নবীর মুজিযা: মশকের পানি কমল না একটুও

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬

নবীর মুজিযা: মশকের পানি কমল না একটুও

মুহাম্মাদ ফজলুল বারী ১০:২২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

নবীর মুজিযা: মশকের পানি কমল না একটুও

একবার নবীজী (সা.) ও তাঁর সাহাবীগণ সফরে ছিলেন। মরুভূমির সফর। সকলেরই প্রচণ্ড পানির পিপাসা লেগেছে। পানিও শেষ! কী করা যায়? তারা নবীজীকে জানালেন। নবীজী (সা.) আলী (রা.) ও আরেকজন সাহাবীকে পাঠালেন পানির খোঁজে। কোথাও পানি নেই।

ইতোমধ্যে দেখলেন, এক বৃদ্ধা দুই মশক পানি নিয়ে উটে চড়ে যাচ্ছেন। এইতো পানির সন্ধান পাওয়া গেছে! এই বৃদ্ধার কাছে জিজ্ঞেস করলেই পাওয়া যাবে পানির সন্ধান। কিন্তু, হতাশ হলেন, যখন বৃদ্ধা বললেন, এখান থেকে পানির দূরত্ব এক দিনের রাস্তা। গতকাল এ সময় আমি পানি নিয়ে রওনা হয়েছি।

কী করা যায়! অগত্যা তারা বৃদ্ধাকে বললেন, বৃদ্ধা মা! আপনি যদি একটু কষ্ট করে আমাদের সাথে আসতেন। তারা বৃদ্ধাকে নবীজীর কাছে নিয়ে এলেন। নবীজী বৃদ্ধার মশকের মুখ খুললেন। সেখান থেকে একটি পাত্রে কিছু পানি ঢালা হলো।

সেখান থেকে নবীজী মুখে একটু পানি নিলেন। সেই পানি আবার মশকের মধ্যে ঢেলে দেয়া হলো। তারপর মশকের উপরের মুখ বেঁধে দেয়া হলো এবং নিচের মুখ খুলে দেয়া হলো। কলের মতো সেখান থেকে পানি বের হতে লাগলো।

তারপর সবাইকে বলা হলো, এখান থেকে পানি নাও; নিজেরা পান কর, তোমাদের বাহনজন্তুকে খাওয়াও। সকলে পানি নিল। দুই মশকে কতটুকু আর পানি থাকে! কিন্তু, ওই দুই মশক থেকে কাফেলার সবাই তাদের প্রয়োজন মতো পানি নিল। যেভাবে আমরা কল থেকে পানি নেই। এমনকি সেই পানি থেকে কেউ কেউ গোসলের পানিও নিল!

বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব কাণ্ড দেখছিলেন আর অবাক হচ্ছিলেন। তার আর বিস্ময়ের সীমা রইল না। সামান্য দুটি মশকে আর কতটুকু পানি থাকতে পারে! কিন্তু, তার চোখের সামনে এ দুই মশক থেকে শত শত মশক পানি নেয়া হলো। কি আশ্চর্য কাণ্ড!

সবাই যখন নিজ নিজ প্রয়োজন মতো পানি সংগ্রহ করল, বৃদ্ধার মশক তাকে ফিরিয়ে দেয়া হলো। বৃদ্ধা দেখলেন, আমার মশক থেকে এত পানি নেয়ার পরও এর পানি এতটুকুও কমেনি। বরং আগের চেয়ে আরও পূর্ণ দেখাচ্ছে।

নবীজী তার মশক ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন—

تَعْلَمِينَ، مَا رَزِئْنَا مِنْ مَائِكِ شَيْئًا، وَلَكِنّ اللهَ هُوَ الّذِي أَسْقَانَا.

‘আপনিতো দেখছেন, আপনার পানি একটুও কমেনি; আসলে (আপনার পানির মাধ্যমে) আল্লাহ আমাদের পানি পান করালেন।’

এরপর নবীজী সাহাবীদের বললেন, একটি কাপড় বিছাও এবং তাঁর জন্য যে যা পারও হাদিয়া দাও। কেউ দিল খেজুর, কেউ আটা, কেউ যব। অনেক খাবার জমা হলো বৃদ্ধার জন্য। এগুলো বৃদ্ধাকে হাদিয়া স্বরূপ দেয়া হলো। বৃদ্ধাতো মহাখুশি। আমার পানিও একটু কমল না আবার পেলাম এতগুলো খাবার। মনের সুখে বৃদ্ধা রওনা হলেন বাড়ির দিকে।

বৃদ্ধা যখন বাড়িতে পৌঁছলেন ততক্ষণে বেলা পড়ে গেছে। সবাই তার দেরি হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। বৃদ্ধা তখন খুলে বললেন সব। মুহাম্মাদ নামের যে লোকটা নিজ বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করেছে, দু’জন লোক আমাকে তার কাছে নিয়ে গেল। তারপর ঘটল আজব এ ঘটনা। সকলে তো শুনে তাজ্জব!

বৃদ্ধা বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সব দেখে মনে হয়েছে, সে হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যাদুকর অথবা সত্যই সে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।

এরপর থেকে মুসলিমরা ওই বৃদ্ধার এলাকার আশপাশের এলাকায় অভিযান চালাতো। কিন্তু, বৃদ্ধার এলাকায় আক্রমণ করত না। এ দেখে বৃদ্ধা নিজ কওমকে বলল, আমার মনে হচ্ছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই তোমাদের এড়িয়ে যাচ্ছে; তোমাদের উপর আক্রমণ করছে না। তোমরা ভেবে দেখ, ইসলাম গ্রহণ করবে কি না। তার কথায় সবাই রাজি হয়ে গেল এবং ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিল।

(দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৪৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৮২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৯৮৯৮)

এমএফ/আইএম

আরও পড়ুন...

আবু হুরায়রা (রা.) এর অলৌকিক থলে
ভিখারি শাহজাদা
সবুজ পোষাকের বীরাঙ্গনা
জেবুন্নেসা বিনতে আলমগীর
যে খলিফার স্ত্রীর দানের নিদর্শন দেখে আপ্লুত হন হাজিরা