে কুদ্দুস বয়াতি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমার মায়ের বয়স ১০৭ বছর। মায়ের দোয়া আর দেশবাসীর দোয়ায় বেঁচে আছি। নয়তো এমন মানুষ বেঁচে আসে না।

তিনি বলেন, অর্থের অভাবে এবার আমি অপারেশন করাতে পারি নাই। অনেক ডাক্তার দেখাইছি ভারতে। প্রথমে দিল্লী গেছি। সেখানে অনেক টাকা খরচ হইব লাগে। সেখান থেকে পরে চলে আসছি কলিকাত্তা। কলিকাত্তায় আইয়া আমি মাসেক খানি চিকিৎসা নিলাম। অনেক টাকা খরচ করছি আমি ডাক্তার দেখাইয়া। ভিজিট এক হাজার, বারো’শ, সাতশ রুপি।

লোকগানের এই শিল্পী বলেন, একটা ডাক্তার একটা রোগ দেখে। দুইটা কাজ করবে না। আমার দেশে ডাক্তার যেমন প্রেসক্রিপশন লেইক্কালায়, দশটা রোগ অইলে দশটা রোগের অসুধ এনারা দেয়, তারা ঐটা দেয় না। এরকম ভাবে সাত আটটা দশটা ডাক্তার আমি দেখাইছি। আর এরা রোগ নির্ণয় না করে ব্যবস্থা করে না। তয় এরা অপারেশন করবে, তার আগে কত জাতের পরীক্ষা যে করছে সেইটা নির্ণয় নাই।

তিনি বলেন, এরপর তারা বলল, খাদ্যনালীটা নাই। ঐটা সমানই আছে। আমার খাদ্যনালীটা পাল্টাইতেই হবে, ফুসফুসের অবস্থাটা যদি ভাল হয়। ভাল হইলে তারা অপারেশনে যাবে।

কুদ্দুস বয়াতি বলেন, আমার একটা জমি ছিল বাড়িতে ওটা বিক্রি করেছি। তাছাড়া অনেকেই পেপার পত্রিকায় সাহায্য সহযোগিতার জন্য বলছে। প্রধানমন্ত্রীও আমাকে ২০ লক্ষ টাকা দিছে। এই টাকা আমাকে অসুখের জন্য দেয় নাই। পারিবারিক সঞ্চয়পত্র করে দিছে। আমি যেহেতু বহুদিন যাবৎ অসুস্থ, গান গাইতে পারি না। আসাদুজ্জামান নূর ভাই চেষ্টা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থিকা ২০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র লইয়া দিছে।

তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েরা সবাই ভার্সিটি পড়ে। আমার মায়ের অনেক বয়স। এই সঞ্চয়পত্র থেকে তিনমাস পর পর বাহান্ন হাজার চারশ চল্লিশ টেকা পাই। আমার খরচ হয় মাসে দেড় লাখ টেকা। তাতেই আমি আলহামদুলিল্লাহ। ডাইল ভাত খাইয়া আল্লায় চালাইতেছে, এই যথেষ্ট।

তিনি বলেন, একটু জমি বিক্রি করছিলাম বাড়িতে। তা দিয়া ৫/৬ লক্ষ টেকা খরচ কইরা আসছি। আমার খাদ্যনালী দিয়া খাওন অর্ধেক যায়, অর্ধেক আইয়া পড়ে। এমন অবস্থায় বর্তমানে আমি আছি। অনেক সাংবাদিকরা আমাকে ফোন করেন। ডাক্তার বলছেন, আপনি কথাবার্তা কম কইবেন। ফুসফুসের অবস্থা একটু ভাল হইলে, টেকাটুকা ভাও করে আমি অপারেশন করাইতে যাব। ২০-২২ লক্ষ টেকা সম্ভবত লাগবে। যারা বিত্তবান আছে, তারা যদি কিছু মনে করে কিছু দিতে পারে, তারা যদি মনে করে কুদ্দুস বয়াতি আমাদের গর্ব, দেশের জন্য কুদ্দুস বয়াতি অনেক কিছু করছে।

কুদ্দুস বয়াতি বলেন, গান গাইছি তিরিশ বছর আগে, এই দিন দিন না আরো দিন আছে...। আমি কিন্তু কোন দলবল চিনি না, আমি চিনি দেশ। আমার বাংলাদেশ। দেশ ডিজিটাল হইছে, এই ডিজিটাল দেশে আবার আমি মাইকেল কুদ্দুস হইয়া তোমাদের ছেলে-মেয়েদের সাথে খেলতে চাই।

তিনি বলেন, আমি সবার কাছে বলতে চাই, আমারে কিছু সাহায্য করেন, তাইলে আমি আগের মত গান গাইতে পারব। ফুসফুসের জন্য রেগুলার অসুধ খাচ্ছি। নরম খাবার জাউভাত খাই। খাবারটা একটু পেটে গেলে অনেক শান্তি লাগে। দুনিয়াতে খাওনটা যে কত বড় জিনিস হেইডা দেইক্কা আইছি।

লোকগানের এই শিল্পী বলেন, দেশ শেখ হাসিনার হাত ধরে ডিজিটাল হইছে। শেখ হাসিনার মত দরদি মা, দরদি প্রধানমন্ত্রী আরেকজন জন্ম নিবো আমি মনে করি না। তার হাত আরো শক্তিশালী হোক, দোয়া করি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলার আর কিছুই নাই। এরপর উনি যদি মনে করেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক কুদ্দুস বয়াতির দরকার আছে এই দেশে, দেখবেন।

তিনি বলেন, আমি যা গায়াম, তা বাংলাদেশে অন্য কেউ গাইব তা আমার মনডাত পরে না। আমি চিকিৎসা শেষে আইতারলে মাইকেল কুদ্দুস হইয়া আয়াম। আমি স্কুলে স্কুলে গান নিয়া মাদক-বিরোধী কাজ করব।

তিনি দুঃখ করে বলেন, আমার এত গান, অভিনয়ে আমি পুরস্কার পাইলাম না। জাতীয় পুরস্কার আমাকে কেন দেয় না সরকার? আমি কি অন্যায়টা করেছি? এইডা আমারে দেহাও। কার লিগা রাখছে ঐটা! আমি চাই, যারা পুরস্কারের যোগ্য, তারা বেঁচে থাকতেই যেন তাদের পুরস্কার দেয়া হয়। কুদ্দুস বয়াতি যদি দেশের জন্য কিছু কইরা থাকে বিবেচনা কইরা দেখো, তারে পুরস্কার দেও।

আমি দোয়া চাই, দেশবাসীর কাছে। আমি যেন আবার তোমাদের কাছে আসতে পারি, গান গাইতে পারি।

জীবনের এ বেলায় এসে আপনার কি মনে হয় কিছু করা বাকী রয়ে গেল? এমন প্রশ্নে কুদ্দুস বয়াতি গেয়ে ওঠেন- ‘সারাজীবন দেখলাম কত আশারই স্বপন, আশার স্বপন ভাঙল আমার পাইলাম জ্বালাতন, পাগল মন মনে রে, দুঃখে দুঃখে গেল এ জীবন...’।

এসবি

 

সংগীত: আরও পড়ুন

আরও