সংকট উত্তরণে স্ত্রীর পরামর্শ নিন, এটি নবীজির সুন্নাহ

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

সংকট উত্তরণে স্ত্রীর পরামর্শ নিন, এটি নবীজির সুন্নাহ

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৩:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৯

সংকট উত্তরণে স্ত্রীর পরামর্শ নিন, এটি নবীজির সুন্নাহ

পরিবারের সব ছোট বড় সিদ্ধান্তে, এমনকি যেকোনো সংকটে আপনার স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করুন, তার মতামত গ্রহণ করুন। তাকে সম্মান প্রদর্শন করুন। এটা পৌরুষের পরিপন্থী নয়। বরং তা সফল পুরুষের উত্তম গুণ এবং একটি সুখময় দাম্পত্যের নেপথ্য কারণ। এর মাধ্যমে জীবনে আসা যে কোন কঠিন সময়ের মোকাবেলা খুব সহজেই সম্ভব হয়।

আমাদের আদর্শ যিনি, যিনি আমাদের জীবনের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব, সেই মহানবী (সা.) উম্মতের নানা সমস্যা তাঁর স্ত্রীদের জানাতেন। তাঁরা রাসূল (সা.) কে পরামর্শ দিতেন।

হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) কাফিরদের সঙ্গে চুক্তি শেষ করে সাহাবাদেরকে হাদির পশু যবাই করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তাঁরা রাসূলের হিকমত বুঝতে না পেরে যবাই করতে বিলম্ব করেন, এতে রাসুলুল্লাহ (সা.) রাগান্বিত হয়ে উম্মে সালামাহ্‌ (রা.) এর কাছে গিয়ে ঘটনা জানান। তিনি এ সমস্যা সমাধানে উত্তম পরামর্শ দেন। চলুন, হাদীস থেকে ঘটনাটি জেনে নিই–

قَالَ عُمَرُ -: فَعَمِلْتُ لِذَلِكَ أَعْمَالًا، قَالَ: فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ قَضِيَّةِ الكِتَابِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَصْحَابِهِ: «قُومُوا فَانْحَرُوا ثُمَّ احْلِقُوا»، قَالَ: فَوَاللَّهِ مَا قَامَ مِنْهُمْ رَجُلٌ حَتَّى قَالَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، فَلَمَّا لَمْ يَقُمْ مِنْهُمْ أَحَدٌ دَخَلَ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ، فَذَكَرَ لَهَا مَا لَقِيَ مِنَ النَّاسِ، فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَتُحِبُّ ذَلِكَ، اخْرُجْ ثُمَّ لاَ تُكَلِّمْ أَحَدًا مِنْهُمْ كَلِمَةً، حَتَّى تَنْحَرَ بُدْنَكَ، وَتَدْعُوَ حَالِقَكَ فَيَحْلِقَكَ، فَخَرَجَ فَلَمْ يُكَلِّمْ أَحَدًا مِنْهُمْ حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ نَحَرَ بُدْنَهُ، وَدَعَا حَالِقَهُ فَحَلَقَهُ، فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِكَ قَامُوا، فَنَحَرُوا وَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَحْلِقُ بَعْضًا حَتَّى كَادَ بَعْضُهُمْ يَقْتُلُ بَعْضًا غَمًّا

“(এ ঘটনাটি উল্লেখ করে) উমার (রা.) বলেছিলেন, আমি এর জন্য (অর্থাৎ ধৈর্যহীনতার কাফফারা হিসাবে) অনেক নেক আমল করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, সন্ধিপত্র লেখা শেষ হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা ওঠো এবং যবাই করো ও মাথা কামিয়ে ফেলো। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সা.) তিনবার বলার পরও কেউ উঠলেন না। তাদের কাউকে উঠতে না দেখে রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মে সালামাহ (রা.) এর কাছে এসে লোকদের এ আচরণের কথা বলেন। উম্মে সালামা (রা.) বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি যদি তাই চান, তাহলে আপনি বাইরে যান ও তাদের সঙ্গে কোনো কথা না বলে আপনার উট আপনি নাহর (যবেহ) করুন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুণ্ডিয়ে নিন।

সে অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (সা.) বেরিয়ে গেলেন এবং কারো সঙ্গে কোনো কথা না বলে নিজের পশু জবেহ করলেন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুণ্ডিয়ে নিলেন। তা দেকে সাহাবাগণও উঠে দাঁড়ালেন, নিজ নিজ পশু কুরবানী করলেন এবং একে অপরের মাথা মুণ্ডন করে দিলেন। অবস্থা এমন হলো যে, ভীড়ের কারণে একে অপরের উপর পড়তে লাগলেন”। (বুখারী, হাদীস নং ২৭৩১)

হাদীসটি থেকে স্পষ্ট হল যে, সৃষ্টির সেরা যে মানুষ, প্রবাদ প্রতীম যে উত্তম পুরুষ – আমাদের প্রিয় নবী (সা.), তিনি কত বড় একটি সংকটে আর কারও কাছে না গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গেই গিয়ে পরামর্শ করেছেন। আর স্ত্রীও যে পরামর্শ দিলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর উপর আমলও করলেন। এর মধ্য দিয়ে একটি বড় সমস্যা কি সরলভাবেই না সমাধান হয়ে গেলো।

এর উপর আমরা যেন আমল করতে পারি, রাব্বুল আলামীন সেই উন্নত মন আমাদের দান করুন। আমিন।

এমএফ/

 

নবী ও সাহাবা-চরিত: আরও পড়ুন

আরও