নবীজির (সা.) তাকওয়া

ঢাকা, সোমবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৯ | ৮ মাঘ ১৪২৫

নবীজির (সা.) তাকওয়া

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৫২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৮

নবীজির (সা.) তাকওয়া

নবীজি (সা.) সর্বাপেক্ষা তাকওয়া অবলম্বনকারী ছিলেন। গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আল্লাহ সম্পর্কে আমি তোমাদের চেয়ে বেশি অবগত এবং আল্লাহকে আমি তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি।” (বুখারী, মুসলিম)

স্বয়ং সাহাবায়ে কেরাম একথার সমর্থনে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) বলেন, আমরা গণনা করে দেখতাম রাসূল (সা.) এক মজলিসে একশত বার নিম্নের দুআটি পড়তেন:

(رب اغفر لي،وتب علي، إنك انت التواب الرحيم)

“হে আমার রব, তুমি আমাকে ক্ষমা কর, এবং আমার তাওবা কবুল কর, নিশ্চয় তুমি তাওবা কবুলকারী, দয়াশীল।” (তিরমিযি, ইবনে মাযাহ)

নবী আকরাম (সা.) স্বীয় রবের সর্বাধিক অনুগত ছিলেন। তিনি মেনে চলতেন তার আদেশ-নিষেধ। আমলে সালেহ বেশি করতেন। আয়েশা (রা.) নবী আকরাম (সা.)-এর অবস্থার বিবরণ দিয়ে বলেন,

“নবী আকরাম (সা.)-এর আমল ছিল ধারাবাহিক। তিনি যা পারতেন তোমাদের কেউ কি তা পারবে ? তিনি সিয়াম পালন করতেন এমনকি আমরা বলতাম তিনি এর ধারাবাহিকতা আর পরিত্যাগ করবেন না। তিনি সিয়াম পালন বাদ দিতেন এমনকি আমরা বলতাম তিনি আর সিয়াম পালন করবেন না। তুমি তাঁকে রাত্রে সালাতরত অবস্থায় দেখতে না চাইলেও সালাতরত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পাবে। তুমি তাঁকে রাত্রে ঘুমন্তাবস্থায় দেখতে না চাইলেও ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পাবে।” (তিরমিযি : ৭০০)

আউফ বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

“এক রজনিতে রাসূল (সা.)-এর সাথে ছিলাম, তিনি মিসওয়াক করলেন, অতঃপর ওজু করলেন, এরপর দাঁড়িয়ে সালাত আরম্ভ করলেন, আমি ও তাঁর সাথে দাঁড়ালাম, তিনি সূরা বাকারা পড়া শুরু করলেন, দয়া সংবলিত আয়াত পড়া মাত্র থেমে প্রার্থনা করলেন। শাস্তির অর্থ সংবলিত আয়াত পড়া মাত্র থেমে মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইলেন। অতঃপর দাঁড়ানোর পরিমাণ রুকুতে অবস্থান করলেন, এবং পড়তে লাগলেন : “মহা প্রতাপশালী, সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী, রাজত্ব ও মহত্ত্বের অধিকারী সত্তার পবিত্রতা ও মহিমা ও ঘোষণা করছি।” অতঃপর সেজদা করলেন, এবং অনুরূপ পড়লেন, এরপর আলে-ইমরান পড়লেন। অতঃপর একেকটি সূরা পড়তেন থেমে। (নাসায়ী : ১১২০)

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

“রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন সালাত আদায় করতেন, তিনি দাঁড়িয়ে আদায় করতেন এমনকি তাঁর উভয় পা ফেটে যেত, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কেন আপনি এমন করছেন অথচ আপনার পূর্বের ও পশ্চাতের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে? জবাবে তিনি বললেন, হে আয়েশা আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হব না ?” (মুসনাদে আহমাদ : ২৩৭০)

সুবহানাল্লাহ! তিনি আল্লাহর রাসুল ছিলেন। তার পূর্ব পশ্চাতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরেও তিনি কেমন তাকওয়া অবলম্বন করতেন! তিনি কেমন ইবাদত গুজার ছিলেন! রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে নবী-জীবনের পরিপূর্ণ অনুসরণের তাওফিক দান করুন। আমীন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
নবী-জীবনে সত্যবাদিতা : কাফেরদের সাক্ষ্য ও আমাদের শিক্ষা
রসিকতায়ও আদর্শ হোক নবীজি (সা.)
প্রিয় পদরেখা | সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম