কুরআনে উল্লেখিত ২৫জন নবী-রাসূল সম্পর্কে সারসংক্ষেপ তথ্য  

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ | 2 0 1

কুরআনে উল্লেখিত ২৫জন নবী-রাসূল সম্পর্কে সারসংক্ষেপ তথ্য  

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

কুরআনে উল্লেখিত ২৫জন নবী-রাসূল সম্পর্কে সারসংক্ষেপ তথ্য  

যুগে যুগে মানবজাতির পথপ্রদর্শনের জন্য আল্লাহ অসংখ্য নবী-রাসুলকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। এসকল নবী-রাসূলগণ স্বজাতির কাছে তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের বার্তা প্রচার করেছেন। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ বলেছেন,

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ

“আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক।” (সূরা নাহল, আয়াত:৩৬)

সুতরাং এই আয়াত আমাদেরকে স্পষ্ট করছে যে, পৃথিবীর প্রতিটি জাতির কাছেই জীবন সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য আল্লাহ নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন।

নবী-রাসূলগণও সাধারণভাবে মানুষ। তবে অন্য মানুষের সাথে তাদের পার্থক্য ছিল যে, মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী ও নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আল্লাহ তাদেরকে বাছাই করে নিয়েছেন। 

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের এই অসংখ্য নবী-রাসূলদের অধিকাংশের নাম ও জীবন সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। তবে তাদের সকলের নবুওয়াত ও রিসালতের উপর মুসলমান হিসেবে আমাদের ঈমান রাখা আবশ্যক। কেননা, একজন নবীর নবুওয়াতকে যদি অস্বীকার করা হয়, তাহলে মূলত সকল নবী-রাসূলের নবুওয়াতকেই অস্বীকার করা হয়।

পবিত্র কুরআনুল কারীমে মোট ২৫জন নবী-রাসুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে তাদের সম্পর্কে সংক্ষেপে বিবরণ দেওয়া হল।

১. হযরত মুসা (আ.)
হযরত ইউসুফ (আ.) এর পর মিসরে বসবাসকারী বনী ইসরাইল বংশে হযরত মুসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। বনী ইসরাইলের পাশাপাশি তিনি মিসরের শাসক ফেরাউন এবং তার অনুসারীদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হন। আসমানী কিতাব তাওরাত তার উপরই অবতীর্ণ হয়।

কুরআনুল কারীমে উল্লেখিত নবী-রাসূলদের মধ্যে হযরত মুসা (আ.) এর নামই সবচে কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৩৬ বার তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

২. হযরত ইবরাহীম (আ.)
হযরত ইবরাহীম (আ.) খলীলুল্লাহ তথা আল্লাহর বন্ধু হিসেবেও পরিচিত। যৌবনে পৌত্তলিকতার বিরোধিতা করে তিনি নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ফিলিস্তিনে আসেন। মক্কার পবিত্র কাবা ঘর তিনি তার পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) এর সহায়তায় নির্মাণ করেন। মূলত তার বংশধারার দুটি শাখ – ১. ফিলিস্তিনের বনী ইসরাইল ও ২. আরব উপদ্বীপের বনী ইসমাইল। আরব উপদ্বীপের বনী ইসমাইল বংশধারার কুরাইশ গোত্রেই সর্বশেষ রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন।

কুরআনুল কারীমে হযরত ইবরাহীম (আ.) এর নাম দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হিসেবে মোট ৬৯টি জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. হযরত নূহ (আ.)
হযরত নূহ (আ.) প্রথম রাসূল যিনি তার জাতির কাছে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৯৫০ বছরের নবুওয়াতি জীবনে মাত্র ৮০ জন লোক তার রিসালাতের প্রতি ঈমান আনে। তার সময়েই আল্লাহ পৃথিবীতে প্রলয়ঙ্করী মহাপ্লাবনের সৃষ্টি করেন, যাতে সকল অবিশ্বাসী নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এই মহাপ্লাবন থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর নির্দেশে নূহ (আ.) একটি নৌকা তৈরি করেন, যাতে সকল ঈমানদারেরা আশ্রয় গ্রহণ করে প্লাবনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করেন।

কুরআনুল কারীমে মোট ৪৩ বার হযরত নূহ (আ.) এর নাম উল্লেখ করা হয়।

৪. হযরত লুত (আ.)
হযরত লুত (আ.) হযরত ইবরাহীম (আ.) এর আপন ভ্রাতুষ্পুত্র। হযরত ইবরাহীম (আ.) এর সাথে তিনিও নিজ দেশ থেকে হিযরত করে চলে আসেন। তাকে বর্তমান জর্দানের মৃত সাগরের (Dead Sea) নিকটে অবস্থিত লোকালয়ের মানুষের কাছে নবী হিসেবে পাঠানো হয়। এই সকল লোকালয়ের মানুষ তার নবুওয়াতের প্রতি অবিশ্বাস করলে এবং নিজেদেরকে পাপাচারেই অব্যাহতভাবে মগ্ন রাখলে আল্লাহ তাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বৃষ্টি বর্ষণ করে তাদের ধ্বংস করে দেন। পাশাপাশি তাদের বসবাসের স্থানটিকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে তার উপর জলাশয় সৃষ্টি করেন, যা আজকের মৃত সাগরের অংশ।

হযরত লুত (আ.) এর নাম কুরআনুল কারীমের মোট ২৭টি জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. হযরত ইউসুফ (আ.)
হযরত ইবরাহীম (আ.) প্রপৌত্র হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন হযরত ইয়াকুব (আ.) এর পুত্র। শৈশবে ভাইদের হিংসায় তিনি ঘটনাচক্রে পিতার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দাস হিসেবে মিসরে যেতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ভাগ্যের বিভিন্ন পরিক্রমায় মিসরের মূল শাসক হিসেবে তিনি নিজেকে অধিষ্ঠিত করেন। তিনিই তার পিতা ও ভাইদের মিসরে নিয়ে আসেন। বনী ইসরাইল বংশধারা তার মাধ্যমেই মিসরে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

কুরআনুল কারীমে ২৭ জায়গায় হযরত ইউসুফ (আ.) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

৬. হযরত ঈসা (আ.)
বনী ইসরাইলের বংশধারায় আল্লাহর নির্দেশে কুমারী মাতা হযরত মরিয়ম (আ.) এর গর্ভে হযরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.) আগমনের ঠিক পূর্বে আগমনকারী হযরত ঈসা (আ.) এর উপর আল্লাহ আসমানী কিতাব ইনজিল নাযিল করেন। তার জন্মের অলৌকিকতার জন্য তার অনুসারী হিসেবে দাবি করা খ্রিস্টান সম্প্রদায় তাকে আল্লাহর পুত্র হিসেবে সম্বোধন করেন।

তার জন্মের মতই অলৌকিকভাবে আল্লাহ তাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নেন। পরবর্তীতে কিয়ামতের আগে দাজ্জালের সাথে সংঘর্ষের সময় তিনি পৃথিবীতে আবার আগমন করবেন এবং স্বাভাবিক জীবন অতিবাহিত করার পর ইন্তেকাল করবেন।

কুরআনুল কারীমে মোট ২৫বার হযরত ঈসা (আ.) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

৭. হযরত আদম (আ.)
প্রথম মানুষ হযরত আদম (আ.) ছিলেন একইসাথে আল্লাহর প্রেরিত প্রথম নবী। তিনি তার সন্তানদেরকে আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার শিক্ষা প্রদান করেন।

তার নাম কুরআনে মোট ২৫ বার উল্লেখ করা হয়েছে।

৮. হযরত হারুন (আ.)
হযরত হারুন (আ.) ছিলেন নবী হযরত মুসা (আ.) এর আপন ভাই। মুসা (আ.) এর সাথে সাথে মুসা (আ.) এর প্রার্থনা অনুসারে আল্লাহ তাকেও নবুওয়াত প্রদান করেন।

কুরআনে মোট ২০ বার তার নাম উল্লেখ করা হয়।

৯. হযরত সুলাইমান (আ.)
বনী ইসরাইল বংশধারায় হযরত সুলাইমান (আ.) ছিলেন একইসাথে একজন নবী এবং শাসক। হযরত দাউদ (আ.) এর ইন্তেকালের পর তার পুত্র হযরত সুলাইমান (আ.) ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন এবং দাউদ (আ.) এর রেখে যাওয়া সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটান। শুধু মানুষ নয়, জ্বীন, পশু-পাখি, সমুদ্রের মাছসহ যাবতীয় সৃষ্টির উপর আল্লাহর হুকুমে তিনি ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন। পাশাপাশি আল্লাহ তাকে এই বিশাল সৃষ্টি জগতের ভাষারও শিক্ষা দিয়েছিলেন।

মোট ১৭ বার কুরআনুল কারীমে হযরত সুলাইমান (আ.) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

১০. হযরত ইসহাক (আ.)
হযরত ইবরাহীম (আ.) এর কনিষ্ঠ পুত্র হযরত ইসহাক (আ.) পিতার কর্মস্থল ফিলিস্তিনেই অবস্থান করেছিলেন। তিনি ছিলেন নবী হযরত ইয়াকুব (আ.) এর পিতা এবং হযরত ইউসুফ (আ.) এর পিতামহ।

কুরআনের ১৭টি স্থানে তার নামের উল্লেখ রয়েছে।

১১. হযরত দাউদ (আ.)
বনী ইসরাইলের বংশধারায় হযরত দাউদ (আ.) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি একইসাথে নবুওয়াত ও শাসনক্ষমতার অধিকারী হন। তার পুত্র হযরত সুলাইমান (আ.) পরবর্তীতে তার স্থাপিত সাম্রাজ্যকে বর্ধিত করেন। আসমানী কিতাব যাবুর আল্লাহ তার উপর নাযিল করেন।

হযরত দাউদ (আ.) এর নাম কুরআনের মোট ১৬টি স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে।

১২. হযরত ইয়াকুব (আ.)
হযরত ইসহাক (আ.) এর পুত্র ও হযরত ইবরাহীম (আ.) এর পৌত্র হযরত ইয়াকুব (আ.)। তার পুত্র হযরত ইউসুফ (আ.)কে নিয়ে তার অন্য পুত্রেরা ষড়যন্ত্র করে কূপে নিক্ষেপ করে। এরপর এক বণিকদল পেয়ে মিসরের বাজারে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে হযরত ইউসুফ (আ.) মিসরের শাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত হলে হযরত ইয়াকুব (আ.) ও তার পরিবারকে মিসরে নিয়ে আসেন।

মোট ১৬ বার কুরআনুল কারীমে হযরত ইয়াকুব (আ.) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

১৩. হযরত ইসমাইল (আ.)
হযরত ইবরাহীম (আ.) এর জ্যৈষ্ঠপুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) কে শৈশবেই আল্লাহর নির্দেশে ইবরাহীম (আ.) মক্কায় রেখে আসেন। পরবর্তীতে মক্কায় হযরত ইসমাইল (আ.) এবং তার পরিবারকে কেন্দ্র করে লোক বসতি গড়ে উঠে। হযরত ইবরাহীম (আ.) হযরত ইসমাইল (আ.)কে সঙ্গে নিয়েই মক্কার পবিত্র কাবা ঘর নির্মান করেন।

কুরআনে মোট ১২ বার হযরত ইসমাইল (আ.) এর নাম উল্লেখ করা হয়।

১৪. হযরত শুয়াইব (আ.)
উত্তর আরবের মাদইয়ান নামক অঞ্চলে হযরত শুয়াইব (আ.) আগমন করেন। হযরত ইবরাহীম (আ.) এর পরবর্তী যুগে আসা এই নবী তার জাতিকে পাপাচার থেকে বিরত হয়ে আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহবান করেছিলেন। কিন্তু তারা তার আহবান না শোনার কারনে আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দেন।

কুরআনে মোট ১১বার তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

১৫. হযরত সালেহ (আ.)
আরব উপদ্বীপের শক্তিশালী আদ জাতির পর হেজায অঞ্চল তথা পশ্চিম আরবে বসবাসকারী সামুদ জাতির প্রতি আল্লাহ হযরত সালেহ (আ.) কে প্রেরণ করেন। এই জাতির লোকেরা পাহাড়কে খোদাই করে বিশালাকারের প্রাসাদ নির্মাণে দক্ষ ছিল। হযরত সালেহ (আ.) এর আহবান না মানার কারনে আল্লাহ তাদেরকে ভূমিকম্প দ্বারা ধ্বংস করে দেন।

কুরআনের মোট ৯টি জায়গায় হযরত সালেহ (আ.) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

১৬. হযরত যাকারিয়া (আ.)
বনী ইসরাইল বংশের হযরত যাকারিয়া (আ.) ছিলেন তার সমকালীন বাইতুল মুকাদ্দাসের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক। তার স্ত্রী এবং হযরত মারইয়াম (আ.) এর মা ছিলেন আপন বোন। অন্যদিকে তার পুত্র ছিলেন নবী হযরত ইয়াহইয়া (আ.)।

কুরআনে মোট ৭ বার তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

১৭. হযরত হুদ (আ.)
হযরত নূহ (আ.) এর পরবর্তীতে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চল তথা ইয়েমেন-ওমানে বসবাসকারী শক্তিশালী আদ জাতির কাছে আল্লাহ হযরত হুদ (আ.)কে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন। কুরআনে এই জাতিকে ‘স্তম্ভধারী’ আদ জাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হয়, তারা বিশালাকার স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে অভ্যস্ত ছিল।  

হযরত হুদ (আ.) তাদেরকে পাপাচার থেকে বিরত হয়ে এক আল্লাহর অনুগত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু তারা এই আহবান অস্বীকার করে। ফলে আল্লাহ তাদের উপর প্রলয়ঙ্করী এক ঘুর্ণিঝড় প্রেরণ করে তাদের ধ্বংস করেন।

কুরআনের মোট ৭টি স্থানে হযরত হুদ (আ.) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

১৮. হযরত ইয়াহইয়া (আ.)
বনী ইসরাইলের বংশধারায় হযরত ইয়াহইয়া (আ.) ছিলেন নবী হযরত যাকারিয়া (আ.) এর পুত্র। হযরত ঈসা (আ.) এবং তিনি ছিলেন সমসাময়িক।

কুরআনে মোট ৫ বার তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯. হযরত মুহাম্মদ (আ.)
সর্বশেষ রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরবে অবস্থানকারী হযরত ইবরাহীম (আ.) এর বংশধর বনী ইসমাইল শাখার কুরাইশ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। অন্যান্য নবী-রাসূলের সাথে তার পার্থক্য হল, অন্য নবী-রাসূলরা যেখানে নির্দিষ্ট একটি স্থানে ও একটি জাতির কাছে প্রেরিত হতেন, সেখানে মুহাম্মদ (সা.) তার পরবর্তী সকল সময়ের সারাবিশ্বের সকল জাতির সকল মানুষের জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তার পরে অন্য কোন নবীর আগমন না হওয়ার কারণে তার নবুওয়াতের সীমাকে এরূপ বর্ধিত করা হয়।

কুরআনুল কারীমের মোট চারটি স্থানে তথা সূরা আলে ইমরানের ১৪৪ নং আয়াতে, সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতে, সূরা মুহাম্মদের ২ নং আয়াতে এবং সূরা ফাতিহের ২৯ নং আয়াতে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

২০. হযরত ইউনুস (আ.)
উত্তর ইরাকের নিনেভা শহরে বনী ইসরাইল থেকে হযরত ইউনুস (আ.) নবী হিসেবে আসেন। কুরআনে তাকে মাছওয়ালা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা, তিনি আল্লাহর সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করেই তার নবুওয়াতের কার্যক্ষেত্র থেকে হিযরত করেছিলেন। ফলে সফরের সময় ঘটনাচক্রে তিনি নদীতে নিক্ষিপ্ত হয়ে বিশালাকার মাছের খাবারে পরিণত হন। আল্লাহর নির্দেশে তিনি মাছের পেটে জীবিত থাকেন এবং সেখানে তিনি আল্লাহর কাছে তওবা করেন। আল্লাহ তার তওবা কবুল করে তাকে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেন। তিনি পুনরায় তার নবুওয়াতের কার্যক্ষেত্রে গিয়ে আল্লাহর বাণী প্রচার করতে থাকেন।

কুরআনের মোট চারটি স্থানে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

২১. হযরত আইয়ুব (আ.)
কুরআনে হযরত আইয়ুব (আ.) এর কথা উল্লেখ করে তার ধৈর্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। কিন্তু তার অন্যকোন পরিচয় বা বাসস্থানের কথা কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি।

তিনিও বনী ইসরাইলের একজন নবী। কুরআনে মোট ৪টি জায়গায় তার নাম উল্লেখ করা  হয়েছে।

২২. হযরত  ইদরিস (আ.)
হযরত আদম (আ.) এর পরবর্তী এবং হযরত নূহ (আ.) এর পূর্ববর্তী একজন নবী হযরত ইদরিস (আ.) । কুরআনে মোট ২ বার–সূরা মরিয়মের ৫৬ নং আয়াত এবং সূরা আম্বিয়ার ৮৫ নং আয়াতে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

২৩. হযরত আল-ইয়াসা (আ.)
বনী ইসরাইলের হযরত আল-ইয়াসা (আ.) এর নাম কুরআনে মোট দুইবার উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা আনআমের ৮৬ নং আয়াত এবং সূরা সাদের ৪৮ নং আয়াতে।

২৪. হযরত ইলিয়াস (আ.)
বনী ইসরাইলের হযরত ইলিয়াস (আ.) এর নাম কুরআনের সূরা আস-সাফফাতের ১৩০ নং আয়াত এবং সূরা আনআমের ৮৫ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৫. হযরত যুলকিফল (আ.)
বনী ইসরাইলের অপর একজন নবী হযরত যুলকিফল (আ.) এর নাম কুরআনের সূরা আম্বিয়ার ৮৫ নং আয়াত এবং সূরা সাদের ৪৮ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোট এই ২৫ জন নবী-রাসূলের নাম কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে। এই সকল নবীসহ নাম না জানা অন্যান্য সকল নবী-রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা আমাদের ঈমানের অংশ।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক পৃথিবীতে আল্লাহর প্রেরিত নাম জানা ও না-জানা সকল নবী-রাসূলদের উপর।

এমএফ/

 

নবী ও সাহাবা-চরিত: আরও পড়ুন

আরও