বিনয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত মহানবী সা.

ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫

বিনয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত মহানবী সা.

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

বিনয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত মহানবী সা.

বিনয় মানব চরিত্রের অন্যতম প্রশংসিত গুণ। বিনয় মানুষকে সম্মানিত করে। বিনয়ী ব্যক্তিকে মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। যে যত বেশি বিনয়ী ও নম্র হয়, সে তত বেশি উন্নত হয় ও উঁচু মর্যাদায় সমাসীন হয়। এ পৃথিবীতে যারা স্মরণীয় হয়ে মানুষের হৃদয়কোঠায় আসন নিয়ে আছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই বিনয়ী ও নম্র ছিলেন। প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. ছিলেন বিনয় ও নম্রতার অনন্য দৃষ্টান্ত।

আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা পবিত্র কুরানুল কারিমে ইরশাদ করেন, “আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী। (সুরা: কালাম, আয়াত-৪)।

সাধারণভাবে প্রতিটি মুসলিম সবার সাথেই বিনয়ী ও বিনম্র আচরণ করবে। তন্মধ্যে হাদিসে যাদের কথা বিশেষভাবে পাওয়া যায়, তাদের আলোচনা নিম্নে সঙ্খিপ্তাকারে তুলে ধরছি-

পরিবারের প্রতি নম্রতা: আয়েশা রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. তাঁর হাতে কখনোই কাউকে আঘাত করেননি, কোনো নারীকেও না, খাদেমকেও না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ব্যতীত। আর যে তার অনিষ্ট করেছে, তার থেকে প্রতিশোধও নেননি। তবে আল্লাহর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, এমন বিষয়ে তিনি তার প্রতিশোধ নিয়েছেন। (মুসলিম)

শিশুদের প্রতি নম্রতা: আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এর কাছে শিশুদের আনা হতো। তিনি তাদের জন্য বরকত ও কল্যাণের দোয়া করতেন এবং তাহনিক (মিষ্টি জাতীয় কিছু চিবিয়ে মুখে দিতেন) করতেন। একদিন একটি শিশুকে আনা হলো। তিনি তাকে কোলে তুলে নিলেন। শিশুটি তার কোলে পেশাব করে দিল। পরে তিনি পানি চেয়ে নিলেন এবং পেশাবের ওপর পানির ছিটা দিলেন, আর তা ধুলেন না। (মুসলিম)

ইবাদতের মাঝে বিনয়: ইবাদত কবুলের অন্যতম পূর্বশর্ত বিনয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, “আর তোমরা আল্লাহর সম্মুখে একান্ত বিনম্রভাবে দাঁড়াও। (সূরা-বাকারাহ, আয়াত-২৩৮)।

রাসুলুল্লাহ সা. তাঁর নামাজে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি আনুগত্যের অনন্য দৃষ্টান্ত দেখিয়ে গেছেন।

সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধে নম্রতা: আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, একবার এক বেদু্ঈন মসজিদে পেশাব করে দিল। সাহাবাগন তাকে এ থেকে নিবৃত করতে এগিয়ে গেলেন। রাসুলুল্লাহ সা. বললেন, তাকে (পেশাবক করতে) বাধা দিও না। এর পর তিনি এক বালতি পানি আনালেন এবং পেশাবের উপর ঢেলে দিলেন। (বুখারি)

খাদেমের সাথে নম্রতা: হযরত আনাস রা. বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! আমি নয় বছর রাসূলুল্লাহ সা.-এর খেদমতে নিয়োজিত ছিলাম। কিন্তু আমার জানা নেই যে, কোনো কাজ আমি করেছি, অথচ তিনি সে ব্যাপারে বলেছেন, এরূপ কেন করলে? কিংবা কোন কাজ করিনি, সে ব্যাপারে বলেছেন, কেন অমুক কাজটি করলে না?’ (মুসলিম)

তওবাকারী পাপীর সাথে নম্রতা: হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে  বর্ণিত, ‘একবার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা.-এর খিদমতে হাজির হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি! তিনি বললেন, ওয়াইহাকা (আফসোস তোমার জন্য)। এর পর সে বলল, আমি রমজানের মধ্যেই দিনের বেলায় আমার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করে ফেলেছি। তিনি বললেন, একটা গোলাম আজাদ করে দাও। সে বলল, আমার কাছে তা নেই। তিনি বললেন, তাহলে তুমি এক নাগাড়ে দুই মাস সিয়াম পালন করো। সে বলল, আমি এতেও অপারগ। তিনি বললেন, তবে তুমি৬০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াও। লোকটি বলল, আমি এটাতেও অপারগ। নবী করীম সা.-এর নিকট এক ঝুড়ি খেজুর এলো। তখন তিনি বললেন, এটা নিয়ে যাও এবং ছাদাকাহ করে দাও। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ সা.! তা কি আমার পরিবার ছাড়া অন্যকে দিব? সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! মদিনার উভয় প্রান্তের মধ্যস্থলে আমার চেয়ে অভাবী আর কেউ নেই। তখন নবী করীম (সা.) এমনভাবে হাসলেন যে, তার পার্শ্বের দাঁত পর্যন্ত প্রকাশ পেল। তিনি বললেন, তবে তুমিই এটা নিয়ে যাও।’ (বুখারি)

এফএস/