ছেলে-মেয়েকে ছাড়াই শাহনাজ রহমতউল্লাহর দাফন সম্পন্ন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

ছেলে-মেয়েকে ছাড়াই শাহনাজ রহমতউল্লাহর দাফন সম্পন্ন

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০১৯

ছেলে-মেয়েকে ছাড়াই শাহনাজ রহমতউল্লাহর দাফন সম্পন্ন

ছেলে-মেয়ে বিদেশে, ভিসা ম্যানেজ করে দেশে আসতে সময় লাগবে- তাই অপেক্ষা না করে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শাহনাজ রহমতউল্লাহর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বাদ জোহর শাহনাজ রহমতউল্লাহর জানাজা হয় বারিধারার ৯ নম্বর রোডের পার্ক মসজিদে।

শনিবার রাত ১১টায় বারধারা ডিওএসএইচের বাসায় তিনি মারা যান।

তবে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার সুযোগ পাননি শিল্পীর দুই সন্তান।

মেয়ে নাহিদ রহমতউল্লাহ থাকেন লন্ডনে আর ছেলে সায়েফ রহমতউল্লাহ থাকেন কানাডায়। তাদের ভিসা ম্যানেজ করে আসতে সময় লেগে যাবে।

তাই ছেলে-মেয়ের অপেক্ষায় না থেকে স্ত্রীকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেন শাহনাজ রহমতউল্লাহর স্বামী মেজর (অব.) আবুল বাশার রহমতউল্লাহ।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশের ব্যাপার। ছেলে-মেয়ের এসে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে সেটা নিশ্চিত নয়। তাই ওদের জন্য অপেক্ষা না করে দাফন করা হয়েছে। তারা এলে মায়ের দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।

এসময় তিনি তার স্ত্রীর জন্য সবাই কাছে দোয়া চান।

১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করা এ শিল্পী ১০ বছর বয়স থেকেই গান শুরু করেন। প্রায় সেই বয়সেই গান করেন চলচ্চিত্র, টেলিভিশন আর বেতারে। খেলাঘর থেকে শুরু করা এ শিল্পীর কণ্ঠ শুরু থেকেই ছিল বেশ পরিণত। গজল সম্রাট মেহেদি হাসানের শিষ্যা হয়েছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন ১৯৬৩ সালে ‘নতুন সুর’ ছবির মাধ্যমে।

তার বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে আমায় বল’, ‘আমায় যদি প্রশ্ন করে’, ‘কে যেন সোনার কাঠি’, ‘মানিক সে তো মানিক নয়’, ‘যদি চোখের দৃষ্টি’, ‘সাগরের তীর থেকে’, ‘খোলা জানালা’, ‘পারি না ভুলে যেতে’, ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’, ‘আমি তো আমার গল্প বলেছি’, ‘আরও কিছু দাও না’, ‘একটি কুসুম তুলে নিয়েছি’।

১৯৯২ সালে একুশে পদক পান শাহনাজ রহমত উল্লাহ। ১৯৯০ সালে ছুটির ফাঁদে ছবিতে গান গেয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়া ২০১৬ সালে চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড আয়োজনে আজীবন সম্মাননা, ২০১৩ সালে সিটি ব্যাংক থেকে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয় তাকে।

উল্লেখ্য, মা আসিয়া হকের কাছেই শাহনাজের গানের হাতেখড়ি। ছোটবেলা থেকেই শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। তার ভাই প্রয়াত আনোয়ার পারভেজ ছিলেন প্রখ্যাত সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক। এ ছাড়া আরেক ভাই জাফর ইকবাল ছিলেন জনপ্রিয় নায়ক।

ওএস/এসবি