নবীজি (সা.) এর খাদ্যতালিকা ও আহার-পদ্ধতি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নবীজি (সা.) এর খাদ্যতালিকা ও আহার-পদ্ধতি

ইয়াহইয়া ইবরাহীম ৪:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

নবীজি (সা.) এর খাদ্যতালিকা ও আহার-পদ্ধতি

খাওয়ার সময় রাসূল (সা.) কখনোই মুখ ভরে খাবার নিয়ে তা গিলে ফেলতেন না এবং খাবার চিবানোর সময়ও তিনি কোনো প্রকার শব্দ করতেন না। রাসূল (সা.) যখন খেতেন, তখন পরিমিত ও ভালোভাবে চিবিয়ে খেতেন।

রাসূল (সা.) থেকেই আমরা শিক্ষা পাই, পাকস্থলিকে তিন ভাগ করে এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানীয় দিয়ে পূর্ণ করে শেষ এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখতে হবে।

তিনি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, আমাদের অসুস্থতার অন্যতম কারণটি হলো আমাদের নির্ধারিত পরিমাণের অধিক খাওয়া বা ভুল উপায়ে খাওয়া।

রাসূল (সা.) প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাবারই বেশি গ্রহণ করতেন। গাছ থেকে পাড়া খেজুর তিনি খেতেন এবং উটনী বা ছাগীর সদ্য দোহন করা দুধ তিনি পান করতেন।

তিনি ছিলেন এমন এক মানুষ যিনি সবসময় আল্লাহর নেয়ামতকে উপভোগ করতেন।

তার পছন্দের একটি খাবার ছিল সারিদ। এটি ছিল তৎকালীন আরবের বিশেষ এক প্রকার খাবার, যাতে গোশত বা সবজীর ঝোলে রুটি ছোট ছোট করে ডুবিয়ে রাখা হতো।

এছাড়া তরকারীতে অধিক পরিমাণে ঝোল দেওয়ার জন্য তিনি উপদেশ দিতেন, যেনো একসাথে অনেকেই খাবার খেতে পারে এবং প্রতিবেশীদেরও সেখান থেকে দেওয়া যায়। 

খাবার সময় রাসূল (সা.) কখনোই একা খেতে বসতেন না। বরং অনেক লোককে নিয়ে একত্রে খেতেন তিনি। এমন কোনো হাদীস পাওয়া যায় না, যেখানে জানা যায় তিনি একা একা খাবার খেয়েছেন।

কোনো প্রকার চামচ-ছুরির ব্যবহার ছাড়া তিনি হাত দিয়েই খাবার খেতেন।

খাবার ফু দিয়ে ঠান্ডা করতে রাসূল (সা.) নিষেধ করেছেন। আবার খাবার কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার আগেই রাসূল (সা.) লোভীর মত খাবারে হাত চালাতে নিষেধ করেছেন।

রাসূল (সা.) এর শিক্ষানুযায়ী যে ব্যক্তি খাবার পরিবেশন করবে, সে সকলের শেষে খাবার গ্রহণ করবে। কেননা এতে করে সে সকলের খাবার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবে।

রাসূল (সা.) এর রোযা পালন
রমযানের এক মাস এবং জিলহজ্জ্ব ও মুহাররম মাসের বিশেষ দিনগুলো ছাড়াও প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার রাসূল (সা.) রোযা রাখতেন। এছাড়া হিজরী ক্যালেন্ডারের প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ তিনি রোযা রাখতেন।

রাসূল (সা.) এর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে চিন্তা করতে চাইলে আমরা দুটি আয়াতকে সামনে রাখতে পারি––

১. সূরা আল-আরাফে বলা হয়েছে, “খাও ও পান করো এবং অপব্যয় করো না।” [সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩১]

২. সূরা আম্বিয়ায় বলা হয়েছে, “প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম।” [সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩০]

অর্থাৎ, আমাদের সকলের সত্ত্বা যেহেতু পানি থেকে উৎপন্ন, সুতরাং আমাদের জীবনের প্রয়োজনেই আমাদের উচিত বেশী বেশী পানি পান করা। 

এমএফ/

 

নবী ও সাহাবা-চরিত: আরও পড়ুন

আরও