প্রিয় পদরেখা | সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রিয় পদরেখা | সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

মাজিদা রিফা ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০১৮

প্রিয় পদরেখা | সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

মরুর তপ্ত প্রকৃতি মৃত্যুর পয়গাম নিয়ে বালুর দূর্গে যেন বিলাপ করে ফিরছে। এমনকি লু হাওয়াও নেই। রোদের তীব্রতায় ছটফট করছে জমিন। সর্বত্র দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। বাঁচার আকুতি নিয়ে ধুঁকতে থাকা প্রাণগুলো স্রষ্টার পবিত্র ঘরের কাছে সমবেত হলো।

মহাশক্তিশালী স্রষ্টার ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তারা, গরমে ছটফট করছে, অথচ স্রষ্টার কথা কারো মনে পড়লো না। তাদের কেউ বললো— লাত ও উযযার শরণাপন্ন হওয়া যাক। আবার কেউ বললো—  তৃতীয় প্রতিমা মানাতের কাছে প্রার্থনা করা হোক।

লাত ও উযযা প্রাণহীন মূর্তি। মানাতও তাই। লাত তায়েফের মূর্তি। উযযাকে সিরিয়ার নাখলা উপত্যকা থেকে মক্কায় আনা হয়েছিলো। আর লোহীত সাগরের তীরে কুদাইদের কাছে পাহাড়ি উপত্যকা মুশাল্লালে স্থাপিত ছিলো মানাত।

তাদের কথা শুনে একজন প্রবীণ, সুশ্রী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি বললেন— এমন সর্বনাশা কথা বলছো কেন? তোমাদের মধ্যে নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশধর বর্তমান রয়েছেন।

লোকেরা জিজ্ঞেস করলো— আপনি কি আবু তালেবের কথা বলছেন?

তিনি বললেন— হাঁ!

জীবন অতিষ্ঠ। প্রাণ ওষ্ঠাগত। বাঁচার জন্য সবচেয়ে উত্তম উপায় অবলম্বন করা চাই। সকলে মিলে রওয়ানা হলো আবু তালেবের ঘরের উদ্দেশ্যে। দরজায় কড়া নাড়া হলো। সুদর্শন এক ব্যক্তি বেরিয়ে এলেন। হলুদ রঙের চকচকে একটি লুঙ্গি পরে আছেন তিনি। লোকজন তাকে বললো— আবু তালেব, সর্বত্র দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে! মানুষজন দুর্গত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির দোয়া করার জন্য আমাদের সাথে চলুন।

আবু তালেব বললেন—  সূর্য ঢলে পড়ার এবং বাতাস চলাচলের জন্য অপেক্ষা করুন।

সূর্য একসময় ঢলে পড়লো। আবু তালেব ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। তার সঙ্গে আছে অতি রূপবান একটি বালক। বালকের মুখখানা দীপ্তিমান ও উজ্জ্বল। অন্ধকারে পূর্ণিমা চাঁদের মতো মনে হচ্ছে তাঁকে। তাঁর চারপাশে ছোট ছোট আরো বালক-বালিকা ছুটোছুটি করছিলো। আবু তালেব বালককে ধরে তাঁর পিঠ স্রষ্টার ঘরের দেয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে দিলেন। বালক আবু তালেবের আঙ্গুল ধরলেন।

আকাশে তখন একখণ্ড মেঘও ছিলো না। হঠাৎ এদিক-ওদিক থেকে মেঘ এসে জড়ো হতে শুরু করলো। দেখতে দেখতে পুরো আকাশ মেঘে ছেয়ে গেল। শুরু হলো রহমত বর্ষণ! পানির স্রোত বয়ে গেল। নগর ও মরুভূমি সবুজ-সতেজ হয়ে গেল। জনজীবনে ফিরে এলো স্বস্তি।

মানুষজন অত্যন্ত আনন্দিত হলো। আবু তালেবও আনন্দিত হলেন। কিন্তু তিনি জানতেন না, অদূর ভবিষ্যতে এই আশ্চর্য বালকের ছড়ানো রহমতে পথভ্রষ্ট এসকল মানুষ এভাবে আনন্দিত হবে না। ছোট্ট বালকটির কারণে স্বস্তি ফিরে এলো যে সব মানুষের জীবনে, অদূর ভবিষ্যতে তাদেরই কেউ কেউ আবু তালেবের মৃত্যুর পর তাঁকে হত্যা করার জন্য হন্য হয়ে খুঁজবে।

আনন্দিত আবু তালিব পবিত্র বালক সম্পর্কে কবিতা লিখতে বসলেন। পঙিগুলো মন মাতানো। তিনি লিখলেন—

           'তিনি এমন পবিত্র সত্তা যে, মেঘমালা তাঁর আলোয় উজ্জ্বল মুখের বরকতে পানি প্রার্থনা করে। তিনি এতিমদের সাহায্যকারী ও বিধবা নারীদের সতীত্ব রক্ষাকারী।

হাশেম পরিবারের ধ্বংসপ্রাপ্ত মানুষরা তাঁকে ঘিরে থাকে এবং তারা তাঁর কাছ থেকে আহরণ করে নেয়ামত ও ফযীলত...'

এমএফ/

 

নবী ও সাহাবা-চরিত: আরও পড়ুন

আরও