ভক্ত, ব্যস্ততা আর বিয়ে ... (ভিডিও)

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ | 2 0 1

ভক্ত, ব্যস্ততা আর বিয়ে ... (ভিডিও)

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:৫২ অপরাহ্ণ, মে ০১, ২০১৯

সিনেমার প্লেব্যাক, মিউজিক ভিডিও, বিজ্ঞাপনের ভয়েসওভার দেওয়ার পাশাপাশি স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কণ্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা।

ঈদ উপলক্ষে সুরের এই জাদুকন্যা তার দর্শক-শ্রোতাদের পছন্দকে মাথায় রেখে মিউজিক ভিডিওর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য। ছোটবেলা থেকে সংগীতের প্রতি নিজের শ্রম, চেষ্টা ও একনিষ্ঠতার জন্যই তিনি নিজেকে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। জানালেন জ্যামিতিক ভালোবাসা, ধিম তানা খ্যাত কণ্ঠশিল্পী কনা।

পরিবর্তন ডটকমের সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী জানাচ্ছেন বিস্তারিত।

কনার শিল্পী হবার শুরুটা কেমন ছিল ?

আমি ছোট থেকেই বুঝি যে, আমি গান শিখি, গানের ক্লাস হয়। বাবা-মা গান শেখাতেন। ছোট থেকেই বিটিভিতে প্রোগ্রাম করতাম। তো আমি জানতাম যে এই দিকটা নিয়েই আমাকে সাকসেস হতে হবে। এইটা আমার লক্ষ্য ছিল। সো, এদিকটায় আমি শ্রম দিতাম, মনোযোগ দিতাম। তো নির্দিষ্ট করে এমন না যে আমি কোনো রিয়ালিটি শো করে এসেছি। ছোট থেকে টিভি প্রোগ্রাম করতাম, ধীরে ধীরে বড় হয়ে জিঙ্গেল করতাম, ভয়েসওভার দিতাম, সিনেমার গান করতাম। এই করতে করতে ধাপে ধাপে এগোতে থাকি।

তাহলে লক্ষ্যটাই ছিল সংগীতশিল্পী হবার?

আমার ফ্যামিলি থেকে কখনই বলে নাই, আগে পড়াশোনা তারপর গান। যদি ফাইনাল পরীক্ষা হতো আর আমার কোথাও গানের রিহার্সাল চলছে, তাহলে পরীক্ষা দিয়ে এসে আমি সেখানে যেতাম। ফ্যামিলির লোকেরা তো সাধারণত বলে, পরীক্ষা চলছে আর কিছু করা যাবে না। আমাকে এ রকম কখনো বলা হয় নাই। আমি ভারসাম্য রেখেই সব করতাম। খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম না, আবার একেবারে খারাপও ছিলাম না। সো, আমার বাবা-মা দেখেছেন গানের প্রতি আমার ইন্টারেস্ট বেশি তাই তারা বলতেন, পড়াশোনাটা ঠিক রেখে গান চালিয়ে যেতে।

বরাবরই বাবা-মা উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। এখন আমার ভাই-বোনদের কাছ থেকেও অনেক উৎসাহ পাই। সবার একটা মাইন্ডসেট তৈরি হয়ে গেছে যে, আমার জন্য আমার কাজটাই নরমাল। কাজ করতে গিয়ে মাস্টার্স আর করা হয়নি। লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেছি।

ইদানীং ব্যস্ততা কী নিয়ে ?

আমার নানাবিধ ব্যস্ততা থাকে। যেমন, শো থাকে অনেক। শীতের থেকে শুরু করে বর্ষা পর্যন্ত শো একটু বেশিই থাকে। এখনো সামনে আরও দুটো শো আছে। স্টেজ শো করতে গেলে একটা ভালো সময় ওখানে চলে যায়। আর বাকি সময়টা ... এই যেমন আজকে একটা শুটিং করলাম, আজকে আরেকটা শুটিং আছে, কালকে একটা ইভেন্ট আছে, গতকাল ছিল একটা শো, তার আগে আরও দুইটা ভয়েসওভারের কাজ করলাম।

টেলিভিশনে আমি অনেক ভয়েসওভারের রেকর্ডিং করি, সো সপ্তাহে অ্যাটলিস্ট ৫-৬টা কাজ থাকে। তার মানে এমন একটা দিন কম পাওয়া যায়, যেদিনটা আমি পুরো বেলা কাজ করছি না। কোনো না কোনো কাজ থাকেই।

ঈদকে সামনে রেখে আপনার দর্শক, শ্রোতাদের কী উপহার দিচ্ছেন এবার?

হ্যাঁ আমার কিছু ভিডিওর প্ল্যান আছে। আমিতো পহেলা বৈশাখ মিউজিক ভিডিও ছেড়েছি আমার ইউটিউব চ্যানেল থেকে। আর রোজার ঈদের জন্যও প্ল্যান আছে। অলরেডি দুটো গান রেডি হয়ে গেছে। তো সেগুলো ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।

স্টেজ শো, প্লেব্যাক, ভয়েসওভার, মিউজিক ভিডিও কোনটা বেশি এনজয় করেন?  

সব জায়গাই কাজ করতে ভালো লাগে। কাজ করাটাই আমার জন্য একটা আনন্দের ব্যাপার। গানতো গানই, তা সে সিনেমায়ই হোক, জিঙ্গেল হোক, স্টেজে হোক যেখানেই হোক না কেন। তবে স্টেজ শো টা এনজয় করি। বিকজ রেকর্ড করলাম স্টুডিওতে, সেই গানটা যদি আমি দর্শকের সামনে গাই, তখন আমি দর্শকের রি-অ্যাকশনটা সরাসরি দেখতে পাই, যে গানটা কতটুকু ভালো লেগেছে সবার।

আপনার সুরের মূর্ছনায় কেউ ক্রাশ খেয়েছিল, এমন ফ্যানদের কথা বলুন

এ রকম অনেক আছে। ম্যাক্সিমাম পাগল ফ্যানদের মধ্যে দু-তিনজন আছে মেয়ে। ওরা আমার থেকে আমার খোঁজ ওরাই বেশি রাখে। সারা দিনভর মেসেজ পাঠায়। আমি রিপ্লাই দিই না। তারপরও তারা পাঠিয়েই যায়। কেউ কেউ এত ইমোশনাল যে বাধ্য হই কথা বলতে, দেখা করতে। কারণ বেশির ভাগ টিনএজার। আবার কখন কী দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসে! তাই যতটা সম্ভব চেষ্টা করি যোগাযোগ রাখতে।

কেমন লাগে এই যে ভক্তদের ভালোবাসা?

ভালো লাগে। অবশ্য কিছু সময় মেনটেইন করা যায় না, সম্ভব হয় না।

মেয়ে ফ্যানদের কথা বললেন ছেলে ফ্যান নেই?

ছেলেও আছে এ রকম। অনেকে লিখে—‘কনা আপু, আই লাভ ইউ’। রেসপেক্টের জায়গা রেখেই বলে। তবে সিলেটে একজন আর ঢাকায় একজন আছে, ওদের ফেসবুক আইডির নাম ‘ফ্যান অব কনা’। ছেলেগুলো মেয়েদের চেয়ে বেটার। কারণ মেয়েগুলো যেমন ক্রেজি, ও রকম না।

অন্য শিল্পীদের গান শোনেন?

হ্যাঁ, সবার গান শুনি। আজ যেমন সারাদিন প্রীতম আর হাবিব ভাইয়ের গান শুনলাম। বাসায় থাকলে সব সময়ই আমি বাংলাদেশের এবং কলকাতার বাংলা গানই বেশি শুনি। ছোটবেলা থেকে যেসব গান শুনে বড় হয়েছি। রুনা ম্যাম, সাবিনা ইয়াসমিন, শাহনাজ রহমতুল্লাহর সব গান।

লতাজির এমন কোনো গান নেই যা শুনিনি ছোটবেলা থেকে। যেহেতু গান ভালোবাসি তো ছোটবেলা বাবা-মা-ই সিলেক্ট করে দিতেন এসব শোনার জন্য।

আপনার বিয়ের কথা শোনা যাচ্ছিল...

বিয়ে তো হয় নাই এখনো। একবার বলেছিলাম করব। করিনি এখনো। করলে তো সবাই জানবে।    

ছবি তুলেছেন: ওসমান গণি

 

সাক্ষাৎকার: আরও পড়ুন

আরও