‘ঘুম ভাঙা শহরে’ মায়ের পাশে চিরঘুমে বাচ্চু

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

‘ঘুম ভাঙা শহরে’ মায়ের পাশে চিরঘুমে বাচ্চু

জামালুদ্দিন হাওলাদার, চট্টগ্রাম ৬:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৮

‘ঘুম ভাঙা শহরে’ মায়ের পাশে চিরঘুমে বাচ্চু

রূপালি গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুকে মায়ের পাশে দাফন করা হয়েছে। শনিবার বাদ আসর নামাযে জানাযা শেষে চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডের চৈতন্যগলির বাইশ মহল্লা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এখানেই ১৫ বছর আগে আইয়ুব বাচ্চু তার মাকে দাফন করেছিলেন। মায়ের কবরের ঠিক পূর্বপাশে সাড়ে তিন হাত আয়তনের নতুন ঘরে শনিবার থেকে ‘বসতি’ গড়লেন কিংবদন্তির এই ব্যান্ডশিল্পী।

শহর নিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর বিখ্যাত গান ‘ঘুম ভাঙা এই শহরে’। গানের মতোই ঘুম ভাঙা শহরে চিরঘুমে শায়িত হলেন তিনি।

এর আগে চট্টগ্রামের ছেলে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নেয়া হয় জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে। সেখানে হাজারো মানুষ তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।

এরপর বাদ আসর আইয়ুব বাচ্চুর নামাযে জানাযা হয়। জানাযায় ইমামতি করেন জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ আবু তালেব মো. আলাউদ্দিন।

জানাযায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. মো. শাহাদাত, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান প্রমুখ।

এছাড়া জানাযায় অংশ নেন আইয়ুব বাচ্চুর বাবা মোহাম্মদ ইছহাক, একমাত্র ছেলে আহনাফ তাজওয়ারসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

গত বৃহস্পতিবার মাত্র ৫৬ বছর বয়সে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান আইয়ুব বাচ্চু। তিনি ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার ও প্লেব্যাক শিল্পী। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

শুক্রবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর জাতীয় ঈদগাহের নামাযে জানাযাতেও ঢল নামে ভক্তদের।

সেখান থেকে মরদেহ রাখা হয় স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে। কানাডা থেকে আহনাফ তাজওয়ারও অস্ট্রেলিয়া থেকে মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আসার পর স্ত্রী ফেরদৌস আকতার স্বামীর মরদেহ নিয়ে শনিবার সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছান।

সেখান থেকে আইয়ুব বাচ্চুকে সরাসরি নেয়া হয় তার শৈশবের প্রিয় জায়গা নানা বাড়ি, চট্টগ্রামের দক্ষিণ পূর্ব মাদারবাড়িতে।

নানা বাড়ি থেকে রূপালি গিটারের জাদুকরের মরদেহ বিকেল ৩টার কিছু পরে আনা হয় চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে। সেখানে ভক্তরা শেষবারের মতো দেখে নেন প্রিয়শিল্পীর মুখ। এরপরই মায়ের পাশে দাফন করা হয় বাংলাদেশে রকগানের অন্যতম পুরোধা আইয়ুব বাচ্চুকে।

জেএইচ/আইএম

‘বাবাকে ক্ষমা করে দেবেন’
বাচ্চুর মরদেহ এখন নানা বাড়িতে
আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ চট্টগ্রামে
আইয়ুব বাচ্চুর নতুন বাড়ি তৈরি করলেন যে তিন কারিগর
গোসল শেষ, আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ হিমাগারে
‘বাচ্চু ভাই আমাকে হিরো বলে ডাকতেন’

আইয়ুব বাচ্চুর হার্টের কার্যক্ষমতা ছিল মাত্র ৩০%
বাচ্চু ভাই বললেন, ‘পরোটার ঋণ বাকি রইল কিন্তু’
আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে মার্কিন দূতাবাসের শোক
‘মনে রেখ আমায় ভুলে যেওনা'
শেষ শ্রদ্ধার জন্য শহীদ মিনারে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ
আইয়ুব বাচ্চুকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ
আইয়ুব বাচ্চুকে শেষশ্রদ্ধা, জানাযায় মানুষের ঢল (ভিডিও)